ব্যক্তি যখন শিশু থাকে তখন সে শিশু সুলভ কথা বলে, যা শুনতে বেশ ভালোই লাগে, কিন্তু উক্ত ব্যক্তির ক্রমান্বয়ে বয়ঃবৃদ্ধি লাভ করে, শিক্ষা-দীক্ষা অভিজ্ঞতায় প্রবৃদ্ধি লাভ করে, তখন তাকে অবশ্যই বিজ্ঞজনোচিত বক্তব্য দিতে হবে।
বলছি মানব সমাজের অগ্রগতি প্রবৃদ্ধির কথা নিয়ে; ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ও প্রাপ্ত কিতাবের আলোকে দেখা যায়, সর্বশক্তিমান খোদা নিজের সুরতে স্বীয় প্রতিনিধি হিসেবে মাত্র একজন মানুষ সৃষ্টি করেছেন; তারপর তাকে দোয়া ও ক্ষমতা দিলেন, প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হবার জন্য। এ হলো আদম জাতির সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত।
যদিও খোদা ও মানুষের মধ্যে রয়েছে একটা আন্তরিক সৌহার্দ্য, কিন্তু মানুষের জাতশত্র“ যে নেই তা বলি কি করে? খোদার অবাধ্য আত্মা, যে কিনা মানুষ রচনার ঘোর বিরোধিতা করেছিল, উক্ত ইবলিস খোদার সুরতে গড়া মানুষটিকে মেনে নিতে পারলো না। অবশ্য খোদাদ্রোহী কাজের জন্য তাকে হতে হয়েছে বিতাড়িত ও অভিশপ্ত। প্রত্যেক ব্যক্তি ধর্মীয় বয়ান দেবার পূর্বে খোদার কাছে সাহায্য কামনা করে ইবলিসের ক্ষতিকারক আঘাত থেকে বেঁচে থাকার জন্য। যেমন আরবি ভাষায় বলা হয়, ‘আউজুবিলাহ হে মিনআস শাইতোয়ানের রাজিম’ অর্থাৎ অভিশপ্ত ইবলিসের আঘাত থেকে আমি বাঁচতে চাই, আর তা বলা হয় খোদার কাছে।
তাই দেখা যায়, শয়তান হলো মানুষের চরম শত্রু, আর খোদার গৌরব হানিকর এক অপশক্তি। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, উক্ত ইবলিস নিজেকে ছলাকলার মধ্য দিয়ে মানুষের স্বজন-প্রিয়জন সেজে, মানুষের চরম ক্ষতি করে আসছে, যা বর্তমান সমাজেও উক্ত ইবলিস তেমন ক্ষতিকারক কর্মকান্ড জোরেসোরে চালিয়ে চলছে। মানুষ ধোকা খেয়ে আসছে; যেমন অতীতে, তেমন বর্তমান যুগে কোনো অংশে কম ঠকছে না।
খোদা যখন মানুষ সৃষ্টি করলেন, তখন তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করলেন এদন নামক এক বাগান বাড়িতে; যেথা পরম সুখেই তারা জীবন-যাপন করছিলেন। খোদা ও আদমের সাথে প্রায়শঃ আলাপ-আলোচনা ও কুশল বিনিময় হতো, যাকে বলা চলে অভিযাত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ। আদমের সন্তান সন্তুতি একই প্রেম, সুখ-শান্তি নিয়ে হেথা জীবন-যাপন করবে, তেমন প্রত্যাশা বড়ই স্বাভাবিক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আদম-হাওয়া হলেন বিতাড়িত, তারা ইবলিসের কুটচালে রাজী হবার ফলে খোদার বিরুদ্ধে কাজ করে বসলেন, আর তাদের পুত্রদ্বয় পাপাচারে এতটাই লিপ্ত ও ক্ষিপ্ত হয়ে পড়লো যে একজন আর একজনকে অর্থাৎ কাবিল হাবিলকে হত্যা করে বসলো।
দেখা যায় বিতাড়িত আদম খোদার মাষ্টার প্লান ভঙ্গ করে ও মানুষ হত্যার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করলো। আর মানুষ খুন করা হলো ইবলিসের কর্মকান্ড, তথা মানুষ বাঁচাবার দায়িত্ব পরম করুনাময় খোদা নিজের হাতে পালন করে চলছেন।
আদম এক ঐতিহাসি ব্যক্তিত্ব, কিন্তু খোদা কেবল ইতিহাসের পাতায় নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রাখেন নি, তিনি চিরায়ত, সনাতন, আদিতে যেমন ছিলেন, বর্তমানে তেমনই আছেন এবং অনাগত ভবিষ্যতজুড়ে একই থাকবেন। যেহেতু খোদা বর্তমান, তাই আমাদের সম্মুখে যতই গোলাক-ধাঁধাঁ থাক না কেন, এর একটা সুষ্ঠু সমাধান পেয়ে যাব বা যাচ্ছি মুহুর্তের মধ্যে।
মানুষের জীবন বর্তমান, নিয়ম কানুন, লেনাদেনা, অংশিদারিত্ব ততক্ষন পর্যন্ত কার্যকর থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ থাকে জীবিত। মৃত ব্যক্তির আমলনামা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সাথে সাথে বন্ধ করে দেয়া হয়। উক্ত খতিয়ানে যোগ-বিয়োগ দেয়া আর সম্ভব থাকে না। যা কিছু করার প্রয়োজন, তার সবটুকু ব্যক্তির জীবদ্দশায় করতে হবে। যদিও মরণোত্তর উপাধি দিতে দেখা যায়, তবে উক্ত উপাধি বা উপঢৌকন ব্যক্তির বংশধরদের কারো হাতে তুলে দেয়া হয়, যাকে উক্ত উপঢৌকন দেয়া হলো, তাকে আর পাবে কোথা!
বর্তমান বিশ্বে মানব সমাজের মধ্যে প্রচলিত ধর্মিয় আচার অনুষ্ঠান যতগুলো পালন করতে দেখা যায় তার সবকটা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে কর্জ করা, বর্তমান প্রজন্মের সহায়ক সুখ-শান্তি সমৃদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে খুব একটা বিবেচনা করা হয় না। তা কেবল ঐতিহ্য ধরে রাখা। এতদবিষয় বিবেচনা করা নিশিদ্ধ, কেন প্রাগৈতিহাসিক বা ঐতিহাসিক যুগে তদানিন্তন ব্যক্তিবর্গ ঐ সকল আচার-অনুষ্ঠানে রচনা করেছিলেন বা কোন কারণে তাদের নিয়ম কানুন বর্তমান জামানায় সমগুরুত্বসহকারে পালন করতে হবে, চাই এর সময়োপযোগি বিশ্লেষণমূলক ব্যাখ্যা।
ধরুন, তখনও ঘড়ি আবি®কৃত হয় নি, তেমন অবস্থায় সূর্যের গতিবিধি অনুযায়ী মানুষ চলাচল করতে বাধ্য ছিল। তার পূর্বে যখন আগুন আবিষ্কার হয় নি, তখন মানুষ আর দশটি প্রাণীর মতো অসিদ্ধ খাবার খেতে বাধ্য ছিল। বর্তমান থেকে বিগত শতবৎসর পূর্বে এক স্থান থেকে আর একস্থানে যেতে বা খবরাখবর পৌছাতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতো, আর বর্তমানে, বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ফলে, সেকেন্ডের মধ্যে এক প্রান্তের ঘটে যাওয়া খবর অন্যপ্রান্তে পৌছে দেয়া হচ্ছে, শুধু খবর বলব কেন, সচিত্র সংবাদ পৌছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে, মানুষকে সজাগ সচেতন করা যাচ্ছে। প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটলে জনকল্যাণের স্বার্থে অবশ্যই গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, যা হবে প্রত্যেকটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।
বিশ্ব বেগবান, মানুষ চলমান, অন্ধকারের যুগ পিছনে ফেলে আজ আমরা আলোর জগতে পৌছে গেছি, হতে পারছি চলমান। খোদার মহান পরিকল্পনা মানুষ সৃষ্টি, যারা পারষ্পরিক প্রেম সহমর্মিতায় থাকবে ঐকান্তিক, তেমন একটি সমাজ গড়ে তোলা। খোদা আমাদের সাথে সাথে এগিয়ে চলছেন, আমাদের চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, অবশ্য আমাদের চিরদুষমন, ছায়ার মতো করে, আমাদের অনুসরণ করেও চলছে, সে বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, ইবলিসাস্রিত ব্যক্তিবর্গ সহ্যই করতে পারে না, ওর ফন্দি-ফিকির নিয়ে আলোচনা করা, যেমন অপরাধী ব্যক্তি সদা মুখোশের আড়ালে তার অপরাধকর্ম চালিয়ে থাকে; কেউ যে তার পরিচয় জনসমক্ষে তুলে ধরে তা তো তার সহ্য হবার নয়! অথচ ধর্মীয় বয়ান দেবার জন্য মুখ খুলেই সকলে একটি বাক্য উচ্চারণ করে, যার অর্থ হলো, ‘অভিশপ্ত ইবলিসের কবল থেকে বেঁচে থাকার আর্জি’।
জীবন পথে চলার জন্য আপনাকে ভালো-মন্দ, আলো-আঁধার, সত্যমিথ্যার দোলাচলে চলতে হচ্ছে, কখনো কখনো সম্পূর্ণ হতাশ হয়ে পড়ছেন, তখন কোনো ট্রাডিশন বা ঐতিহ্য আপনার উপকারে পাশে এসে দাঁড়ায় না তখন সেই সহায় আপনাকে রক্ষা করেন, যিনি এক বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি হলেন সনাতন প্রভু। তিনি নিত্যদিন আপনার হৃদয় দ্বারে দাঁড়িয়ে করাঘাত করে চলছেন (প্রকাশিত কালাম ৩ ঃ ২০)।
মানুষ হলো খোদার প্রতিনিধি, আর তা জন্মসূত্রে। যেমন, কেউ যদি উন্নত বিশ্বে জন্মসূত্রে নাগরিক হয়ে থাকে, তবে ব্যক্তি নিজেকে নরকুলপতি মনে করে, তাই অনুন্নত দেশের নাগরিকবৃন্দ মনে মনে আফসোস করে, কামনা করে উক্ত উন্নত দেশের প্রজাবৃন্দ হবার বাসনা।
আজকে গোটা মানব সমাজ কেবল খন্ডিতাংশমাত্র যা পাপের বিষে থাকছে সদা যন্ত্রণাকাতর। পাপের প্রভাবে তাদের দ্বারা নিয়ত ঘটে চলছে অশান্তিজনক কাজগুলো, যা তাদের তটস্থ করে রাখে ও খোদার গৌরব বিনষ্ট করে ছাড়ে। মানুষের মধ্যে বর্তমানকার বিভক্তি কেবল ইবলিসের চালে চলতে গিয়ে হয়েছে সৃষ্ট। খোদা তো মাত্র একজন মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তাঁর মহান পরিকল্পনা হলো, সকল মানুষ মিলেমিশে সুখে শান্তিতে বসবাস করবে, বয়ে আনবে খোদার গৌরব। যেমন বরফগলা জলফোটা নিঃশর্তভাবে পরষ্পর মিলে গিয়ে মহাশক্তিধর একটি বেগে হয়ে ওঠে পরিণত, যার সম্মুখে দাঁড়িয়ে বাধা দিতে গিয়ে পাহাড়-পর্বত পর্যন্ত, খড়কুটো সম, অবলিলায় ভেসে যায়। মানুষ যদি পরষ্পর তেমন নিঃশর্তভাবে ঐশি প্রেমে মিলেমিশে চলে, তবে ইবলিসের সকল শক্তি ফুৎকারে উধাউ হতে বাধ্য। যদিও ইবলিস সকল মানুষকে ঘোলাজল খাইয়ে ছেড়েছে, কিন্তু মসিহের কাছে হয়ে পড়েছে মারাত্মকভাবে পরাভুত। খোদা অবশ্য বলেছেন, পূর্বাভাস দিয়েছেন, একমাত্র মসিহই ইবলিসের মস্তক করবে চূর্ণ-বিচূর্ণ (পয়দায়েশ ৩ ঃ ১৫)।
মানুষ বেঁচে থাকে বর্তমান নিয়ে, জগতের যতলোক ভুল কাজ করেছে, হেরে গেছে, হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ তেমন লোকদের দৃষ্টান্ত বাদশাহ সলোমান তার লেখায় তুলে ধরেছেন এবং নিজের ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করে তবেই হতে পেরেছেন বিজ্ঞ সলোমান। অতীত জীবনে আমরা পড়ে থাকবো না, কোনো মানুষ পতীত অতীত নিয়ে বাঁচতে পারে না। মানুষ বাঁচে বর্তমান নিয়ে। খোদা হলেন বর্তমান, সনাতনও বটে। যে মুহুর্তটি আপনার জীবন থেকে চলে গেল তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়! আপনাকে সম্মুখপানে তাকাতে হবে। ভুলে যেতে হবে অতীতের ভুলগুলো, প্রস্তুত থাকতে হবে বর্তমানকে নিয়ে।
অতীতে যারা আপনার ক্ষতি করেছে, তাদের অবশ্যই ভুলে যেতে হবে, ক্ষমা করতে হবে, আর মহাজ্ঞানি খোদা তো আপনাকে নিয়ত হেফাজত করে রাখছেন, তাই আপনার কাছে যারা অপরাধি, তাদের বেকসুর ক্ষমা করতে আপনার আপত্তি কোথা? আপনি নিজেও তো তেমন ক্ষমা পেয়ে বর্তমানকার জীবন করছেন যাপন। সুতরাং নিজের জন্য লভ্য যাকিছু চমৎকার তার ভাগ চেনাজানা, অজানা-অচেনা লোকদের পাতে দিলে তারা অবশ্যই আপনাকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসবে। খোদার প্রতি প্রেম হলো পরিষ্কার মানবতার প্রেম। আপনি যখন মানুষ জবেহ করলেন, তখন কি আপনি খোদার সাথে যুক্ত ছিলেন না পরিষ্কার ইবলিসের জালে জড়িয়ে ছিলেন, একটু ভেবে দেখবেন কি? আপনার হীন স্বার্থপরতা আপনাকে চরমভাবে ডুবিয়েছে। সেকথা প্রাঞ্জলভাবে স্বীকার করতে আপত্তি কেন? বার্মুডা ট্রায়েঙ্গেলে যে ঘোর বিপর্যয় থেকে নিজে নিজে উদ্ধার তো পাবেন না, গোটা বিশ্ববাসির যৌথ শক্তিতেও হেথা থেকে বের হবার উপায় নেই। আপনার মৃত্যু নির্ঘাৎ।
জেনে খুশি হবেন আপনাকে আমাকে পতনের শেষপ্রান্ত থেকে উদ্ধার করার জন্য খোদার পুত্র খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ উক্ত ট্রায়েঙ্গেল পর্যন্ত পৌছে গেছেন, ফলে আজ আমরা বেঁচে গেলাম। খোদার প্রকৃত সেবা, সাচ্ছন্দে করে চলছি, একমাত্র আরাধ্য ব্রত ভেবে (মথি ৬ ঃ ৩৩)। কতিপয় বাক্য পুনঃপুন উচ্চারণ করাতে খোদার সেবা হতে পারে না। তেমন প্রবণতা কেবল পাগল ও ধোকাবাজদের মুখেই মানায়। পয়গাম কেবল পাঠের জন্য লেখা হয় না, হয় না হয় না শুধু বিতরণ করার জন্য, পত্র লেখা, প্রেরণ করা, বিতরণ করা হয় লোকদের অকুস্থলে হাজির করার জন্য। যেমন ভোজের দাওয়াত পত্র মুখস্ত করায় লাভ নেই, বরং উক্ত দিনক্ষণে ভোজের স্থানে গিয়ে শরিক হওয়া ও উপভোগ করাতে পত্র প্রেরকের আশাপূর্ণ হলো। আপনাকে দেখে তিনি খুশি হলেন। মসিহ তাই শ্রান্ত-ক্লান্ত ভারাক্রান্ত লোকদের আহŸান জ্ঞাপন করেছেন, তারা সকলেই এসে মসিহের ক্রোড়ে ঠাই নেয় (মথি ১১ ঃ ২৮)। তাই আজ পতিত ব্যক্তিদের জন্য খোশ খবর দেয়া হলো, তাদের এক বিশেষ ভোজে অংশ গ্রহণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলো, যেন নির্ঘণ্ট অনুযায়ী উক্ত ভোজে গিয়ে অংশ গ্রহন করে, পানাহার করে তৃপ্ত হতে পারে, জীবনের যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে পেতে পারে মুক্তি, জীবনটি যেন আবার সার্থক জীবন হয়ে ওঠে, যা হলো মাষ্টার প্লানের বাস্তবায়ন (পয়দায়েশ ১ ঃ ২৬-২৮)।
আমাদের দেশে তেল নির্যাসের জন্য কাঠের ঘানি ব্যবহৃত হতো, বর্তমানে লোহার ঘানি আবিষ্কারের ফলে, কাঠের ঘানির প্রচলন বহুলাংশে অচল হয়ে গেছে। কথায় বলা হয়, কুলুর বলদ! যার অর্থ হলো বলদ দিয়ে উক্ত ঘানি টানানো হতো। বলদের চোখ বেধে দিয়ে পাচন দিয়ে একটা ঘা মেরে দিলেই উক্ত বলদটি বর্তুলাকারে ঘানির চারদিকে ঘুরতে থাকে। এর অধিক কিছু জানার দরকার নেই বলদটির।
খোদার কালাম মানবজীবনে বয়ে আনবে আমূল পরিবর্তন। অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ থেকে আলোর যুগে প্রবেশের তাগিদ রয়েছে উক্ত কালামে। মানুষ মানুষের স্বজন-প্রিয়জন, একই পরিবার থেকে হয়েছে সকলের জন্ম। তাই তারা বহুভাগে বিভক্ত তথা সাপ-নেউলের সম্পর্কে বসবাস করতেই পারে না। প্রশ্নই জাগে না। যারা কালাম নিয়ে চর্চা করে চলছে, প্রশ্ন রাখবো কেবল তাদের কাছে। আপনারা কোন গ্রন্থ পাঠ করছেন? বিভেধের গ্রন্থ না মিলনের গ্রন্থ? চোর আসে চুরি, খুন ও নষ্ট করার জন্য, আর মসিহ এসেছেন আর্তপিড়ীত দুঃস্থদের জীবন ফিরিয়ে দেবার জন্য (ইউহোন্না ১০ ঃ ১০)। আপনার হাতে শাণিত তরবারি কতোটা শোভা পায় তা আমার কাছে শংসয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইবলিস মারার জন্য তরবারী অথবা পাথর মারা সম্পূর্ণ বেমানান; তেমন ক্ষেত্রে খোদার কালাম, যা দ্বিধার ছোরার মত ‘আলাহর কালাম জীবন্ত ও কার্যকর এবং দু’দিকেই ধার আছে এমন ছোরার চেয়েও ধারালো। এই কালাম মানুষের দিল-রূহ ও অস্থি-মজ্জার গভীরে কেটে বসে এবং মানুষের দিলের সমস্ত ইচ্ছা ও চিন্তা পরীক্ষা করে দেখে’ (ইবরানী ৪ ঃ ১২)। তাই জীবন্ত খোদার জীবন্ত কর্মক্ষম কালাম মোক্ষম, অভ্রান্ত ইবলিসের মস্তক চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবার জন্য।
আসুন, অন্ধকারের কর্মকান্ড পরিহার করে সাচ্ছন্দে আলোর রাজ্যে বসবাস শরু করি।
‘তাহলে মসিহের সঙ্গে যুক্ত হবার ফলে যখন উৎসাহ পাওয়া যায়, মসিহের মহব্বতের ফলে সান্ত্বনা পাওয়া যায়, পাক-রূহ ও তোমাদের মধ্যে যখন যোগাযোগ সম্বন্ধ আছে, তোমাদের দিলে যখন স্নেহ ও দয়ামায়া আছে, তখন তোমরা এভাবে আমার আনন্দ পূর্ণ করÑ তোমাদের সকলের মন এক হোক, তোমরা একে অন্যকে মহব্বত কর এবং মনে-প্রাণে এক হও। নিজের লাভের আশায় বা অহংকারের বশে কিছু করো না, বরং নম্রভাবে অন্যকে নিজের চেয়ে বড় স্থান দাও। কেবল নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থেকো না, বরং একে অন্যের জন্য চিন্তা কর। ঈসা মসিহের যে মনোভাব ছিল তা যেন তোমাদের দিলেও থাকে। আসলে তিনি আলাহ রইলেন, কিন্তু আলাহর সমান থাকা তিনি আঁকড়ে ধরে রাখবার মত এমন কিছু মনে করেন নি। তিনি বরং গোলাম হয়ে এবং মানুষ হিসাবে জন্মগ্রহণ করে নিজেকে সীমিত করে রাখলেন। এছাড়া চেহারায় মানুষ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত, এমন কি, ক্রুশের উপরে মৃত্যু পর্যন্ত বাধ্য থেকে তিনি নিজেকে নীচু করলেন। আলাহ এজন্যই তাঁকে সবচেয়ে উঁচুতে উঠালেন এবং এমন একটা নাম দিলেন যা সব নামের চেয়ে মহৎ, যেন বেহেশতে, দুনিয়াতে এবং দুনিয়ার গভীরে যারা আছে তারা প্রত্যেকেই ঈসার সামনে হাঁটু পাতে, আর পিতা আলাহর গৌরবের জন্য স্বীকার করে যে, ঈসা মসিহই প্রভু’ (ফিলিপীয় ২ ঃ ১-১১)।
‘অন্ধকারের নিষ্ফল কাজের সংগে তোমাদের যোগ না থাকুক; তোমরা বরং সেগুলোর দোষ দেখিয়ে দাও, কারণ মানুষের গোপনে করা এই সব কাজের কথা বলাও লজ্জার বিষয়’ (ইফিষীয় ৫ ঃ ১১-১২)।
‘আমি জানি আপনারা ইব্রাহিমের বংশের লোক, কিন্তু তবুও আপনারা আমাকে হত্যা করতে চাইছেন, কারণ আমার কথা আপনাদের দিলে কোন স্থান পায় না। আমি আমার পিতার কাছে যা দেখেছি সেই বিষয়েই বলি, আর আপনারা আপনাদের পিতার কাছ থেকে যা শুনেছেন তা-ই করে থাকেন’ (ইউহোন্না ৮ ঃ ৩৭-৩৮)।
বলছি মানব সমাজের অগ্রগতি প্রবৃদ্ধির কথা নিয়ে; ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ও প্রাপ্ত কিতাবের আলোকে দেখা যায়, সর্বশক্তিমান খোদা নিজের সুরতে স্বীয় প্রতিনিধি হিসেবে মাত্র একজন মানুষ সৃষ্টি করেছেন; তারপর তাকে দোয়া ও ক্ষমতা দিলেন, প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হবার জন্য। এ হলো আদম জাতির সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত।
যদিও খোদা ও মানুষের মধ্যে রয়েছে একটা আন্তরিক সৌহার্দ্য, কিন্তু মানুষের জাতশত্র“ যে নেই তা বলি কি করে? খোদার অবাধ্য আত্মা, যে কিনা মানুষ রচনার ঘোর বিরোধিতা করেছিল, উক্ত ইবলিস খোদার সুরতে গড়া মানুষটিকে মেনে নিতে পারলো না। অবশ্য খোদাদ্রোহী কাজের জন্য তাকে হতে হয়েছে বিতাড়িত ও অভিশপ্ত। প্রত্যেক ব্যক্তি ধর্মীয় বয়ান দেবার পূর্বে খোদার কাছে সাহায্য কামনা করে ইবলিসের ক্ষতিকারক আঘাত থেকে বেঁচে থাকার জন্য। যেমন আরবি ভাষায় বলা হয়, ‘আউজুবিলাহ হে মিনআস শাইতোয়ানের রাজিম’ অর্থাৎ অভিশপ্ত ইবলিসের আঘাত থেকে আমি বাঁচতে চাই, আর তা বলা হয় খোদার কাছে।
তাই দেখা যায়, শয়তান হলো মানুষের চরম শত্রু, আর খোদার গৌরব হানিকর এক অপশক্তি। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, উক্ত ইবলিস নিজেকে ছলাকলার মধ্য দিয়ে মানুষের স্বজন-প্রিয়জন সেজে, মানুষের চরম ক্ষতি করে আসছে, যা বর্তমান সমাজেও উক্ত ইবলিস তেমন ক্ষতিকারক কর্মকান্ড জোরেসোরে চালিয়ে চলছে। মানুষ ধোকা খেয়ে আসছে; যেমন অতীতে, তেমন বর্তমান যুগে কোনো অংশে কম ঠকছে না।
খোদা যখন মানুষ সৃষ্টি করলেন, তখন তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করলেন এদন নামক এক বাগান বাড়িতে; যেথা পরম সুখেই তারা জীবন-যাপন করছিলেন। খোদা ও আদমের সাথে প্রায়শঃ আলাপ-আলোচনা ও কুশল বিনিময় হতো, যাকে বলা চলে অভিযাত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ। আদমের সন্তান সন্তুতি একই প্রেম, সুখ-শান্তি নিয়ে হেথা জীবন-যাপন করবে, তেমন প্রত্যাশা বড়ই স্বাভাবিক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আদম-হাওয়া হলেন বিতাড়িত, তারা ইবলিসের কুটচালে রাজী হবার ফলে খোদার বিরুদ্ধে কাজ করে বসলেন, আর তাদের পুত্রদ্বয় পাপাচারে এতটাই লিপ্ত ও ক্ষিপ্ত হয়ে পড়লো যে একজন আর একজনকে অর্থাৎ কাবিল হাবিলকে হত্যা করে বসলো।
দেখা যায় বিতাড়িত আদম খোদার মাষ্টার প্লান ভঙ্গ করে ও মানুষ হত্যার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করলো। আর মানুষ খুন করা হলো ইবলিসের কর্মকান্ড, তথা মানুষ বাঁচাবার দায়িত্ব পরম করুনাময় খোদা নিজের হাতে পালন করে চলছেন।
আদম এক ঐতিহাসি ব্যক্তিত্ব, কিন্তু খোদা কেবল ইতিহাসের পাতায় নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রাখেন নি, তিনি চিরায়ত, সনাতন, আদিতে যেমন ছিলেন, বর্তমানে তেমনই আছেন এবং অনাগত ভবিষ্যতজুড়ে একই থাকবেন। যেহেতু খোদা বর্তমান, তাই আমাদের সম্মুখে যতই গোলাক-ধাঁধাঁ থাক না কেন, এর একটা সুষ্ঠু সমাধান পেয়ে যাব বা যাচ্ছি মুহুর্তের মধ্যে।
মানুষের জীবন বর্তমান, নিয়ম কানুন, লেনাদেনা, অংশিদারিত্ব ততক্ষন পর্যন্ত কার্যকর থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ থাকে জীবিত। মৃত ব্যক্তির আমলনামা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সাথে সাথে বন্ধ করে দেয়া হয়। উক্ত খতিয়ানে যোগ-বিয়োগ দেয়া আর সম্ভব থাকে না। যা কিছু করার প্রয়োজন, তার সবটুকু ব্যক্তির জীবদ্দশায় করতে হবে। যদিও মরণোত্তর উপাধি দিতে দেখা যায়, তবে উক্ত উপাধি বা উপঢৌকন ব্যক্তির বংশধরদের কারো হাতে তুলে দেয়া হয়, যাকে উক্ত উপঢৌকন দেয়া হলো, তাকে আর পাবে কোথা!
বর্তমান বিশ্বে মানব সমাজের মধ্যে প্রচলিত ধর্মিয় আচার অনুষ্ঠান যতগুলো পালন করতে দেখা যায় তার সবকটা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে কর্জ করা, বর্তমান প্রজন্মের সহায়ক সুখ-শান্তি সমৃদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে খুব একটা বিবেচনা করা হয় না। তা কেবল ঐতিহ্য ধরে রাখা। এতদবিষয় বিবেচনা করা নিশিদ্ধ, কেন প্রাগৈতিহাসিক বা ঐতিহাসিক যুগে তদানিন্তন ব্যক্তিবর্গ ঐ সকল আচার-অনুষ্ঠানে রচনা করেছিলেন বা কোন কারণে তাদের নিয়ম কানুন বর্তমান জামানায় সমগুরুত্বসহকারে পালন করতে হবে, চাই এর সময়োপযোগি বিশ্লেষণমূলক ব্যাখ্যা।
ধরুন, তখনও ঘড়ি আবি®কৃত হয় নি, তেমন অবস্থায় সূর্যের গতিবিধি অনুযায়ী মানুষ চলাচল করতে বাধ্য ছিল। তার পূর্বে যখন আগুন আবিষ্কার হয় নি, তখন মানুষ আর দশটি প্রাণীর মতো অসিদ্ধ খাবার খেতে বাধ্য ছিল। বর্তমান থেকে বিগত শতবৎসর পূর্বে এক স্থান থেকে আর একস্থানে যেতে বা খবরাখবর পৌছাতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতো, আর বর্তমানে, বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ফলে, সেকেন্ডের মধ্যে এক প্রান্তের ঘটে যাওয়া খবর অন্যপ্রান্তে পৌছে দেয়া হচ্ছে, শুধু খবর বলব কেন, সচিত্র সংবাদ পৌছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে, মানুষকে সজাগ সচেতন করা যাচ্ছে। প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটলে জনকল্যাণের স্বার্থে অবশ্যই গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, যা হবে প্রত্যেকটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।
বিশ্ব বেগবান, মানুষ চলমান, অন্ধকারের যুগ পিছনে ফেলে আজ আমরা আলোর জগতে পৌছে গেছি, হতে পারছি চলমান। খোদার মহান পরিকল্পনা মানুষ সৃষ্টি, যারা পারষ্পরিক প্রেম সহমর্মিতায় থাকবে ঐকান্তিক, তেমন একটি সমাজ গড়ে তোলা। খোদা আমাদের সাথে সাথে এগিয়ে চলছেন, আমাদের চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, অবশ্য আমাদের চিরদুষমন, ছায়ার মতো করে, আমাদের অনুসরণ করেও চলছে, সে বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, ইবলিসাস্রিত ব্যক্তিবর্গ সহ্যই করতে পারে না, ওর ফন্দি-ফিকির নিয়ে আলোচনা করা, যেমন অপরাধী ব্যক্তি সদা মুখোশের আড়ালে তার অপরাধকর্ম চালিয়ে থাকে; কেউ যে তার পরিচয় জনসমক্ষে তুলে ধরে তা তো তার সহ্য হবার নয়! অথচ ধর্মীয় বয়ান দেবার জন্য মুখ খুলেই সকলে একটি বাক্য উচ্চারণ করে, যার অর্থ হলো, ‘অভিশপ্ত ইবলিসের কবল থেকে বেঁচে থাকার আর্জি’।
জীবন পথে চলার জন্য আপনাকে ভালো-মন্দ, আলো-আঁধার, সত্যমিথ্যার দোলাচলে চলতে হচ্ছে, কখনো কখনো সম্পূর্ণ হতাশ হয়ে পড়ছেন, তখন কোনো ট্রাডিশন বা ঐতিহ্য আপনার উপকারে পাশে এসে দাঁড়ায় না তখন সেই সহায় আপনাকে রক্ষা করেন, যিনি এক বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি হলেন সনাতন প্রভু। তিনি নিত্যদিন আপনার হৃদয় দ্বারে দাঁড়িয়ে করাঘাত করে চলছেন (প্রকাশিত কালাম ৩ ঃ ২০)।
মানুষ হলো খোদার প্রতিনিধি, আর তা জন্মসূত্রে। যেমন, কেউ যদি উন্নত বিশ্বে জন্মসূত্রে নাগরিক হয়ে থাকে, তবে ব্যক্তি নিজেকে নরকুলপতি মনে করে, তাই অনুন্নত দেশের নাগরিকবৃন্দ মনে মনে আফসোস করে, কামনা করে উক্ত উন্নত দেশের প্রজাবৃন্দ হবার বাসনা।
আজকে গোটা মানব সমাজ কেবল খন্ডিতাংশমাত্র যা পাপের বিষে থাকছে সদা যন্ত্রণাকাতর। পাপের প্রভাবে তাদের দ্বারা নিয়ত ঘটে চলছে অশান্তিজনক কাজগুলো, যা তাদের তটস্থ করে রাখে ও খোদার গৌরব বিনষ্ট করে ছাড়ে। মানুষের মধ্যে বর্তমানকার বিভক্তি কেবল ইবলিসের চালে চলতে গিয়ে হয়েছে সৃষ্ট। খোদা তো মাত্র একজন মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তাঁর মহান পরিকল্পনা হলো, সকল মানুষ মিলেমিশে সুখে শান্তিতে বসবাস করবে, বয়ে আনবে খোদার গৌরব। যেমন বরফগলা জলফোটা নিঃশর্তভাবে পরষ্পর মিলে গিয়ে মহাশক্তিধর একটি বেগে হয়ে ওঠে পরিণত, যার সম্মুখে দাঁড়িয়ে বাধা দিতে গিয়ে পাহাড়-পর্বত পর্যন্ত, খড়কুটো সম, অবলিলায় ভেসে যায়। মানুষ যদি পরষ্পর তেমন নিঃশর্তভাবে ঐশি প্রেমে মিলেমিশে চলে, তবে ইবলিসের সকল শক্তি ফুৎকারে উধাউ হতে বাধ্য। যদিও ইবলিস সকল মানুষকে ঘোলাজল খাইয়ে ছেড়েছে, কিন্তু মসিহের কাছে হয়ে পড়েছে মারাত্মকভাবে পরাভুত। খোদা অবশ্য বলেছেন, পূর্বাভাস দিয়েছেন, একমাত্র মসিহই ইবলিসের মস্তক করবে চূর্ণ-বিচূর্ণ (পয়দায়েশ ৩ ঃ ১৫)।
মানুষ বেঁচে থাকে বর্তমান নিয়ে, জগতের যতলোক ভুল কাজ করেছে, হেরে গেছে, হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ তেমন লোকদের দৃষ্টান্ত বাদশাহ সলোমান তার লেখায় তুলে ধরেছেন এবং নিজের ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করে তবেই হতে পেরেছেন বিজ্ঞ সলোমান। অতীত জীবনে আমরা পড়ে থাকবো না, কোনো মানুষ পতীত অতীত নিয়ে বাঁচতে পারে না। মানুষ বাঁচে বর্তমান নিয়ে। খোদা হলেন বর্তমান, সনাতনও বটে। যে মুহুর্তটি আপনার জীবন থেকে চলে গেল তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়! আপনাকে সম্মুখপানে তাকাতে হবে। ভুলে যেতে হবে অতীতের ভুলগুলো, প্রস্তুত থাকতে হবে বর্তমানকে নিয়ে।
অতীতে যারা আপনার ক্ষতি করেছে, তাদের অবশ্যই ভুলে যেতে হবে, ক্ষমা করতে হবে, আর মহাজ্ঞানি খোদা তো আপনাকে নিয়ত হেফাজত করে রাখছেন, তাই আপনার কাছে যারা অপরাধি, তাদের বেকসুর ক্ষমা করতে আপনার আপত্তি কোথা? আপনি নিজেও তো তেমন ক্ষমা পেয়ে বর্তমানকার জীবন করছেন যাপন। সুতরাং নিজের জন্য লভ্য যাকিছু চমৎকার তার ভাগ চেনাজানা, অজানা-অচেনা লোকদের পাতে দিলে তারা অবশ্যই আপনাকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসবে। খোদার প্রতি প্রেম হলো পরিষ্কার মানবতার প্রেম। আপনি যখন মানুষ জবেহ করলেন, তখন কি আপনি খোদার সাথে যুক্ত ছিলেন না পরিষ্কার ইবলিসের জালে জড়িয়ে ছিলেন, একটু ভেবে দেখবেন কি? আপনার হীন স্বার্থপরতা আপনাকে চরমভাবে ডুবিয়েছে। সেকথা প্রাঞ্জলভাবে স্বীকার করতে আপত্তি কেন? বার্মুডা ট্রায়েঙ্গেলে যে ঘোর বিপর্যয় থেকে নিজে নিজে উদ্ধার তো পাবেন না, গোটা বিশ্ববাসির যৌথ শক্তিতেও হেথা থেকে বের হবার উপায় নেই। আপনার মৃত্যু নির্ঘাৎ।
জেনে খুশি হবেন আপনাকে আমাকে পতনের শেষপ্রান্ত থেকে উদ্ধার করার জন্য খোদার পুত্র খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ উক্ত ট্রায়েঙ্গেল পর্যন্ত পৌছে গেছেন, ফলে আজ আমরা বেঁচে গেলাম। খোদার প্রকৃত সেবা, সাচ্ছন্দে করে চলছি, একমাত্র আরাধ্য ব্রত ভেবে (মথি ৬ ঃ ৩৩)। কতিপয় বাক্য পুনঃপুন উচ্চারণ করাতে খোদার সেবা হতে পারে না। তেমন প্রবণতা কেবল পাগল ও ধোকাবাজদের মুখেই মানায়। পয়গাম কেবল পাঠের জন্য লেখা হয় না, হয় না হয় না শুধু বিতরণ করার জন্য, পত্র লেখা, প্রেরণ করা, বিতরণ করা হয় লোকদের অকুস্থলে হাজির করার জন্য। যেমন ভোজের দাওয়াত পত্র মুখস্ত করায় লাভ নেই, বরং উক্ত দিনক্ষণে ভোজের স্থানে গিয়ে শরিক হওয়া ও উপভোগ করাতে পত্র প্রেরকের আশাপূর্ণ হলো। আপনাকে দেখে তিনি খুশি হলেন। মসিহ তাই শ্রান্ত-ক্লান্ত ভারাক্রান্ত লোকদের আহŸান জ্ঞাপন করেছেন, তারা সকলেই এসে মসিহের ক্রোড়ে ঠাই নেয় (মথি ১১ ঃ ২৮)। তাই আজ পতিত ব্যক্তিদের জন্য খোশ খবর দেয়া হলো, তাদের এক বিশেষ ভোজে অংশ গ্রহণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলো, যেন নির্ঘণ্ট অনুযায়ী উক্ত ভোজে গিয়ে অংশ গ্রহন করে, পানাহার করে তৃপ্ত হতে পারে, জীবনের যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে পেতে পারে মুক্তি, জীবনটি যেন আবার সার্থক জীবন হয়ে ওঠে, যা হলো মাষ্টার প্লানের বাস্তবায়ন (পয়দায়েশ ১ ঃ ২৬-২৮)।
আমাদের দেশে তেল নির্যাসের জন্য কাঠের ঘানি ব্যবহৃত হতো, বর্তমানে লোহার ঘানি আবিষ্কারের ফলে, কাঠের ঘানির প্রচলন বহুলাংশে অচল হয়ে গেছে। কথায় বলা হয়, কুলুর বলদ! যার অর্থ হলো বলদ দিয়ে উক্ত ঘানি টানানো হতো। বলদের চোখ বেধে দিয়ে পাচন দিয়ে একটা ঘা মেরে দিলেই উক্ত বলদটি বর্তুলাকারে ঘানির চারদিকে ঘুরতে থাকে। এর অধিক কিছু জানার দরকার নেই বলদটির।
খোদার কালাম মানবজীবনে বয়ে আনবে আমূল পরিবর্তন। অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ থেকে আলোর যুগে প্রবেশের তাগিদ রয়েছে উক্ত কালামে। মানুষ মানুষের স্বজন-প্রিয়জন, একই পরিবার থেকে হয়েছে সকলের জন্ম। তাই তারা বহুভাগে বিভক্ত তথা সাপ-নেউলের সম্পর্কে বসবাস করতেই পারে না। প্রশ্নই জাগে না। যারা কালাম নিয়ে চর্চা করে চলছে, প্রশ্ন রাখবো কেবল তাদের কাছে। আপনারা কোন গ্রন্থ পাঠ করছেন? বিভেধের গ্রন্থ না মিলনের গ্রন্থ? চোর আসে চুরি, খুন ও নষ্ট করার জন্য, আর মসিহ এসেছেন আর্তপিড়ীত দুঃস্থদের জীবন ফিরিয়ে দেবার জন্য (ইউহোন্না ১০ ঃ ১০)। আপনার হাতে শাণিত তরবারি কতোটা শোভা পায় তা আমার কাছে শংসয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইবলিস মারার জন্য তরবারী অথবা পাথর মারা সম্পূর্ণ বেমানান; তেমন ক্ষেত্রে খোদার কালাম, যা দ্বিধার ছোরার মত ‘আলাহর কালাম জীবন্ত ও কার্যকর এবং দু’দিকেই ধার আছে এমন ছোরার চেয়েও ধারালো। এই কালাম মানুষের দিল-রূহ ও অস্থি-মজ্জার গভীরে কেটে বসে এবং মানুষের দিলের সমস্ত ইচ্ছা ও চিন্তা পরীক্ষা করে দেখে’ (ইবরানী ৪ ঃ ১২)। তাই জীবন্ত খোদার জীবন্ত কর্মক্ষম কালাম মোক্ষম, অভ্রান্ত ইবলিসের মস্তক চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবার জন্য।
আসুন, অন্ধকারের কর্মকান্ড পরিহার করে সাচ্ছন্দে আলোর রাজ্যে বসবাস শরু করি।
‘তাহলে মসিহের সঙ্গে যুক্ত হবার ফলে যখন উৎসাহ পাওয়া যায়, মসিহের মহব্বতের ফলে সান্ত্বনা পাওয়া যায়, পাক-রূহ ও তোমাদের মধ্যে যখন যোগাযোগ সম্বন্ধ আছে, তোমাদের দিলে যখন স্নেহ ও দয়ামায়া আছে, তখন তোমরা এভাবে আমার আনন্দ পূর্ণ করÑ তোমাদের সকলের মন এক হোক, তোমরা একে অন্যকে মহব্বত কর এবং মনে-প্রাণে এক হও। নিজের লাভের আশায় বা অহংকারের বশে কিছু করো না, বরং নম্রভাবে অন্যকে নিজের চেয়ে বড় স্থান দাও। কেবল নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থেকো না, বরং একে অন্যের জন্য চিন্তা কর। ঈসা মসিহের যে মনোভাব ছিল তা যেন তোমাদের দিলেও থাকে। আসলে তিনি আলাহ রইলেন, কিন্তু আলাহর সমান থাকা তিনি আঁকড়ে ধরে রাখবার মত এমন কিছু মনে করেন নি। তিনি বরং গোলাম হয়ে এবং মানুষ হিসাবে জন্মগ্রহণ করে নিজেকে সীমিত করে রাখলেন। এছাড়া চেহারায় মানুষ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত, এমন কি, ক্রুশের উপরে মৃত্যু পর্যন্ত বাধ্য থেকে তিনি নিজেকে নীচু করলেন। আলাহ এজন্যই তাঁকে সবচেয়ে উঁচুতে উঠালেন এবং এমন একটা নাম দিলেন যা সব নামের চেয়ে মহৎ, যেন বেহেশতে, দুনিয়াতে এবং দুনিয়ার গভীরে যারা আছে তারা প্রত্যেকেই ঈসার সামনে হাঁটু পাতে, আর পিতা আলাহর গৌরবের জন্য স্বীকার করে যে, ঈসা মসিহই প্রভু’ (ফিলিপীয় ২ ঃ ১-১১)।
‘অন্ধকারের নিষ্ফল কাজের সংগে তোমাদের যোগ না থাকুক; তোমরা বরং সেগুলোর দোষ দেখিয়ে দাও, কারণ মানুষের গোপনে করা এই সব কাজের কথা বলাও লজ্জার বিষয়’ (ইফিষীয় ৫ ঃ ১১-১২)।
‘আমি জানি আপনারা ইব্রাহিমের বংশের লোক, কিন্তু তবুও আপনারা আমাকে হত্যা করতে চাইছেন, কারণ আমার কথা আপনাদের দিলে কোন স্থান পায় না। আমি আমার পিতার কাছে যা দেখেছি সেই বিষয়েই বলি, আর আপনারা আপনাদের পিতার কাছ থেকে যা শুনেছেন তা-ই করে থাকেন’ (ইউহোন্না ৮ ঃ ৩৭-৩৮)।