দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী পরষ্পর দেখা সাক্ষাত ও বাক্যালাপ করার জন্য প্রয়োজনবোধ করেন তখন তাঁরা কার মুখাপেক্ষি হবেন বলতে কি পারেন? অবশ্যই তাঁরা পরষ্পরের কাছ থেকে সময় বের করে নেবেন; এ প্রসংগে কোনো নিম্নপদস্থ অফিসারের দ্বারাস্থ হবার কারণ আছে বলে মনে করি না।
সার্বভৌম খোদা হলেন গোটা বিশ্বের মালিক ও নির্মাতা, যিনি নিজ সুরতে স্বীয় প্রতিনিধি হিসেবে মানুষ সৃষ্টি করেছেন; তিনি স্বীয় পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন, মানুষ হলো তাঁর আবাসগৃহ (ইফিষীয় ২:২২); সে সুবাদে তিনি বলেছেন, ‘আমি পবিত্র বলে তোমরাও পবিত্র হও’ (লেবীয় ১১ : ৪৪)।
তিনি বলেছেন, আসমানে আমার সিংহাসন আর জমীনে আমার পাদমূল রাখার স্থান। যিনি আসমান জমীন জুড়ে বিশাল বপু, তাঁর জন্য আমরা কত বড় ঘর নির্মাণ করব বলুন? তিনিই তাঁর বসবাসযোগ্য গৃহ নির্মাণ করে তার মধ্যে স্বাচ্ছন্দে বসবাস করার মনোবাসনা প্রকাশ করেছেন। অবশ্য মানুষকে তিনি সৃষ্টির স্রেষ্ঠ জীব হিসেবেও মনোনয়ন দিয়েছেন, তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন জগতের সার্বিক সৃষ্টি, দেখভাল ও পরিচালনা করার জন্য।
অবশ্য মাবুদ মাওলা হলেন সর্বশক্তিমান, সর্বদর্শী, সর্বত্রবিরাজমান এক রূহানী সত্ত্বা। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, বান্দার গ্রীবাশিরার অবস্থানের চাইতে অধিক কাছে তাঁর অবস্থান (হিজরত ৩৩:১৪)। তাহলে তাঁকে খুঁজতে আমরা কোথায় যাবো? তাঁর সাথে বাক্যালাপের জন্য বিশেষ কোনো ভাষা, লগ্ন বা ঋতু ভেদের প্রয়োজন থাকতে পারে কি? চন্দ্র–সূর্য, গ্রহ–নক্ষত্রের কাছ থেকে পারমিশন নেবার তো কোনো প্রশ্নই জাগে না।
বিভ্রান্তির ফলে মানুষ আজ কত কিছুর পূজা–অর্চণা করে ফিরছে, যা হলো পৌত্তলিকতার নামান্তর মাত্র। যদিও সাধারণ মানুষ অতটা গভীর জ্ঞান রাখে না, বাণিজ্যের কারণে কতিপয় লোভী ব্যক্তি ধর্মের বাণীর সাথে জুড়ে দিয়েছে অর্থকরী উপার্জনের বিধি বিধান যা খোদা কোনো দিনই মেনে নেননি এবং মেনে নেবার প্রশ্নই জাগে না। যিনি সদাসর্বদা আপনার আমার মধ্যে বসবাস করে চলছেন তাকে খুঁজেতে পূর্ব–পশ্চিম, উত্তর–দক্ষিণ ছুটতে হবে কোন যুক্তিতে। তাছাড়া পৃথিবীর প্রত্যেকটা অংশ হলো কলুষিত মানুষের ছোয়ায় কলুষিত; অভিশপ্ত ইবলিসের কব্জাগত তথা খুনিদের তরবারীঘাতে আপামর জনতার রক্ত ক্ষরিত হয়েছে সবখানে, সে খবর কি আপনাদের জানা নেই?
একে তো ঐতিহাসিক ঘটনাপুঞ্জি মানুষ বেশিদিন মনে রাখতে পারে ন, তদুপরী সত্য ঘটনাপুঞ্জি মিথ্যা রচনা দিয়ে আবৃত করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে একশ্রেণির বণিক সম্প্রদায়, নিজেদের হীনস্বার্থ টিকিয়ে রাখার জন্য।
আসুন নাতিদীর্ঘ বিষয়টির সারমর্ম প্রকাশ করার চেষ্টা করি। আদম (প্রথম মানুষ) থেকে শুরু করে অদ্যাবধি সকল মানুষ গুনাহগার। কালামপাকে পরিষ্কার বর্ণীত রয়েছে, সকলেই পাপ করেছে এবং খোদার মহিমা নষ্ট করে বসেছে (ইশাইয়া ১:৬)।
আদম বংশে একটি মানুষও খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয় যে কিনা শতভাগ নিষ্পাপ বা বেগুনাহ (রোমীয় ৩:১৯)। মানুষের পাপের কাফফারা পরিশোধ দেবার জন্য চাই নিষ্পাপ মেষ সাবকের কোরবানি। আদমের বংশে তেমন কাউকে খুঁেজ পাওয়া গেল না। মেহেরবান খোদা তাই নিজেই স্বীয় কালাম ও পাকরূহ মানবরূপে জগতে করলেন প্রেরণ; যিনি সতঃস্ফুর্তভাবে রাজী হলেন নিজেকে পাপর্থক কোরবানী দেবার জন্য (মথি ২০:২৮, তীত ২:১৪, ২করিন্থীয় ৮:৯)। রহস্য এখানেই রয়েছে লুকাইত; মানুষের পক্ষে সাধন করা যা অসম্ভব, খোদার কাছে তা বড়ই সহজ। যারাই মসিহের কোরবানি নিজের কোরবানি হিসেবে বিশ্বাস করেছে, তাদের প্রত্যেককে তিনি দান করেছেন অভাবিত মুক্তি, অনন্ত জীবন, মর্যাদা পেয়েছ তারা খোদার সন্তান হবার (ইউহোন্না ১:১২)। তারা আজ মুক্ত স্বাধীন, বেহেশতি পিতার সাথে রয়েছে তাদের নিবীড় সম্পর্ক।
ঋতু চক্র, স্থান–কাল–পাত্র, দিবা কি রাত্র, চন্দ্র–সূর্য–গ্রহ–নক্ষত্র এদের গতিবিধির উপর নির্ভর করতে হয় না তাদের; মাবুদের সাথে বাক্যালাপ করার জন্য। শততঃ প্রার্থনা যোগায় মোরে আলোর কণা, ফল পেয়েছি শুভ ফল, দূর হয়েছে বিড়ম্বনা। তবে লগ্ন অস্বীকার করছি না, ওটা মানুষের জন্য প্রয়োজ্য, খোদার সাথে বাক্যালাপের জন্য নয়। অবশ্য বাণিজ্যের কারণে কতিপয় দুষ্ট প্রকৃতির লোক সেই প্রথম দিন থেকে সাধারণ জনতাকে ভুল পথে পরিচালনা করে আসছে।
সত্য ও রূহে খোদার এবাদত করার লোকের বড়ই অভাব (ইউহোন্না ৪:২৪)।