খোদার কাছে ধার্মিক বলে গণ্য হওয়া প্রত্যেকটি আদম সন্তানের জন্য অত্যাবশ্যক! মানুষের ধর্মকর্ম, আচার অনুষ্ঠান, কৃচ্ছ্রতা সাধন খোদার কাছে গ্রাহ্য করার জন্য মানুষের এমন কোনো প্রমাণ আছে কি? অবশ্য ঈমানদার ব্যক্তি অন্তরের ঈমানের মাধ্যমে নিশ্চয়তা লাভ করতে পারে। তবে ধর্মের নামে যতপ্রকার কর্মসাধন করে চলছে তার দ্বারা খোদার রেজামন্দি লাভ তাদের কাছে নিশ্চয়তা প্রদান করে না। সে কারণেই অনুষ্ঠানমালা আমৃত্যু পৌণপুনিক অঙ্কের মত কষে চলে। খোদা মানুষকে প্রহেলিকার মধ্যে ঝুলিয়ে রাখতে পারেন না; তিনি সহজ সরল প্রেমাকর, যিনি পরিষ্কার করে তাঁর নয়নকাড়া সৃষ্টির কাছে ঘোষণা দিয়েছেন মানুষ নিয়ে তাঁর মহান পরিকল্পনার কথা। যেমন “তোমাদের জন্য আমার পরিকল্পনার কথা আমিই জানি, তা তোমাদের উপকারের জন্য, অপকারের জন্য নয়। সেই পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে তোমাদের ভবিষ্যতের আশা পূর্ণ হবে” (ইয়ারমিয়া ২৯:১১)। তাছাড়া নবী ইশাইয়া ৪৩:২৫ পদে দেখতে পাই খোদার সুনিশ্চিত প্রতিজ্ঞা যা কেবল সত্যবাদী মেহেরবান মাবুদের পক্ষেই ঘোষণা করা সম্ভব। “আমি, আমিই আমার নিজের জন্য তোমার অন্যায় মুছে ফেলি; আমি তোমার গুনাহ আর মনে আনব না।”
ঈমানদারদের আদি পিতা বলে খ্যাত নবী ইব্রাহীম খোদার কথায় ইমান স্থাপনের মাধ্যমে জ্ঞাতি কুটুম তথা পৈত্রিক ভিটে মাটি ছেড়ে দিয়ে অজানা গন্তব্যে রওয়ানা দিয়েছিলেন; তার ক্ষেত্রে রাহবার বা দিকনির্দেশক ছিলেন খোদা নিজেই। খোদার উপর গভীর নিরঙ্কুষ বিশ^াস ও আস্থা তাকে সাহস, প্রজ্ঞা ও ধার্মিকতা যোগান দিয়েছিলো।
শরীয়ত যখন চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে যায় তখন অবশিষ্ট থাকে খোদার রহমত। মানুষ শরীয়ত যথাযথ বা পুঙ্খনপুঙ্খভাবে পালনে সম্পূর্ণ ব্যার্থ পরাভুত। প্রেমের পারাবার মাবুদ তাই এক বিশেষ ব্যবস্থা স্থাপন করেছেন স্বীয় রূহানীপুত্র খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহের মাধ্যমে, যিনি গুনাহগার বিশে^র প্রতি প্রেমের তাগিদে তাদের পাপের কাফফারা স্বীয় পূতপবিত্র রক্তের মূল্যে শোধ দিলেন, সলীবে আত্মকোরবানির মাধ্যমে। তিনি পুনরুত্থিত হয়ে বর্তমানে পাকরূহের মাধ্যমে গোটা ঈমানদার ব্যক্তিবর্গকে ন্যায়, সত্য, সুন্দরের পথে নিয়ত পরিচালনা করে চলছেন। কেউ পাপের রাজ্যে বিনাশ পাক তা তাঁর ইচ্ছা নয়।
পয়দায়েশ ১৫:৬
ইব্রাম মাবুদের কথার উপর ঈমান আনলেন আর মাবুদ সেইজন্য তাঁকে ধার্মিক বলে গ্রহণ করলেন।
ইয়াকুব ২:২৩
এইভাবে পাক–কিতাবের এই কথা পূর্ণ হয়েছিল, “ইব্রাহিম আল্লাহ্র কথার উপর ঈমান আনলেন আর সেইজন্য আল্লাহ্ তাকে ধার্মিক বলে গ্রহণ করলেন।” সেইজন্য তাঁকে আল্লাহ্র বন্ধু বলে ডাকা হয়েছিল।
গালাতীয় ৩:১–১৪
ওহে অবুঝ গালাতীয়রা! কে তোমাদের জাদু করেছে? তোমাদের কাছে তো স্পষ্টভাবেই তবলিগ করা হয়েছে যে, ঈসা মসীহ্কে ক্রুশের উপরে হত্যা করা হয়েছিল। আমি কেবল তোমাদের কাছ থেকে জানতে চাই, তোমরা শরীয়ত পালন করে কি পাক–রূহ্কে পেয়েছিলে, না সুসংবাদ শুনে ঈমান এনে পেয়েছিলে? তোমরা কি এতই অবুঝ? পাক–রূহের মধ্য দিয়ে নতুন জীবন শুরু করে কি এখন নিজের চেষ্টায় পূর্ণতা লাভ করতে যাচ্ছ? তোমরা কি মিথ্যাই এত দুঃখভোগ করেছ? আমি আশা করি তোমাদের সেই দুঃখভোগ অনর্থক হয় নি। আল্লাহ কেন তোমাদের পাক–রূহ্ দিয়েছেন এবং তোমাদের মধ্যে এত অলৌকিক কাজ করছেন তা ভেবে দেখ। তোমরা শরীয়ত পালন করছ বলেই কি তিনি এই সব করছেন, নাকি সুসংবাদ শুনে ঈমান এনেছ বলে করছেন? ইব্রাহিমের কথা ভেবে দেখ। পাক–কিতাবে লেখা আছে, “ইব্রাহিম আল্লাহ্র কথার উপর ঈমান আনলেন আর আল্লাহ্ সেইজন্য তাঁকে ধার্মিক বলে গ্রহণ করলেন।” এইজন্য তোমরা এই কথা জেনো, যারা ঈমান আনে কেবল তারাই ইব্রাহিমের বংশধর। পাক–কিতাবে আগেই লেখা হয়েছিল, ঈমানের জন্যই আল্লাহ্ অ–ইহুদীদের ধার্মিক বলে গ্রহণ করবেন। ইব্রাহিমের কাছে এই কথা বলে আগেই সুসংবাদ জানানো হয়েছিল, “তোমার মধ্য দিয়েই সব জাতি দোয়া পাবে।” তাহলে দেখা যায়, আল্লাহ্র কথার উপর ঈমান এনে ইব্রাহিম যেমন দোয়া পেয়েছিলেন ঠিক তেমনি তাঁর পর থেকে যারা ঈমান আনে তারাও সেই দোয়া পায়। পাক–কিতাবে লেখা আছে, “সেই লোক বদদোয়াপ্রাপ্ত, যে শরীয়তে লেখা প্রত্যেকটি কথা পালন করে না।” তাহলে দেখা যায়, যারা শরীয়ত পালন করবার উপর ভরসা করে তাদের সকলের উপরে এই বদদোয়া রয়েছে। তা ছাড়া এটাও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে, শরীয়ত পালন করবার জন্য আল্লাহ্ কাউকে ধার্মিক বলে গ্রহণ করেন না, কারণ পাক–কিতাবের কথামত, “যাকে ধার্মিক বলে গ্রহণ করা হয় সে ঈমানের মধ্য দিয়েই জীবন পাবে।” ঈমানের সংগে শরীয়তের কোন সম্বন্ধ নেই। শরীয়ত বরং বলে, “যে লোক শরীয়ত মতে চলে সে তার মধ্য দিয়েই জীবন পাবে।” শরীয়ত অমান্য করবার দরুন যে বদদোয়া আমাদের উপর ছিল, মসীহ্ সেই বদদোয়া নিজের উপর নিয়ে আমাদের মুক্ত করেছেন। পাক–কিতাবে এই কথা লেখা আছে, “যাকে গাছে টাংগানো হয় সে বদদোয়াপ্রাপ্ত।” আল্লাহ্ ইব্রাহিমকে যে দোয়া করেছিলেন সেই দোয়া মসীহ্ ঈসার মধ্য দিয়ে যেন অ–ইহুদীরাও পেতে পারে, আর যেন আমরা ঈমানের মধ্য দিয়ে ওয়াদা–করা পাক–রূহ্কে পেতে পারি, সেইজন্যই মসীহ্ সেই বদদোয়া নিজের উপর নিয়েছিলেন।
রোমীয় ৪:৯
এখানে কি কেবল তাদেরই ধন্য বলা হয়েছে যাদের খৎনা করানো হয়েছে? খৎনা–না–করানো লোকদেরও কি বলা হয় নি? জ্বী, তাদেরও ধন্য বলা হয়েছে, কারণ আমরা বলছি, “ইব্রাহিমের ঈমানের জন্য তাঁকে ধার্মিক বলে ধরা হয়েছিল।”
রোমীয় ৪:২০–২৫
আল্লাহ্র ওয়াদা সম্বন্ধে তাঁর মনে কখনও কোন সন্দেহ আসে নি, বরং তিনি ঈমানে আরও বলবান হয়ে উঠে আল্লাহ্র প্রশংসা করতেন। ইব্রাহিম সম্পূর্ণভাবে এই বিশ্বাস করতেন যে, আল্লাহ্ যা ওয়াদা করেছেন তা করবার ক্ষমতাও তাঁর আছে। এইজন্যই ইব্রাহিমের ঈমানের দরুন তাঁকে ধার্মিক বলে ধরা হয়েছিল। “ধার্মিক বলে ধরা হয়েছিল,” এই কথাটা কেবল ইব্রাহিমকেই লক্ষ্য করে লেখা হয় নি, আমাদেরও লক্ষ্য করে লেখা হয়েছে। আমাদের ঈমানের জন্য আল্লাহ্ আমাদেরও ধার্মিক বলে ধরবেন, কারণ যিনি আমাদের হযরত ঈসাকে মৃত্যু থেকে জীবিত করেছিলেন আমরা তাঁরই উপর ঈমান এনেছি। আমাদের গুনাহের জন্য ঈসাকে মৃত্যুর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল এবং আমাদের ধার্মিক বলে গ্রহণ করবার জন্য তাঁকে মৃত্যু থেকে জীবিত করা হয়েছিল।
রোমীয় ৪: ৩–৬
পাক–কিতাবে লেখা আছে, “ইব্রাহিম আল্লাহ্র কথার উপর ঈমান আনলেন আর সেইজন্য আল্লাহ্ তাঁকে ধার্মিক বলে গ্রহণ করলেন।” কাজ করে যে বেতন পাওয়া যায় তা দান নয়, পাওনা। কিন্তু যে নিজের চেষ্টার উপর ভরসা না করে কেবল আল্লাহ্র উপর ঈমান আনে আল্লাহ্ তার সেই ঈমানের জন্য তাকে ধার্মিক বলে ধরেন, কারণ তিনিই গুনাহ্গারকে ধার্মিক বলে গ্রহণ করতে পারেন। দাউদও সেই লোককে ধন্য বলেছেন যাকে আল্লাহ্ কোন কাজ ছাড়াই ধার্মিক বলে ধরেছেন।
ইব্রানী ১১:৮
আল্লাহ্ যখন ইব্রাহিমকে ডেকেছিলেন তখন ঈমানের জন্যই তিনি আল্লাহ্র কথার বাধ্য হয়েছিলেন এবং সম্পত্তি হিসাবে যে জায়গাটা তাঁর পাবার কথা ছিল সেই জায়গায় তিনি গিয়েছিলেন। যদিও তখন বুঝতে পারেন নি তিনি কোথায় যাচ্ছেন তবুও তিনি রওনা হয়েছিলেন।
আল জবুর ১০৬:২৮–৩১
তারা পিয়োর পাহাড়ের বাল দেবতার পূজায় যোগ দিল আর মৃত লোকদের উদ্দেশে কোরবানীর গোশ্ত খেল। এই সব খারাপ কাজ দিয়ে তারা মাবুদের রাগ জাগিয়ে তুলল, তাই তাদের মধ্যে মহামারী লাগল। তখন ইমাম পীনহস্ উঠে এর উপযুক্ত শাস্তি দিলেন, আর মহামারী থেমে গেল। পীনহসের এই কাজের ফলে তাঁকে চিরকালের জন্য ধার্মিক বলে ধরা হল।
রোমীয় ৪:১১
খৎনা–না–করানো অবস্থায় ঈমানের জন্যই যে আল্লাহ্ তাঁকে ধার্মিক বলে ধরেছিলেন তাঁর খৎনা করানোটা ছিল তারই প্রমাণ এবং চিহ্ন। তাহলে দেখা যাচ্ছে, খৎনা করানো না হলেও কেবল ঈমানের জন্যই যাদের ধার্মিক বলে গ্রহণ করা হয়, ইব্রাহিম তাদের সকলের পিতা।
২করিন্থীয় ৫:১৯
এর অর্থ হল, আল্লাহ্ মানুষের গুনাহ্ না ধরে মসীহের মধ্য দিয়ে নিজের সংগে মানুষকে মিলিত করছিলেন, আর সেই মিলনের খবর জানাবার ভার তিনি আমাদের উপর দিয়েছেন।