বৈশ্বিক তথ্য-উপাত্ত অনুসারে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী জীবনে কমপক্ষে একবার হলেও শারীরিকভাবে ইন্টিমেট পার্টনার অথবা নন-পার্টনার এমন কারও কাছ থেকে যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নারী তাদের পুরুষ সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। গত বুধবার ইউএন উইমেন বাংলাদেশের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে।
ইউএন উইমেন বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) একটি লার্নিং শেয়ারিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ প্রকল্পের সফলতা সবার সামনে তুলে ধরা হয়। কানাডা সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর কৌশল নির্ধারণ করা।
প্রিভেনশন প্রোগ্রামিংয়ের কার্যকারিতাকে মাথায় রেখে ইউএন উইমেন ২০১৮ সাল থেকে সিজিবিভি প্রকল্পটি পরিচালনা করে আসছে, যা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার মোকাবিলায় প্রতিরোধের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে। অনুষ্ঠানে প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শ্রবণা দত্ত এই প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন করেন। তিনি এই প্রকল্পের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে এভিডেন্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২২-কে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ, নারী অধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন অ্যাক্টিভিস্ট এবং দ্য রেইপ ল’ রিফর্ম কোয়ালিশনের
চার বছর মেয়াদি অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে এই আইনে সংশোধনী নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। ফলে এখন থেকে আদালতে ধর্ষণের মামলায় ভুক্তভোগীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না ও আদালতে এ-সংক্রান্ত ডিজিটাল প্রমাণ উপস্থাপন করার সুযোগ থাকবে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিবুজ্জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলস। অনুষ্ঠানে অনেকের মধ্যে বক্তব্য দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, ইউএন উইমেন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং প্রমুখ।