আমেরিকায় একের পর এক ব্যাংকের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফের ব্যাপক মন্দার আশঙ্কায় কাঁপছে বিশ্ব। গত শুক্রবার বন্ধ হয়েছিল সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক আর রবিবার নিউ ইয়র্কের সিগনেচার ব্যাংকের ঝাঁপ পড়ে। পরপর এমন বিপর্যয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত গ্রাহকরা। উদ্বেগের ভাঁজ প্রশাসনের কপালেও। ব্যাংক বিপর্যয়ের দায় পূর্বতন সরকারের উপর চাপিয়ে গা বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। সাংবাদিকদের চোখা চোখা প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তিনি। আর তাতেই ধৈর্য হারিয়ে মাঝপথ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন ছেড়ে চলে গেলেন বাইডেন।
রবিবার ব্যাংক বিপর্যয়ের জন্য পূর্ববর্তী ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘ওবামা–বাইডেন প্রশাসনের সময় সিলিকন ভ্যালি ও সিগনেচার ব্যাংকের মতো সংস্থাগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছিল। ২০০৮ সালের মতো বিপর্যয় রুখতে তখন ডোড–ফ্র্যাংক আইন আনা হয়। কিন্তু পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় তা শিথিল করে দেওয়া হয়।’ এরপর এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, মিস্টার প্রেসিডেন্ট, যা ঘটেছে তা কেন ঘটেছে, সে সম্পর্কে কতটা জানেন? আপনি কি নিশ্চিত করতে পারেন ভবিষ্যতে আর কখনও এমনটা হবে না?”
এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস রুম ছেড়ে হেঁটে বেরিয়ে যান বাইডেন। সেসময় আরেকজন প্রশ্ন করে ওঠেন, ‘অন্যান্য ব্যাংকও কি ফেল করবে?’ তারও কোনও উত্তর দেননি বাইডেন। হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলেই এই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। তা রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও পড়ে। যথারীতি তীব্র সমালোচনাও শুরু হয়েছে।
এটাই প্রথম নয়, এর আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। ২০২১ সালে এক সাংবাদিক চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জবাব না দিয়ে চলে যান। সেসময় সাংবাদিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, উনি প্রশ্নের উত্তর জানেন না বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। এবার তিনি মাঝপথেই বেরিয়ে গেলেন সাংবাদিক সম্মেলন থেকে।