বাবা বললেন,
আমি নাকি সুস্থ।
মারও একই কথা
নতুবা ডাক্তার সাব
কেন দেখালেন এ ভাব।
সুস্থতার প্রত্যায়ন পত্র
পেয়েছি প্রচুর, রাখার স্থান নেই
তাই এলো মেলো পড়ে আছে সর্বত্র
সবার একই কথা
সুস্থ যে তাকে হতেই হবে
নতুবা এত অষুধ, পথ্য সেবা যতœ
সবই কি বৃথা যাবে?
যদি সুস্থতার কথা না বলি
তবে তারা কী ভাববে
যারা যুগিয়েছে অনুপান
ন’টি মাস ধরে হাসপাতালে থাকা কালীন
বলতেই যে হবে মোর খোকাটি হয়েছে সমান
আর নেই কোথাও ভাঙ্গা, মচ্কান
পরিয়ে দিন ওকে সুস্থতার ভূূষন
আমি সুস্থÑ
আমাকে খেতে দেয়া হল নানাবিধ দ্রব্য
হজম হল না, শুরু হয়ে গেল দাস্ত
বমিও হয়েছে প্রচুর
মাথাটা ঘুরছে, দৃষ্টি শক্তি রহিম
চলতে পারছি না, পড়ে গেলাম হয়ে চিত।
তবুও মুখে স্বীকার করতে হবে
আমি সুস্থ-
নতুবা বাবা যে হবেন লজ্জিত
শুনিয়েছেন সবারে মোর সুস্থার কথা
ন’টি মাস ধরে পাঞ্জা লড়েছি মৃত্যুর সাথে
সে কী প্রাণান্তকর অবস্থা
কে হারে কে জিতে কিছুই বলার উপর ছিল না
ইনজেকশন, ক্যাপসুল, পট্টি, মলম,
খাওয়ার বড়ি, কোন ইয়াত্তা ছিল না
সবার কথা, একই কথা
এত শত ত ব্যর্থ হতে পারে না
ডাক্তার বাবু শুধালেন, নিয়মিত অষুধ খেয়েছে
যা বলেছি তাা করেছে,
জী আজ্ঞে!
অমনি সুস্থতার সাটিফিকেট দিলেন লিখে
একটিবারও তাকালেন না আমার খাঁচাটির দিকে
হাড় গোড় একে একে গোনা যায় সব কটি
একটুও ভুল হবে না
পেটে কোথায় কী আছে
তাও গোপন থাকে না
উকুন ছারপোকা বাসা বাঁধে
রক্ত খাচ্ছে, ঘা বানাচ্ছে
যন্ত্রণা ধরে গেছে সর্বাঙ্গে
কোথাও সু-স্বাস্থ্যের শ্রী ফুটে উঠে না
তুবও সুস্থ-
বলতে হবে, নতুবা দারুন লজ্জা
কাউকে মুখ দেখান যাবে না
লৌকিকতা কি মানতে চাও না
বলে যাও সুস্থতার কথা
শক্তি পাও বা না পাও তবু বলে যাও
শব্দ ফুটুক আর না ফুটুক বলে যাও
দৃষ্টি স্বচ্ছ আর ঝাপসা তাকিয়ে রও
থুতুনি ঠক ঠক করে কাপুক, তবু বলে যাও
সু-উ-স্-থ
আমি যে হাটতে চাই,
দেখতে চাই পিতার গৃহ, দেখতে চাই গোটা সৃষ্টি
আমি তো এসবের মালিক, প্রকৃত উত্তরাধীকার
কেন দেখতে পাব না, কেন রুদ্ধ করে রেখেছ
আগছে দাঁড়িয়ে আছ, কেন দরজা খোলছনা
কার অধিকার আছে হরণ করবার
এ যে আমার মৌলিক অধিকার
আমি দেখব আমার পিতার অপূর্ব সম্ভার
ভালবেসে দিয়েছেন তিনি, আমি ভোগ করব
অধিকার করব, ন্যায্য অধিকার
বাধা দিতে কে এসেছ, হও বহিষ্কার
আমি অসুস্থ ছিলাম না
তিলে তিলে তোমরা মারতে চেয়েছিলে
কখন কি কুমন্ত্রণা দিয়েছিলে, মনে পড়েনা?
আজ আমি অসুস্থ
এ জ্ঞানই আমার জীবনি শক্তি
এ জ্ঞানই আমার মুক্ত বিবেক
অনুপ্রেরণা যোগায় সুস্থতার
দিচ্ছে অনুরত ধিক্কার
চুপি চুপি বলছে ব্যস্ত চলার
আমাকে পরিচয় দাও প্রকৃত সত্তার
পাব জীবন, পাব সুস্থতা, পাব পূর্ণতা
উপচে পড়া জীবন
যেতে দাও সে উৎসের কাছে
জীবন যেথায় অবিরত ঝড়ছে
দু’হাত বাড়িয়ে ডাকছে
ক্লান্তি নেই, শ্রান্তি নেই, মুখে কালিমা নেই
যত খুশী নাও, পান কর জীবন জল
গোপনে প্রকাশ্যে কোন আপত্তি নেই
নেচে নেচে চলে, কল কলিয়ে, খল খলিয়ে
যাচ্ছে বয়ে নির্ঝরের ধারা, হয়ে আছে পাগল পারা
জীবনের উদ্দামতা, নেই কোন ছুতমার্গ-
যার যা খুসী যেখানে সেখানে ডুব দাও
হও অরগাহীত, বাধা নেই—
ঢেলে দিয়েছে অবারিত ধারে প্রত্যেকের তরে
সর্বজাতী ঠাঁই পায়, ভাবে আছে নিজ ঘরে
জীবনের বাহার
জীবনের কাছে যাবে না তবু বলতে চাও পেয়েছি
জীবন
সুস্থতা, সবই মিথ্যা, প্রহসন,
শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছ, তবুও দাবি
তোমাতে রয়েছে জীবন, রয়েছে সুস্থ্যতা
হায়রে হতভাগা।
জীবনকে বাদ দিয়ে জীবন গড়া চলেনা
সুস্থতা বাদ দিয়ে সুস্থতা আসে না
খুঁজে দেখ কে আছে পূর্ণ সুস্থ
রাজী আছেন তোমার তরে করবেন দান
অকাতরে, মুক্ত হস্তে তার জীবনের অর্ঘ
মৃত দেহে তোমার, যোগাবেন প্রাণ
খুঁজে দেখ, ভারিক্কি চাল ছেড়ে দিয়ে
প্রবঞ্চনায় নিজেকে না ঠকিয়ে
ন’মাস, দশ মাস হাসপাতালে বাস
নহে তা সুস্থতার বিকাশ
সে ত অসুস্থার প্রকাশ
সুস্থের কাছে চাই আন্তরিক সহবাস
চলৎশক্তি, শৌর্য্য, বীর্যা, স্বাভাবিক ভাব
প্রেম অনুভূতি মনবতা সুস্থার প্রভাব
বেরিয়ে আসে সুস্থার ফলে
যেমন বৃক্ষের সজীবতা কিশলয় বয়
তোমার সুস্থতা হবে যখন তুমি কর্মময়
দেয়াল পত্রে কভু যা সম্ভব নয়
দেহে সৌরভ সুস্থতাই এনে দেয়
সত্য কথাটি তুমি কি খন্ডাতে চাও
সুস্থবৃক্ষটি সময় মত ফল দেয়
পাতা কভু তার ঝরা পাতা নয়
আলো বাতাসে সজীব
কেননা জীবন্ত জলের সাথে হয়েছে তার পরিচয়
আমি সুস্থ, তাই বলছি এ সত্য কথা
সুস্থ হবার নিগুঢ়তা
এ সুস্থতা কাউকে ধোকা দেয় না
কাউকে জোর করে অনিচ্ছায় বলতে হয় না
তার সুস্থতা তার কান্তিতে দেখা যায়
তার সু-ঘ্রাণ ঘোষণা করে, সুস্থ সে এ অবনীপরে
আমি প্রকৃত সুস্থ
মোর সুস্থতার সাক্ষ্য বইছে মোর নীরবতা
মোর সুস্থতা তোমাদের ভেংচি সত্তে¡ও রাখে সফলতা
মোর সুস্থতা হত হয়েও জানেনা ব্যর্থতা
মোর সুস্থতা হাতে পেরেক নিয়েও করছে দোয়া
মোর সুস্থতা রাশীকৃত ক্লেদ ডুবাতে দেয় ছোঁয়া
মোর সুস্থতা ঘাতকটিকেও ভাবে প্রাণের ভায়া
মোর সুস্থতা ত হবে অসুস্থদের সজীবতা
কে ডাকল আর কে প্রত্যাখ্যান করল
মোর সুস্থতা সে হিসেব রাখে না
মোর সুস্থতা কোন অভিমান জানে না
মোর সুস্থতা এনেছে মোর পুনরুত্থান
মোর সুস্থতা মৃত্যুর পরে দিয়েছে স্বর্গারোহণ
মোর সুস্থতা দিচ্ছে অসুস্থদের অনন্ত জীবন
মোর সুস্থতা তিক্ত রস পান করে মধুর কথা বলা
মোর সুস্থতা অসুস্থদের জড়িে ধরা
মোর সুস্থতা সর্ববাধিহরা
তবে আমি সুস্থ
হ্যাঁ, ঠিকই আমি সুস্থ।
আমি নাকি সুস্থ।
মারও একই কথা
নতুবা ডাক্তার সাব
কেন দেখালেন এ ভাব।
সুস্থতার প্রত্যায়ন পত্র
পেয়েছি প্রচুর, রাখার স্থান নেই
তাই এলো মেলো পড়ে আছে সর্বত্র
সবার একই কথা
সুস্থ যে তাকে হতেই হবে
নতুবা এত অষুধ, পথ্য সেবা যতœ
সবই কি বৃথা যাবে?
যদি সুস্থতার কথা না বলি
তবে তারা কী ভাববে
যারা যুগিয়েছে অনুপান
ন’টি মাস ধরে হাসপাতালে থাকা কালীন
বলতেই যে হবে মোর খোকাটি হয়েছে সমান
আর নেই কোথাও ভাঙ্গা, মচ্কান
পরিয়ে দিন ওকে সুস্থতার ভূূষন
আমি সুস্থÑ
আমাকে খেতে দেয়া হল নানাবিধ দ্রব্য
হজম হল না, শুরু হয়ে গেল দাস্ত
বমিও হয়েছে প্রচুর
মাথাটা ঘুরছে, দৃষ্টি শক্তি রহিম
চলতে পারছি না, পড়ে গেলাম হয়ে চিত।
তবুও মুখে স্বীকার করতে হবে
আমি সুস্থ-
নতুবা বাবা যে হবেন লজ্জিত
শুনিয়েছেন সবারে মোর সুস্থার কথা
ন’টি মাস ধরে পাঞ্জা লড়েছি মৃত্যুর সাথে
সে কী প্রাণান্তকর অবস্থা
কে হারে কে জিতে কিছুই বলার উপর ছিল না
ইনজেকশন, ক্যাপসুল, পট্টি, মলম,
খাওয়ার বড়ি, কোন ইয়াত্তা ছিল না
সবার কথা, একই কথা
এত শত ত ব্যর্থ হতে পারে না
ডাক্তার বাবু শুধালেন, নিয়মিত অষুধ খেয়েছে
যা বলেছি তাা করেছে,
জী আজ্ঞে!
অমনি সুস্থতার সাটিফিকেট দিলেন লিখে
একটিবারও তাকালেন না আমার খাঁচাটির দিকে
হাড় গোড় একে একে গোনা যায় সব কটি
একটুও ভুল হবে না
পেটে কোথায় কী আছে
তাও গোপন থাকে না
উকুন ছারপোকা বাসা বাঁধে
রক্ত খাচ্ছে, ঘা বানাচ্ছে
যন্ত্রণা ধরে গেছে সর্বাঙ্গে
কোথাও সু-স্বাস্থ্যের শ্রী ফুটে উঠে না
তুবও সুস্থ-
বলতে হবে, নতুবা দারুন লজ্জা
কাউকে মুখ দেখান যাবে না
লৌকিকতা কি মানতে চাও না
বলে যাও সুস্থতার কথা
শক্তি পাও বা না পাও তবু বলে যাও
শব্দ ফুটুক আর না ফুটুক বলে যাও
দৃষ্টি স্বচ্ছ আর ঝাপসা তাকিয়ে রও
থুতুনি ঠক ঠক করে কাপুক, তবু বলে যাও
সু-উ-স্-থ
আমি যে হাটতে চাই,
দেখতে চাই পিতার গৃহ, দেখতে চাই গোটা সৃষ্টি
আমি তো এসবের মালিক, প্রকৃত উত্তরাধীকার
কেন দেখতে পাব না, কেন রুদ্ধ করে রেখেছ
আগছে দাঁড়িয়ে আছ, কেন দরজা খোলছনা
কার অধিকার আছে হরণ করবার
এ যে আমার মৌলিক অধিকার
আমি দেখব আমার পিতার অপূর্ব সম্ভার
ভালবেসে দিয়েছেন তিনি, আমি ভোগ করব
অধিকার করব, ন্যায্য অধিকার
বাধা দিতে কে এসেছ, হও বহিষ্কার
আমি অসুস্থ ছিলাম না
তিলে তিলে তোমরা মারতে চেয়েছিলে
কখন কি কুমন্ত্রণা দিয়েছিলে, মনে পড়েনা?
আজ আমি অসুস্থ
এ জ্ঞানই আমার জীবনি শক্তি
এ জ্ঞানই আমার মুক্ত বিবেক
অনুপ্রেরণা যোগায় সুস্থতার
দিচ্ছে অনুরত ধিক্কার
চুপি চুপি বলছে ব্যস্ত চলার
আমাকে পরিচয় দাও প্রকৃত সত্তার
পাব জীবন, পাব সুস্থতা, পাব পূর্ণতা
উপচে পড়া জীবন
যেতে দাও সে উৎসের কাছে
জীবন যেথায় অবিরত ঝড়ছে
দু’হাত বাড়িয়ে ডাকছে
ক্লান্তি নেই, শ্রান্তি নেই, মুখে কালিমা নেই
যত খুশী নাও, পান কর জীবন জল
গোপনে প্রকাশ্যে কোন আপত্তি নেই
নেচে নেচে চলে, কল কলিয়ে, খল খলিয়ে
যাচ্ছে বয়ে নির্ঝরের ধারা, হয়ে আছে পাগল পারা
জীবনের উদ্দামতা, নেই কোন ছুতমার্গ-
যার যা খুসী যেখানে সেখানে ডুব দাও
হও অরগাহীত, বাধা নেই—
ঢেলে দিয়েছে অবারিত ধারে প্রত্যেকের তরে
সর্বজাতী ঠাঁই পায়, ভাবে আছে নিজ ঘরে
জীবনের বাহার
জীবনের কাছে যাবে না তবু বলতে চাও পেয়েছি
জীবন
সুস্থতা, সবই মিথ্যা, প্রহসন,
শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছ, তবুও দাবি
তোমাতে রয়েছে জীবন, রয়েছে সুস্থ্যতা
হায়রে হতভাগা।
জীবনকে বাদ দিয়ে জীবন গড়া চলেনা
সুস্থতা বাদ দিয়ে সুস্থতা আসে না
খুঁজে দেখ কে আছে পূর্ণ সুস্থ
রাজী আছেন তোমার তরে করবেন দান
অকাতরে, মুক্ত হস্তে তার জীবনের অর্ঘ
মৃত দেহে তোমার, যোগাবেন প্রাণ
খুঁজে দেখ, ভারিক্কি চাল ছেড়ে দিয়ে
প্রবঞ্চনায় নিজেকে না ঠকিয়ে
ন’মাস, দশ মাস হাসপাতালে বাস
নহে তা সুস্থতার বিকাশ
সে ত অসুস্থার প্রকাশ
সুস্থের কাছে চাই আন্তরিক সহবাস
চলৎশক্তি, শৌর্য্য, বীর্যা, স্বাভাবিক ভাব
প্রেম অনুভূতি মনবতা সুস্থার প্রভাব
বেরিয়ে আসে সুস্থার ফলে
যেমন বৃক্ষের সজীবতা কিশলয় বয়
তোমার সুস্থতা হবে যখন তুমি কর্মময়
দেয়াল পত্রে কভু যা সম্ভব নয়
দেহে সৌরভ সুস্থতাই এনে দেয়
সত্য কথাটি তুমি কি খন্ডাতে চাও
সুস্থবৃক্ষটি সময় মত ফল দেয়
পাতা কভু তার ঝরা পাতা নয়
আলো বাতাসে সজীব
কেননা জীবন্ত জলের সাথে হয়েছে তার পরিচয়
আমি সুস্থ, তাই বলছি এ সত্য কথা
সুস্থ হবার নিগুঢ়তা
এ সুস্থতা কাউকে ধোকা দেয় না
কাউকে জোর করে অনিচ্ছায় বলতে হয় না
তার সুস্থতা তার কান্তিতে দেখা যায়
তার সু-ঘ্রাণ ঘোষণা করে, সুস্থ সে এ অবনীপরে
আমি প্রকৃত সুস্থ
মোর সুস্থতার সাক্ষ্য বইছে মোর নীরবতা
মোর সুস্থতা তোমাদের ভেংচি সত্তে¡ও রাখে সফলতা
মোর সুস্থতা হত হয়েও জানেনা ব্যর্থতা
মোর সুস্থতা হাতে পেরেক নিয়েও করছে দোয়া
মোর সুস্থতা রাশীকৃত ক্লেদ ডুবাতে দেয় ছোঁয়া
মোর সুস্থতা ঘাতকটিকেও ভাবে প্রাণের ভায়া
মোর সুস্থতা ত হবে অসুস্থদের সজীবতা
কে ডাকল আর কে প্রত্যাখ্যান করল
মোর সুস্থতা সে হিসেব রাখে না
মোর সুস্থতা কোন অভিমান জানে না
মোর সুস্থতা এনেছে মোর পুনরুত্থান
মোর সুস্থতা মৃত্যুর পরে দিয়েছে স্বর্গারোহণ
মোর সুস্থতা দিচ্ছে অসুস্থদের অনন্ত জীবন
মোর সুস্থতা তিক্ত রস পান করে মধুর কথা বলা
মোর সুস্থতা অসুস্থদের জড়িে ধরা
মোর সুস্থতা সর্ববাধিহরা
তবে আমি সুস্থ
হ্যাঁ, ঠিকই আমি সুস্থ।