শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশে খেলাধুলার প্রভাব কতটা, তা আবারও সামনে আনল একটি গবেষণা। এ বিষয়ে ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন গবেষকের একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদন সম্প্রতি জার্নাল অব পেডিয়াট্রিক্সে প্রকাশিত হয়েছে। এটি বলছে, গত কয়েক দশক ধরে শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাধিগুলোর জন্য খেলাধুলা, ঘোরাঘুরি এবং বড়দের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ক্রিয়াকলাপে জড়িত হওয়ার সুযোগ কমে যাওয়াই দায়ী। বড়রা ভালো উদ্দেশ্যে নিয়ন্ত্রণ করলেও তা শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য সহায়ক নয়। বরং তা উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মহত্যাপ্রবণতা বাড়িয়ে তোলে।
ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষণাটির সহ-লেখক ডেভিড এফ. বোরক্লুন্ড বলেন, বাবা-মায়েরা নিয়মিত তত্ত্বাবধান না করলে শিশু-কিশোররা স্কুল-কলেজে খারাপ ফলাফল করতে পারেÑ এমন আশঙ্কা করেন। কিন্তু শিশুদের বিকাশের জন্য আরও নানা রকম সুযোগের প্রয়োজন। অভিভাবকদের অনুভব করতে হবে যে শিশু-কিশোররা বাস্তব জগতের সঙ্গে যেন কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারে, শুধু স্কুলের জগতে নয়।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ খেলা, যেমন উঁচু গাছে ওঠা শিশুদের ফোবিয়া থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে ভবিষ্যতের উদ্বেগ কমায়। গবেষণাটি বলছে, খেলা শিশুদের সুখের সরাসরি উৎস। অপরদিকে স্কুলের সময় বৃদ্ধি এবং পড়াশোনার অত্যধিক চাপ মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। একাডেমিক ব্যর্থতার ভয় মানসিক যন্ত্রণার সরাসরি উৎস। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির পেছনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে শিশু বয়সে নিজের ইচ্ছামতো কিছু করতে না পারা, খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার মতো ব্যাপারগুলো। শিশুদের নিরাপত্তার জন্য অভিভাবকদের উদ্বেগ স্বাভাবিক, কিন্তু তা শিশুদের স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার অন্তরায় হয়ে উঠলে তা আরও বেশি উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন এই গবেষকরা।