নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রকল্পের কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি, আটটি অভিযোগসহ তার বিরুদ্ধে সাড়ে ৬ কোটি টাকার বিলাসবহুল নির্মাণ সামগ্রী জোরপূর্বক লাগাতে বাধ্য করার ও হয়রানির প্রতিকার চেয়ে নৌ-মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী-সচিবকে চিঠি দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত।
এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ভয়াবহ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি)।
দক্ষিণ
কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান কাজ দেরি করার কারণ দেখিয়ে ডিজি তার আপন ভাতিজার
প্রতিষ্ঠানকে দ্বিগুণের বেশি টাকা দরে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। এ ভয়াবহ
দ্বন্দ্বের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রকল্প নিয়ে
নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালকের কিছু কর্মকা-ে প্রকল্পটি বন্ধ
হওয়াসহ বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ক নষ্ট হবার উপক্রম হয়েছে বলে জানা
গেছে। আজ রোববার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়টি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে
জানা গেছে। জানতে চাইলে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল
ইনকিলাবকে বলেন, কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতও এসেছিলেন। আমরা প্রকল্পের স্টিয়ারিং
কমিটির বৈঠক করেছি। অভিযোগ নিয়ে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে একটি কমিটি গঠন করা
হয়েছে। কমিটি সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে যেসব সুপারিশ করেছে তা অনুমোদন দেয়া
হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য কাজ
করা হচ্ছে।
দেশে ডলার সংকটে যখন সরকার বেসামাল তখন বন্ধুরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে তাদের বৈদেশিক সহায়তা ফান্ড দুই বিলিয়ন ডলার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। দক্ষিণ কোরিয়ার বৈদেশিক সহায়তা ফান্ড (ইডিসিএফ) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের ইজিআইএমএনএস প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসে সৃষ্ট জটিলতায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে পর্যন্ত নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে দেখা করে অভিযোগের বিষয় জানাতে হয়েছে। তারা বলছে, নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের এমন কর্মকা-ের বিচার না হলে দক্ষিণ কোরিয়ার বৈদেশিক সহায়তা ফান্ড দুই বিলিয়ন ডলার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সিদ্ধান্তটি ঝুলে যেতে পারে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ইনকিলাবকে বলেন, প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ প্রকল্পটি শেষ করার আগেই পরিত্যক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। অনেক চেষ্টার পর প্রকল্পের গতি আনা হয়েছে। ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাস করানো হয়। এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে পুরো প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার দিকে চলে যাচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং প্রকল্পের কর্মকর্তারাও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ডিজির কারণে বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ক নষ্ট হবার উপক্রম হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানকে বাতিল করে ডিজি তার ভাতিজার প্রতিষ্ঠানকে দ্বিগুণের বেশি টাকা দরে দেয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন।
নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. নিজামুল হক ইনকিলাবকে বলেন, সরকারের অর্থ অপচয় হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক তার মতো করে কাজ করছেন। এর ফলে কাজ বিলম্বিত হচ্ছে, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে। সংস্থাপ্রধান হিসেবে আমার নির্দেশনা মানছেন না। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে আমি কিছু প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণকাজে সহায়তা করার জন্য বলেছি। ৭ বছর ধরে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে না। প্রকল্প পরিচালককে পদ থেকে বাতিল করতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্যাসপার কিম বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে দু’জন কোরিয়ান নাগরিক (ক্যাসপার কিম ও হা তায়ুক) বাংলাদেশে আছি। আগামী আগস্ট পর্যন্ত বৈধ ভিসা রয়েছে। তবে আমাদের বিষয়টি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। বিষয়টি সরকার সমাধান করবে মনে করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানকে বাতিল করে ডিজির ভাতিজার প্রতিষ্ঠানকে চার গুণ বেশি টাকা দরে দেয়ার কার্যাদেশ দিয়েছেন।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অভিযোগে বলা হয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ইজিআইএমএনএস প্রকল্পের সাথে দক্ষিণ কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান এলজি-সামহি কনসোর্টিয়াম ২০১৭ সালে ২৬ অক্টোবর তারিখে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। প্রকল্পটিতে এলজি আইটিসহ স্টিল লাইট টাওয়ার এবং সামহি কন্সট্রাকশন ভৌত অবকাঠামোর কাজ করছে। আগামী ২০২৪ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রকল্প নিয়ে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালকের কিছু কর্মকা-ে প্রকল্পটি বন্ধ হওয়াসহ বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ক নষ্ট হবার উপক্রম হয়েছে। গত বছর ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চের মধ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. নিজামুল হক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের লোকজন দিয়ে কাজ করা শুরু করেন। ডিজি আন্তর্জাতিক চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে পেশীশক্তি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সামহি কন্সট্রাকশনের জনবলকে ঢাকা আগারগাঁওয়ের নির্মাণাধীন সাইট হতে বের করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির শর্তের তোয়াক্কা না করে তার নিজস্ব মনোনীত ঠিকাদার বাগদাদ কন্সট্রাকশনকে অবৈধভাবে ৫ থেকে ১১ তলার যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য নিয়োগ দিয়েছেন। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে যাবতীয় নির্মাণ সামগ্রী তার মনোনীত প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয় করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। এছাড়া নিজস্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, সেন্টমার্টিন এবং নিঝুম দ্বীপের নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে সামহি কন্সট্রাকশনের ভৌত কাজে নিয়োজিত জনবলদের জোরপূর্বক বের করে দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে যাবতীয় কাজ অবৈধভাবে দখল করেন, যার ভিডিও এবং স্থিরচিত্র সামহি কন্সট্রাকশনের মাধ্যমে নৌ-মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, সমুদ্রে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের দিকনির্দেশনা ও নিরাপত্তা দেয়ার লক্ষ্যে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্প শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় দেশের উপকূলীয় এলাকায় সাতটি বাতিঘর (লাইট হাউজ) ও রেডিও স্টেশন স্থাপন এবং ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে ১১তলাবিশিষ্ট কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার স্থাপনের কথা। এ প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তখন প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৩৭০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে কোরিয়ার ঋণ সহায়তা ৩ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশের ২৯২ কোটি ১২ লাখ টাকা। শুরু থেকে নানা জটিলতা, অনিয়ম, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, দু’বার প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে তিন দফায় মেয়াদ ও ব্যয় দুই-ই বেড়েছে। সর্বশেষ গত ১৭ জানুয়ারি প্রকল্প সংশোধনের পর ব্যয় দাঁড়িয়ে বর্তমানে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭৭৯ কোটি ৪৯ লাখ। মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী জুনে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৫৭ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি ৫১ শতাংশ। আবারও প্রকল্পের ব্যয় ৩৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এস্টাব্লিশমেন্ট অব গ্লোবাল মেরিটাইম ডিস্ট্রেস অ্যান্ড সেফটি সিস্টেম অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম (ইজিআইএমএনএস)। এসব প্রকল্প নিয়ে তিন পক্ষ হচ্ছে, নৌ-পরিবহন অধিদদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডোর মো. নিজামুল হক, প্রকল্প পরিচালক আবু সাইদ মোহাম্মদ দেলোয়ার রহমান ও কোরিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এলজি-সামি কন্সট্রাকশন।
গত মঙ্গলবার নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. নিজামুল হক তার লিখিত বক্তব্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সামি কনস্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনেন। প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা এবং এ কারণে অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য এ প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করেন। একপর্যায়ে চিঠিতে উল্লেখ করেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি দিয়ে তদন্ত ছাড়া কাজ অব্যাহত রাখলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন অসম্ভব হবে এবং দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাত বন্ধ করা সম্ভব হবে না। লিখিত চিঠি নৌসচিব মো. মোস্তফা কামালের কাছে জমা দিয়েছেন। অপরদিকে প্রকল্প পরিচালক থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন ওই সংস্থারই নটিক্যাল সার্ভেয়ার ও এক্সামিনার ক্যাপ্টেন আবু সাইদ মোহাম্মদ দেলোয়ার রহমান নৌসচিবকে চিঠি দিয়ে অব্যাহতি চাওয়ার কারণ জানিয়ে। তিনি বলেন, সামি কন্সট্রাকশনের সঙ্গে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গভীর মতপার্থক্যের দরুন এই প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়াও মহাপরিচালক প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তনের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।
চলতি মাসেই নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. নিজামুল হকের বিরুদ্ধে সাত-আটটি গুরুতর অভিযোগসহ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় সামি কন্সট্রাকশন। তার বিরুদ্ধে সাড়ে ৬ কোটি টাকার বিলাসবহুল নির্মাণ সামগ্রী জোরপূর্বক লাগাতে বাধ্য করারও অভিযোগ করে। এতে বলা হয়, তাদের কাজের অধিক্ষেত্রে মহাপরিচালক প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই জোরপূর্বক সাব কন্ট্রাক্টর ও সাপ্লাইয়ার মনোনীত করে দিচ্ছেন। ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ১১তলা ভবনের লিফট ও সাবস্টেশন কাজে তার পরিচিত ব্যক্তিদের দিয়ে লাগাতে চাপ দিয়েছেন। ওই ভবনের ৫-১১ তলা পর্যন্ত কাজ তার পরিচিত প্রতিষ্ঠান (বাগদাদ এন্টারপ্রাইজকে) দিতে বাধ্য করেছেন। কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন (কক্সবাজার) ও নিঝুম দ্বীপেও (নোয়াখালী) এ প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। অপরদিকে কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) সাইটে মেসার্স সাকিব পোলট্রি অ্যান্ড ফিড সেন্টার নামক প্রতিষ্ঠানকে পূর্ত কাজের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলতে বাধ্য করারও অভিযোগ করা হয়। কোরিয়ার এ প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছু স্থির ও ভিডিওচিত্র নৌমন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। ওই সব চিত্রে কমোডর মো. নিজামুল হককে সাইট অফিসে গিয়ে প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখা গেছে। এমনকি তার কার্যালয়েও এমন আচরণের ভিডিও রেকর্ড দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ পরিস্থিতি নিয়ে নৌমন্ত্রণালয়ে কয়েক দফায় বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। গত ২ এপ্রিল নৌসচিবের সভাপতিত্বে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রকল্প পরিচালক আবু সাইদ মোহাম্মদ দেলোয়ার রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। ওই অভিযোগের জবাব দিতে প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর গত ১৮ এপ্রিল নৌ-মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে প্রকল্পের চারজন কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালক এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মুখ্য দুই কর্মকর্তা ক্যাসপার কিম ও হা তায়ুক অংশ নেন। সেখানে প্রকল্পের ওপর মহাপরিচালকের হস্তক্ষেপ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। যদিও এসব সিদ্ধান্ত নেয়ার পরও জটিলতার সমাধান হয়নি।
অপরদিকে প্রকল্প পরিচালক ক্যাপ্টেন আবু সাইদ মোহাম্মদ দেলোয়ার রহমান ইনকিলাবকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তার লিখিত জবাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এর বেশি কিছু মন্তব্য করতে চাই না।