আইনজীবীর স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি করে ভুয়া নোটারি তৈরি করে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা সেই মামলাবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ব্যক্তি। মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সৈয়দ রফিকুল ইসলাম দিলু। মামলায় আসামী করা হয়েছে ভুয়া মামলাবাজ সিন্ডিকেটের সদস্য এস এম জাকির হোসেন, আব্দুল মালেক খাঁন, শামীম আহম্মেদ, নুরুল ইসলাম আকন, সাইফুল ইসলাম মাসুদ ও শাহাদত খাঁ। বিচারক শান্ত ইসলাম মল্লিক মামলাটি গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর এস এম জাকির হোসেন আইনজীবী তাজুল ইসলামের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে রোটারির মাধ্যমে আদালতে সৈয়দ রফিকুল ইসলাম দিলুর বিরুদ্ধে ৯ লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় রফিকুল ইসলামকে মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটের একজন মূলহোতা হিসাবে উল্লেখ করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে জাকির হোসেন একটি ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তৈরি করে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দেয়। থানা পুলিশ সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বলে রফিকুল ইসলামকে মনিপুরী পাড়ার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। আট দিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকার পর রফিকুল ইসলাম জামিনে মুক্তি পান। এ সংক্রান্ত দৈনিক ইত্তেফাকে ‘মামলাবাজ সিন্ডিকেটে কারাবন্দি জীবন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর আদালত রিপোর্টটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়। সিআইডি বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পায় যে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার সব নথিই জাল জালিয়াতি করে তৈরি করা হয়েছে। এমনকি এই মামলার বাদীর ঠিকানাও ভুয়া। এর প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে আদালত প্রতিটি মামলা দায়ের করার সময় বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্র সন্নিবেশিত করার নির্দেশ দেয়।
ঢাকার নিম্ন আদালতে দায়ের করা মামলাটি নিয়ে ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম উচ্চ আদালতে কোয়াশের আবেদন করেন। উচ্চ আদালত সিআর মামলাটি (মামলা নং ৪৪০/২০২০) কোয়াশ(বাতিল) করে দিয়ে মামলা থেকে সৈয়দ রফিকুল ইসলাম দিলুকে খালাস দেন। উচ্চ আদালত ওই ভুয়া মামলাবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেন।
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট চৌধুরী মো. গালিব রাগীব ও অ্যাডভোকেট কে এম মাহ্ফুজুর রহমান মিশু বলেন, মামলার কাগজপত্রাদি ও আনুসঙ্গিক বিষয়বস্তুর আলোকে মনে হয়েছে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে জাল জালিয়াতির আশ্রয় প্রশ্রয় নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিআইডিকে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।