অমর একুশে বইমেলা ঘুরে দেখেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বইমেলার বাংলা একাডেমি অংশে আসেন। সেখানে এসে তিনি চায়না বুক হাউস পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ইংরেজিতে ভাষায় লেখা চীনা নববর্ষ সম্পর্কিত দুটি শিশুতোষ বই দুইজন শিশুকে উপহার দেন। এ সময় চীনা রীতিতে চা পরিবেশন ও ছবি আঁকার আয়োজন করেন কনফুসিয়াস ইন্সটিটিউটের শিক্ষকরা।
এ সময় রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বইমেলার আয়োজন বাংলাদেশ সরকারের দারুন একটি সিদ্ধান্ত। যদিও করোনা মহামারির কারণে কয়েক বছর এটি স্বাভাবিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। এটা আনন্দের বিষয় যে বাংলাদেশের মানুষ এখনো বই পড়ছেন, জ্ঞানের আলোয় সমৃদ্ধ হচ্ছেন। আমরা চীনা দূতাবাস থেকে বইমেলায় একটি স্টল থাকার প্রয়োজনীতা অনুভব করেছি। বইমেলায় এ নিয়ে আমাদের স্টল (চায়না বুক হাউস) তৃতীয় বছরের মতো বসলো। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বন্ধুরা চীনের ভাষা, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও আধুনিক চীন সম্পর্কে জানতে পারবে। এটি আমাদের সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে।
এরপর রাষ্ট্রদূত বইমেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গন ঘুরে দেখেন ও বইমেলা আয়োজনের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় রাষ্ট্রদূত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা আমার দেখা নয়াচীন বইয়ের একটি ইংরেজি অনুবাদ কেনেন। পাশাপাশি তিনি বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনার লেখা ‘পিপল অ্যান্ড ডেমক্রেসি‘ বইটিও কেনেন।
এ সময় তিনি সামনের দিনগুলোতে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও জোরদার হবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ–চীনের মধ্যে বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা এ সম্পর্কের ভিত্তি। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে কয়েকবছর ধরেই চীনের অবদান সর্বোচ্চ। পদ্মা ব্রিজসহ বাংলাদেশ–চীনের যৌথ প্রকল্পগুলো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ বছর রয়েছে চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু টানেলের নির্মাণকাজ৷ এটিও বড় একটি প্রকল্প।
স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রার প্রশংসা করে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী চিন্তাভাবনা। বাংলাদেশকে তিনি ২০৪১ সালের মধ্যেই স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করতে চান। আমরাও এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এর অংশীদার হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চাই। আমরা আরও বড় বড় প্রকল্প ও অর্থনৈতিক সহয়তা করতে চাই।
চীন–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কোনো পক্ষ অবলম্বন করবে না বলে প্রত্যাশা করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ–চীনের বন্ধুত্ব পরীক্ষিত। তৃতীয় কোনো পক্ষের জন্য এ সম্পর্ক নষ্ট হবে না।