জমাজমি নিয়ে বিতর্ক, জটিলতা, বাক-বিতন্ডা, বাধ-বিভেদ শেষ করতে চাইলে অবশ্যই সরকারি পিলার ধরে মাপজোপ শুরু করতে হবে, কেননা পর্চা তৈরি করা হয় সরকারি পিলার ধরে। ক্রয়সূত্রে হোক বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সকল জমি-জমার খতিয়ান, পর্চা ও দলিলে থাকে অংশ ও চৌহদ্দি বিশদভাবে লিপিবদ্ধ। প্রত্যেক দেশে জমা-জমির ভাগ-ভাটোয়ারার মামলা চলতে থাকে বছরের পর বছর। পক্ষ-বিপক্ষ ঝুলতে থাকে সিদ্ধান্তহিনতায়। ফলে বিতর্ক প্রখরতর হতে হতে হাতাহাতি, মাতামাতি, রক্তারক্তি, খুন-জখমের মধ্যদিয়ে উভয় পক্ষ দেওয়ানি মামলার সাথে ফৌজদারি মকর্দমায় জড়িয়ে পড়ে। যেটুকু আমি দেখেছি তার ইতিবৃত্ত পরিবেশন করলাম। তাই যা বলছিলাম, সরকারি পিলারের প্রসঙ্গে, তা বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে লক্ষকোটি দল-উপদল কি করে জন্ম নিল তা কি একবারও ভেবে দেখেছেন?
খোদার প্রতিচ্ছবিতে গড়া আদম (আ.) তো মাত্র একজন, আর সকলেই তো তাঁর ঔরষজাত! তাহলে মানবজাতির আদিপুরুষ হলেন হযরত আদম (আ.) আর আদি মাতা হলেন বিবি হাওয়া। অবশ্যই তিনি আদমের পঞ্জর থেকে হয়েছেন নির্মিত। মূলতঃ খোদা মাত্র একজন মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাকে দোয়া করেছেন, ক্ষমতা দান করেছেন প্রজাবন্ত ও বহুবংশে পরিণত হবার জন্য। অবশ্যই আদমের ঔরষজাত সকলেই আদম, উত্তরাধিকারসূত্রে খোদার প্রতিনিধি, তাও জন্মসূত্রে, এড়িয়ে যাবার উপায় নেই।
যেকোনো দেশের নাগরিকত্ব লব্ধ হয় দুটো পদ্ধতিতে; একটি হলো জন্মসূত্র আর একটি হলো মনোনয়ন সূত্র। এ দু’টির মধ্যে জন্মসূত্রটি হলো সর্বোত্তম। তাই বলে সকল নাগরিক কি দেশের কল্যাণকর্মে থাকে নিবেদিত? অসম্ভব! দেশের বারোটা বাজাতেও কতিপয় বিশ্বাস ঘাতক থাকে চুপিসারে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশের প্রশাসন অবশ্য তাদের ধরে ফেলার জন্য নানাধরণের ব্যবস্থা পেতে রেখেছে, ধরাও পড়তেছে, তারপরও পুষিপোনা নির্মূল করা আর সম্ভব হয়ে ওঠে না।
তবে যে কোনো দেশে সচেতন দেশ প্রেমিক-নিবেদিত প্রাণের অভাব কখনোই ঘটে নি এবং তা ভবিষ্যতেও ঘটবে না। শুভশক্তি সমূলে বিনাশ করার সাধ্য কারো কাছে নেই, কেননা শুভশক্তির স্বপক্ষে থাকেন রাহমানুর রাহেমিন স্বয়ং খোদা। তিনি সদা সত্যের পক্ষে থাকেন জাগ্রত। তাহলে কেন একজন বিবেকবান লোক প্রশ্ন রাখবেনা মানুষের মধ্যে জলচলহীন বাধ-বিভেদ দেখতে পেয়ে? মানুষ যেমন পাড়া-মহলা ভাগ করে রেখেছে আসলে তারা কি পেরেছে বায়ুমন্ডল তদ্রæপ ভাগ করতে? ঐশি দানসমূহ সবটাইতো রয়ে গেছে এজমালি! মানুষ ভাগ করেছে নিজেদের হৃদয় যা ইতোপূর্বে হয়ে আছে সাপের বিষে অর্থাৎ ইবলিসের কুটচাল ও প্রতারণায় কলুষিত। মানুষের হৃদয় যা দিয়ে পূর্ণ থাকে, মুখ দিয়ে তো তাই প্রকাশ করে। মানুষ অবাধ্য, আর এ অবাধ্যতা শুরু হয়েছে এদন কানন থেকে, বিতাড়িত হবার পূর্বে। আদম-হাওয়া খোদার মন্ত্রণা সামান্য মনে করে যখন অভিশপ্ত ইবলিসের লোভাতুরা কুটচালকে প্রধান্য দিল, ঠিক তখন থেকেই তাদের জীবনে নেমে আসলো পতন, অবাধ্যতা ও কলুষতা। সাথে সাথে এক ভাই আর এক ভাইকে হত্যা করে বসলো, কেবল স্বার্থের কারণে। এটা মানুষের পতনের আর একটি জ্বলন্ত প্রমান!
বর্তমান বিশ্বে অগণিত ধর্ম সম্প্রদায় রয়েছে প্রচলিত। তাদের প্রত্যেকের আছে ভিন্ন ভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা। তবে অনেকেই দাবি করে, তারা নাকি এক খোদার উপাষ্য এবং পরিশেষে উক্ত রীতিনীতি পালনের মাধ্যমে তারা স্ব-স্ব কল্পিত খোদার সাথে হবেন পুনর্মিলিত। খোদার সাথে যারা পুনর্মিলিত হবেন তারা অবশ্যই এক আত্মা, এক মন, এক প্রেমে হবেন আবদ্ধ। বর্তমান বিশ্বে তারা যতোটাই হিংসা-বিদ্ধেষ নিয়ে পারষ্পরিক শত্রæতা করুক না কেন, মৃত্যুর পর এ প্রভাব অবশ্যই বিলিন হতে বাধ্য। মদের নেশা বড়জোর এক রাত্র থাকে, পরের দিন উক্ত নেশা কেটে যায়, আর তখন তারা লজ্জ্যা পায়। আমরা সকলে মানুষ, আদম সুত, একই জলকাদা, আলো-বাতাসে বসবাস করছি সকলে। মানুষ মানুষকে ঘৃণা করতে পারে না, তবে নেশার ঘোরে অনেক কিছু বকতে পারে, করতে পারে, নেশা কেটে গেলে আবার তারা মানুষ হবে এ প্রত্যাশা রাখতে হবে আমাদের মনে। যেমন ভুতাশ্রিত ব্যক্তিটি বহু আচরণ করে থাকে, যা হলো ভুতের প্রভাব। তবে ব্যক্তির কাধ থেকে ভুত তাড়ানো সম্ভব হলে উক্ত ভাইটিকে সুস্থ মন-মানসিকতায় ও সুন্দর বিবেক আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে।
বিশ্বের সকল মানুষ একই আদমের সন্তান! মানুষ সৃষ্টি হয়েছে খোদার প্রতিনিধি হিসেবে এবং তা অনন্তকালের জন্য। যদিও বলা হয় মানুষ মরণশীল, আসলে আমরা যে দেহাভ্যন্তরে বাস করি উক্ত দেহটি হলো মরণশীল, ক্ষণভঙ্গুর! মানুষের মধ্যে ফুকে দেয়া হয়েছে খোদার রূহ যা হলো অমর, অবিনশ্বর। বর্তমান বিশ্ব যদিও অভিশপ্ত ইবলিসের হাতে নিয়ন্ত্রিত, তবুও চূড়ান্ত বিজয় খোদার হাতে এবং খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহের মাধ্যমে আমরা শয়তানের সর্বাত্মক চালাকির উপর বিজয় লাভ করেছি। মসিহের সাথে যুক্ত ব্যক্তি জগতের সর্বপ্রকার অপশক্তির উপর জয় লাভ করেছে, যা খোদার অপার করুনায় হয়ে থাকে সাধিত। সম্পূর্ণ বেগুনাহ মসিহ হলেন আমদের প্রজ্ঞা, ধার্মিকতা ও শক্তি। তিনিই আমাদের একমাত্র পথ, সত্য ও জীবন। সকল মানুষের জন্য তিনি উম্মুক্ত করে রেখেছেন এক অভাবিত সুযোগ, মুক্তির উপায় যা কেবল বিশ্বাসহেতু আমরা পেয়ে গেছি।
আমাদের খোদা মাত্র একজন। খোদা ও মানুষের মধ্যে সংযোগসেতু তাও মাত্র একজন আর তিনি হলেন খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ, যিনি বিশ্বের পাপের কাফফারা পরিশোধ করেছেন নিজের পূতপবিত্র রক্তের মূল্যে। গোটা বিশ্বের জন্য মাত্র একটি উপায় মসিহকে লাভ করার, আর তা হলো কেবল বিশ্বাস, খোদার রহমত ও সেই বিশেষ ব্যবস্থা মসিহের মাধ্যমে হয়েছে পরিবেশিত সকল মানুষের জন্য।
আসুন, অতিতের কর্মকান্ড ভুলে গিয়ে প্রাণে প্রাণে একত্রিত হয়ে নেমে যাই মসিহের জয়গান প্রকাশের অভিযানে- যা হবে আমাদের কাছে একমাত্র কাম্য। সমাজের প্রতিটি আনাচে-কানাচে আমরা যাব, মসিহের বিষয়ে বলবো, যারা মসিহকে বিশ্বাস করবে তাদের করব কাতারবন্দি, অভিশপ্ত ইবলিসের সাথে লড়াই করবো মসিহের কালাম দিয়ে, সুসমচার জানান দিব এবং নিয়ত ব্যস্ত থাকবো সত্য সুন্দরের কাজে যা হবে আমাদের একমাত্র নৈতিক দায়িত্ব।
শেষে বলি, প্রভুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাঁরই দেওয়া মহা শক্তিতে শক্তিমান হও। যুদ্ধের জন্য আলাহর দেওয়া সমস্ত সাজ-পোশাক পরে নাও, যেন তোমরা ইবলিসের সব চালাকির বিরুদ্ধে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পার। আমাদের এই যুদ্ধ তো কোন মানুষের বিরুদ্ধে নয়, বরং তা অন্ধকার রাজ্যের সব শাসনকর্তা ও ক্ষমতার অধিকারীদের বিরুদ্ধে, অন্ধকার দুনিয়ার শক্তিশালী রূহদের বিরুদ্ধে, আর আকাশের সমস্ত ভূতদের বিরুদ্ধে। তাই তোমরা যুদ্ধের জন্য আলাহর দেওয়া সমস্ত সাজ-পোশাক পরে নাও, যেন ইবলিস যেদিন আক্রমণ করবে সেই দিন তোমরা তাকে রুখে দাঁড়াতে পার এবং সবকিছু শেষ করে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পার। এ জন্য সত্য দিয়ে কোমর বেঁধে, বুক রক্ষার জন্য সৎ জীবন দিয়ে বুক ঢেকে, আর শান্তির সুসংবাদ তবলিগের জন্য পা প্রস্তুত রেখে দাঁড়িয়ে থাক। এছাড়া ঈমানের ঢালও তুলে নাও; সেই ঢাল দিয়ে তোমরা ইবলিসের সব জ্বলন্ত তীর নিভিয়ে ফেলতে পারবে। মাথা রক্ষার জন্য আলাহর দেওয়া নাজাত মাথায় দিয়ে পাক-রূহের ছোরা, অর্থাৎ আলাহর কালাম গ্রহণ কর। পাকরূহের দ্বারা পরিচালিত হয়ে মনে-প্রাণে সব সময় মুনাজাত কর। এজন্য সজাগ থেকে আলাহর সমস্ত বান্দাদের জন্য সব সময় মুনাজাত করতে থাক (ইফিষীয় ৬ ঃ ১০-১৮)।
খোদার প্রতিচ্ছবিতে গড়া আদম (আ.) তো মাত্র একজন, আর সকলেই তো তাঁর ঔরষজাত! তাহলে মানবজাতির আদিপুরুষ হলেন হযরত আদম (আ.) আর আদি মাতা হলেন বিবি হাওয়া। অবশ্যই তিনি আদমের পঞ্জর থেকে হয়েছেন নির্মিত। মূলতঃ খোদা মাত্র একজন মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাকে দোয়া করেছেন, ক্ষমতা দান করেছেন প্রজাবন্ত ও বহুবংশে পরিণত হবার জন্য। অবশ্যই আদমের ঔরষজাত সকলেই আদম, উত্তরাধিকারসূত্রে খোদার প্রতিনিধি, তাও জন্মসূত্রে, এড়িয়ে যাবার উপায় নেই।
যেকোনো দেশের নাগরিকত্ব লব্ধ হয় দুটো পদ্ধতিতে; একটি হলো জন্মসূত্র আর একটি হলো মনোনয়ন সূত্র। এ দু’টির মধ্যে জন্মসূত্রটি হলো সর্বোত্তম। তাই বলে সকল নাগরিক কি দেশের কল্যাণকর্মে থাকে নিবেদিত? অসম্ভব! দেশের বারোটা বাজাতেও কতিপয় বিশ্বাস ঘাতক থাকে চুপিসারে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশের প্রশাসন অবশ্য তাদের ধরে ফেলার জন্য নানাধরণের ব্যবস্থা পেতে রেখেছে, ধরাও পড়তেছে, তারপরও পুষিপোনা নির্মূল করা আর সম্ভব হয়ে ওঠে না।
তবে যে কোনো দেশে সচেতন দেশ প্রেমিক-নিবেদিত প্রাণের অভাব কখনোই ঘটে নি এবং তা ভবিষ্যতেও ঘটবে না। শুভশক্তি সমূলে বিনাশ করার সাধ্য কারো কাছে নেই, কেননা শুভশক্তির স্বপক্ষে থাকেন রাহমানুর রাহেমিন স্বয়ং খোদা। তিনি সদা সত্যের পক্ষে থাকেন জাগ্রত। তাহলে কেন একজন বিবেকবান লোক প্রশ্ন রাখবেনা মানুষের মধ্যে জলচলহীন বাধ-বিভেদ দেখতে পেয়ে? মানুষ যেমন পাড়া-মহলা ভাগ করে রেখেছে আসলে তারা কি পেরেছে বায়ুমন্ডল তদ্রæপ ভাগ করতে? ঐশি দানসমূহ সবটাইতো রয়ে গেছে এজমালি! মানুষ ভাগ করেছে নিজেদের হৃদয় যা ইতোপূর্বে হয়ে আছে সাপের বিষে অর্থাৎ ইবলিসের কুটচাল ও প্রতারণায় কলুষিত। মানুষের হৃদয় যা দিয়ে পূর্ণ থাকে, মুখ দিয়ে তো তাই প্রকাশ করে। মানুষ অবাধ্য, আর এ অবাধ্যতা শুরু হয়েছে এদন কানন থেকে, বিতাড়িত হবার পূর্বে। আদম-হাওয়া খোদার মন্ত্রণা সামান্য মনে করে যখন অভিশপ্ত ইবলিসের লোভাতুরা কুটচালকে প্রধান্য দিল, ঠিক তখন থেকেই তাদের জীবনে নেমে আসলো পতন, অবাধ্যতা ও কলুষতা। সাথে সাথে এক ভাই আর এক ভাইকে হত্যা করে বসলো, কেবল স্বার্থের কারণে। এটা মানুষের পতনের আর একটি জ্বলন্ত প্রমান!
বর্তমান বিশ্বে অগণিত ধর্ম সম্প্রদায় রয়েছে প্রচলিত। তাদের প্রত্যেকের আছে ভিন্ন ভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা। তবে অনেকেই দাবি করে, তারা নাকি এক খোদার উপাষ্য এবং পরিশেষে উক্ত রীতিনীতি পালনের মাধ্যমে তারা স্ব-স্ব কল্পিত খোদার সাথে হবেন পুনর্মিলিত। খোদার সাথে যারা পুনর্মিলিত হবেন তারা অবশ্যই এক আত্মা, এক মন, এক প্রেমে হবেন আবদ্ধ। বর্তমান বিশ্বে তারা যতোটাই হিংসা-বিদ্ধেষ নিয়ে পারষ্পরিক শত্রæতা করুক না কেন, মৃত্যুর পর এ প্রভাব অবশ্যই বিলিন হতে বাধ্য। মদের নেশা বড়জোর এক রাত্র থাকে, পরের দিন উক্ত নেশা কেটে যায়, আর তখন তারা লজ্জ্যা পায়। আমরা সকলে মানুষ, আদম সুত, একই জলকাদা, আলো-বাতাসে বসবাস করছি সকলে। মানুষ মানুষকে ঘৃণা করতে পারে না, তবে নেশার ঘোরে অনেক কিছু বকতে পারে, করতে পারে, নেশা কেটে গেলে আবার তারা মানুষ হবে এ প্রত্যাশা রাখতে হবে আমাদের মনে। যেমন ভুতাশ্রিত ব্যক্তিটি বহু আচরণ করে থাকে, যা হলো ভুতের প্রভাব। তবে ব্যক্তির কাধ থেকে ভুত তাড়ানো সম্ভব হলে উক্ত ভাইটিকে সুস্থ মন-মানসিকতায় ও সুন্দর বিবেক আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে।
বিশ্বের সকল মানুষ একই আদমের সন্তান! মানুষ সৃষ্টি হয়েছে খোদার প্রতিনিধি হিসেবে এবং তা অনন্তকালের জন্য। যদিও বলা হয় মানুষ মরণশীল, আসলে আমরা যে দেহাভ্যন্তরে বাস করি উক্ত দেহটি হলো মরণশীল, ক্ষণভঙ্গুর! মানুষের মধ্যে ফুকে দেয়া হয়েছে খোদার রূহ যা হলো অমর, অবিনশ্বর। বর্তমান বিশ্ব যদিও অভিশপ্ত ইবলিসের হাতে নিয়ন্ত্রিত, তবুও চূড়ান্ত বিজয় খোদার হাতে এবং খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহের মাধ্যমে আমরা শয়তানের সর্বাত্মক চালাকির উপর বিজয় লাভ করেছি। মসিহের সাথে যুক্ত ব্যক্তি জগতের সর্বপ্রকার অপশক্তির উপর জয় লাভ করেছে, যা খোদার অপার করুনায় হয়ে থাকে সাধিত। সম্পূর্ণ বেগুনাহ মসিহ হলেন আমদের প্রজ্ঞা, ধার্মিকতা ও শক্তি। তিনিই আমাদের একমাত্র পথ, সত্য ও জীবন। সকল মানুষের জন্য তিনি উম্মুক্ত করে রেখেছেন এক অভাবিত সুযোগ, মুক্তির উপায় যা কেবল বিশ্বাসহেতু আমরা পেয়ে গেছি।
আমাদের খোদা মাত্র একজন। খোদা ও মানুষের মধ্যে সংযোগসেতু তাও মাত্র একজন আর তিনি হলেন খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ, যিনি বিশ্বের পাপের কাফফারা পরিশোধ করেছেন নিজের পূতপবিত্র রক্তের মূল্যে। গোটা বিশ্বের জন্য মাত্র একটি উপায় মসিহকে লাভ করার, আর তা হলো কেবল বিশ্বাস, খোদার রহমত ও সেই বিশেষ ব্যবস্থা মসিহের মাধ্যমে হয়েছে পরিবেশিত সকল মানুষের জন্য।
আসুন, অতিতের কর্মকান্ড ভুলে গিয়ে প্রাণে প্রাণে একত্রিত হয়ে নেমে যাই মসিহের জয়গান প্রকাশের অভিযানে- যা হবে আমাদের কাছে একমাত্র কাম্য। সমাজের প্রতিটি আনাচে-কানাচে আমরা যাব, মসিহের বিষয়ে বলবো, যারা মসিহকে বিশ্বাস করবে তাদের করব কাতারবন্দি, অভিশপ্ত ইবলিসের সাথে লড়াই করবো মসিহের কালাম দিয়ে, সুসমচার জানান দিব এবং নিয়ত ব্যস্ত থাকবো সত্য সুন্দরের কাজে যা হবে আমাদের একমাত্র নৈতিক দায়িত্ব।
শেষে বলি, প্রভুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাঁরই দেওয়া মহা শক্তিতে শক্তিমান হও। যুদ্ধের জন্য আলাহর দেওয়া সমস্ত সাজ-পোশাক পরে নাও, যেন তোমরা ইবলিসের সব চালাকির বিরুদ্ধে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পার। আমাদের এই যুদ্ধ তো কোন মানুষের বিরুদ্ধে নয়, বরং তা অন্ধকার রাজ্যের সব শাসনকর্তা ও ক্ষমতার অধিকারীদের বিরুদ্ধে, অন্ধকার দুনিয়ার শক্তিশালী রূহদের বিরুদ্ধে, আর আকাশের সমস্ত ভূতদের বিরুদ্ধে। তাই তোমরা যুদ্ধের জন্য আলাহর দেওয়া সমস্ত সাজ-পোশাক পরে নাও, যেন ইবলিস যেদিন আক্রমণ করবে সেই দিন তোমরা তাকে রুখে দাঁড়াতে পার এবং সবকিছু শেষ করে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পার। এ জন্য সত্য দিয়ে কোমর বেঁধে, বুক রক্ষার জন্য সৎ জীবন দিয়ে বুক ঢেকে, আর শান্তির সুসংবাদ তবলিগের জন্য পা প্রস্তুত রেখে দাঁড়িয়ে থাক। এছাড়া ঈমানের ঢালও তুলে নাও; সেই ঢাল দিয়ে তোমরা ইবলিসের সব জ্বলন্ত তীর নিভিয়ে ফেলতে পারবে। মাথা রক্ষার জন্য আলাহর দেওয়া নাজাত মাথায় দিয়ে পাক-রূহের ছোরা, অর্থাৎ আলাহর কালাম গ্রহণ কর। পাকরূহের দ্বারা পরিচালিত হয়ে মনে-প্রাণে সব সময় মুনাজাত কর। এজন্য সজাগ থেকে আলাহর সমস্ত বান্দাদের জন্য সব সময় মুনাজাত করতে থাক (ইফিষীয় ৬ ঃ ১০-১৮)।