হে মানব!
দিতে চাই তোমার বর্ণনা
কোথা থেকে করব শুরু
চলবে একের পর এক
সযতেœ, গুছিয়ে সাজানোর পরিকল্পনা
কিসে তুমি খুশী হও?
শূন্যতা থেকে পূর্ণতা
নিঃস্ব থেকে কিভাবে হলে
অধিকারী সর্বস্বের
আমি জানি তোমার আদি কথা
তখনও তুমি যুক্ত হওনি, ছিলে বিভক্ত
দুটি চলমান প্রাণীর দেহে
পাক খেতে অবিরত।
ছিলে নির্বাক
একদা তারা জীবনকে জানতে চাইলো
মিলনের আনন্দে বিভোর হল
আর সে সুবাদে তুমি অস্তিত্বমান
তিলে তিলে বেড়ে উঠলে।
জোগালে তোমার মা
বল, বীর্য্য, জীবনের উৎস
সাজাল তোমার কলেবরে অনুপরামাণু সম
তুমি যা, তার সবই ঋণের বোঝা
ঋণ মায়ের কাছে, রয়েছে বাবার কাছে,
জুড়ে দিল থলি, চলবে তা নিয়ে অলি গলি,
চাই আরো ঋণ, চাই ধন, চাই মান,
পেলেও তা, যা তোমার নিজস্ব ছিল না,
তোমার প্রতিটি স্বত্ত্বা প্রতিবেশী থেকে পাওয়া
নদী, খাল, বিল, বন, জঙ্গল, আবহাওয়া
সবাই করেছে দান অকাতরে
তোমার হৃষ্ট পুষ্ট দেহটি তুলছে গড়ে
যা দিয়ে তুমি চাইছ ভাঙ্গতে তাঁদের
যারা তোমার অস্তিত্বের মূল সার
অনুপরমাণু আগত তাদের থেকে
পুঞ্জিভূত হয়ে আছে তোমার আকারে
হেলে দুলে চলা সে তুমি
ভুলে যেও না, তুমি শূন্য মার্গ, শূন্য থলি
তোমাকে সাজান হয়েছে অনুকম্পার হস্তে
প্রেমের সূত্রে, জ্ঞানের আলোকে, সুদূর-প্রসারী দৃষ্টি কোনে
তুমি তাদের কথা কইবে, গাইবে গুণগান।
হবে তোমার বর্ণনা, স্বার্থক ঘোষনা।
নিত্যদিন যোগান হচ্ছে প্রয়োজনটুকু তোমার
উৎস সজীবতার
যোগানে ত্রুটি হলে তুমি কর হাহাকার
যেমন সাহারার বক্ষে যোগান হল না বারিধারার
তোমার প্রতি ঘটেনিত ব্যাঘাত প্রতিজ্ঞার
যেমন তনুখানী তোমার পরিপাটি
অন্তর খানিও তদ্রুপ করবেন খাঁটি
তুলে দাও তাঁর হাতে, যিনি এ সবে উৎস,
প্রবাহিত যার থেকে তোমার গোটা স্বত্ত্বা
সৃষ্টির সবকিছু রয়েছে যার কাছে ঋণী।
যিনি মহাধনী, মহাজন,
যার কথায় ও কাজে হয়নি কভু খন্ডন
যিনি আদি, অন্ত, সর্বকালীন
যার মাঝে ডুব দিয়ে হবে সাবলীল
তাই তোমার কোন বর্ণনা নেই
যা আছে তার সবটুকু তাঁরই মাহাত্ম্য
যিনি যুগিয়েছেন বিন্দু বিন্দু করে মানব সিন্ধু
নিজেকে প্রকাশের তরে, দাঁড়িয়ে সবার দ্বারে
গড়ে তুলেছেন এক সহভাগীতা
গোটা মানবজাতী অখন্ড সভ্যতা
তাই তোমার বর্ণনা তোমার নয়
তোমাকে যিনি গড়েছেন, বর্ণনার যা কিছু
সবই তাতে হবে লয়।