গোটা বিশ্ব আজ চরমভাবে বিভ্রান্তির অতলে ডুবে আছে। যদিও মুখে অনেকেই খোদার বিষয়ে বর্ণনা দিতে সচেষ্টা, বাস্তবে খোদার একত্ববাদে আর স্থীর থাকতে পারছে না। কখন যে খোদার উপরে পার্থিব বিষয় খোদকারি করতে শুরু করছে, তা বোধকরি ভক্তবৃন্দ বুঝতেই পারছে না।
প্রথম মানুষ আদম খোদার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলেন প্রধান্য দিয়ে বসলেন ইবলিসের কুটমন্ত্রনাকে, নতিজা নিজের ও তার বংশাবলির উপর প্লেগ রোগের মতো জর্জরিত করে তুললো। কুষ্ঠু রোগ মানুষের শরীরটাকে তীলে তীলে খেয়ে ফেলে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রিত করে ছাড়ে, একইভাবে পাপ ও অবাধ্যতা মানুষকে আজ ইতর প্রাণীর নিজে নামিয়ে দিয়েছে। একটি ইতর প্রাণী কোনো নতুন এলাকায় পৌছার সাথে সাথে, তথাকার ইতর প্রাণীগুলো ধারালো দাঁত খিচে তেড়ে আসে, একইভাবে আজ আমাদের দেশে কারো সীমানায় যদি কেউ ভুলক্রমেও গিয়ে হাজির হয়, অমনি গুলি ছুড়ে তাকে আহত নিহত করে ছাড়ে। আমরা যে সকলেই আদম জাতি, তারই কি এটা প্রমান নয়? তবে আমরা সকলেই বিকার গ্রস্থ বিভ্রান্ত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
আদমের পতনের পর থেকে খোদার প্রকৃত পরিচয় বহন করার কোনো মানুষই সমাজে আর দৃষ্ট হবার নেই। সকলেই পাপ করেছে এবং খোদার গৌরব হারিয়ে বসেছে। কালামপাক বলে যা কিছু প্রকাশ করা হচ্ছে, সেগুলোও মানুষের হাতে হয়েছে লিপিবদ্ধ। বর্তমান বিশ্বে যতগুলো ভাষা রয়েছে প্রচলিত, সৃষ্টি লগ্নে অর্থাৎ আদম হাওয়া যখন এদন কাননে মহাসুখে, খোদার সকাসে, পূতপবিত্র জীবন-যাপন করতেন, তখন তাদের কোনো ভাষা ছিল না, যা ছিল তা হলো প্রেমের ভাষা, প্রেমের ভাষা কিন্তু শুরু হয় চোখের দ্বারা। চোখে চোখ পড়ার ফলে যে ভাষা শুরু হয় তার স্পন্দন গিয়ে হৃদয়কে জাগ্রত করে, সৃঙ্গার সৃষ্টি করে, যেন ঘুমন্ত প্রাণ জাগিয়ে তোলে নতুন কিছু সৃর্ষ্টি জন্য। সেই ভাষার আবেদন আজ পর্যন্ত রয়েছে সমভাবে কার্যকর। তবে যৌবনের প্রথম জোয়ারে উক্ত স্পন্দন বাধভাঙ্গা বেগ নিয়ে এগিয়ে যায়, ঘটায় নতুন তটরেখা, যার সাক্ষ্য আজ আমরা বহুজন দিতে পারি।
খোদা হলেন প্রেম! প্রেমের তাগিদে তিনি বিশ্বচরাচর সৃষ্টি করেছেন। মানুষ হলো তাঁর যোগ্য প্রতিনিধি। ফেরেশতাদের চেয়েও মানুষের মর্যাদা তিনি অধিক দিয়েছেন। যার প্রমান, তিনি ফেরেশতাদের আজ্ঞা দিলেন আদম (আ.) সেজদা দিতে। আমরা সাধারণতঃ সম্মানিত গুরুজনকে সালাম দিয়ে থাকি, অন্যথায় আমরা আদব-কায়দা জ্ঞান বিবর্জিত নিন্দনীয় ব্যক্তিতে ঘোষিত হয়ে থাকি। ইবলিস আত্ম অহংকারে খোদার আজ্ঞা লঙ্ঘন করে বসলো, হলো অবনমিত তার উচ্চ আসন থেকে, নামিয়ে দেয়া হলো ইতর প্রাণির কাতারে, গোটা জীবন হয়ে গেলো অভিশপ্ত। আর এ কারণে সে মানুষের ক্ষতিসাধনের জন্য লেগে আছে আদাজল খেয়ে। তার আরাধ্য খেলা শুরু করলো সেই এদন কানন থেকে, আর আজ পর্যন্ত তেমন খেলা খেলে চলছে প্রত্যেকটি জনগোষ্টির সাথে।
আপনি যদি জানতে চান মানুষের অন্ধত্ব কতোটা মারাত্মক তবে বুঝতে পারবেন, তারা একটি বিশেষ ভাষা যা মানুষের দ্বারা হয়েছে আবি®কৃত ও রচিত, যথা আরবি ভাষা, বহুলোক মনে করে উক্ত ভাষাটা খোদার নিজস্ব ভাষা, উক্ত ভাষার অবমাননা করার অর্থ হলো খোদাকে অবমাননা করার সমতুল্য। যারা আরবি ভাষা তুচ্ছজ্ঞান করে তারা পরিষ্কার জাহান্নামি গোষ্টি, এমন ফতোয়া দিতে শুনেছি আলেম নামের বাকপটু বাচালদের মুখে। খোদা আর ভাষা সমমানে একক স্তরে তুলে আনা যে কতোটা বিভ্রান্তিমুলক কাজ, তা কারো কাছে প্রকাশ করার উপায় নেই।
কাপর-চোপর যে ধর্ম নয়, নয় ধর্মের বাহক, তাও অনেকে জানে না। ধর্ম বিষয়ক জ্ঞান হলো খোদা বিষয়ক জ্ঞান, যে ব্যক্তি খোদার সাথে যুক্ত, তিনিই তো হতে পেরেছেন ধার্মিক ব্যক্তিতে পরিণত। তা আপনি কোথায় গিয়ে খোদার সন্ধান পাবেন? বিশ্বের কোথাও এমন কোনো পবিত্র স্থান বা বস্তু নেই, যেথা গিয়ে বা যা কিছু স্পর্শ করে আপনি হতে পারবেন এক রূপান্তরিত ব্যক্তি। পৃথিবীটা সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের দেহটিকে বাঁচিয়ে রাখা ও সুরক্ষা করার জন্য। আমাদের দুটো দেহ রয়েছে, একটি হলো ভৌতিক বা জড় পদার্থের দেহ, বস্তুগত যা বাঁচিয়ে রাখার জন্য চাই বস্তুসামগ্রী, আর একটি রয়েছে রুহানি দেহ, যা বাঁচিয়ে রাখার জন্য চাই পাকরূহ, আর পাক খোদার বিষয়ে যে সকল বর্ণনা আমরা জানি ও অন্যকে জানাই, তার জন্য প্রয়োজন পড়ে কতকগুলো ভাষা যা কতিপয় লোক উক্ত চিহ্নগুলোর অর্থ তাৎপর্য বুঝতে পারে। ভাষা তো কেবল শব্দ ও কলমের আঁকিঝুকি। প্রচলিত ভাষা বলুন আর থাকে অজানা ভাষা বলুন, তা শিশুকাল থেকে শিখে সকল ব্যক্তিবর্গ। যেমন প্রথমে আক্ষরিক জ্ঞান, অক্ষর চেনা, তারপরে শব্দ গঠন, তারপর বাক্য, এমনিকরে প্রেমপত্র নিয়ে প্রিয়জনকে তুষ্ট করা হয়, তাদের জানান দেয়া হয় ব্যক্তির হৃদয়ে জমে আছে প্রেমের অফুরান ভান্ডার। কেবল উর্দ্ধশ্বাসে ছুটে আসলেই সারবে।
খোদা নিজেই হলেন প্রেম, আর যে ব্যক্তি প্রেমে বিরাজ করে, সে অবশ্যই খোদার মধ্যে অবস্থান করে। খোদার প্রেম ও তার প্রেমের দরিয়া বিশাল, যার নেই কোনো কুল কিনারা। যে কোনো জঘন্য পাপীকে তিনি গ্রহন করতে থাকেন সদা প্রস্তুত, স্নাতশুভ্র করার মানসে। মানুষ কখনো কখনো খোদার কাছ থেকে কর্য করে নিয়ে প্রেমিক সাজতে সচেষ্ট হয়, তবে তেমন ক্ষেত্রে যদি তারা অনবরত খোদার সাথে যুক্ত ও খোদার রাজ্যে নিয়ত বসবাস করে, তবে তাদের প্রেম শুণ্য হবার ভয় থাকে না।
মসিহ যেমন শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি আঙ্গুর লতা, আর তাঁর সাহাবিগণ হলো উক্ত লতার শাখা-প্রশাখা, যেসকল শাখা-প্রশাখা প্রধান লতার সাথে থাকে সদা যুক্ত, তেমন শাখাগুলো নিয়ত বেঁচে থাকে, আর তা ফুলে ফলে পত্রপলবে ভরপুর থাকে।
কোনো ভাষা নয় খোদার বহিপ্রকাশিত রূপ। কোনো মানুষ খোদা নয়, নয় খোদার বিকল্প সৃষ্টি। মানুষকে খোদার স্থানে সম্মান দেয়া হবে খোদার সাথে তুলনা করা, ফলে খোদার অবমাননা করা হয়। আদমসূত সকল মানুষ হলো গুনাহগার, খোদার গৌরব বিনাশকারি, যারা কেবল ইবলিসের কুটমন্ত্রনায় নিয়ত জীবন-যাপন করে চলছে। বিশ্বের যাবতীয় হত্যাযজ্ঞ কেবল ইবলিসের কুটচালে পড়ে মানুষ ঘটাচ্ছে। সকলেই আজ ইবলিসাস্রিত। খুঁজে দেখুন, এমন কোনো ব্যক্তি পাওয়া যায় কিনা, যারা বা যে কোনো পাপ করে নি। অসম্ভব! কাবিলের হাতে হাবিলের রক্ত ক্ষরিত হবার পর থেকে দুর্বলের রক্ত আজ পর্যন্ত ঝরছে সবল সন্ত্রাসিদের হাতে, যাকে কোনো মতেই খোদার আজ্ঞা বলে সার্টিফাই করা বা প্রত্যায়ন পত্র দেয়া সম্ভব নয়। যারা মানুষ খুন করে তারা কাবিলের অনুসারী আর যারা কাবিলদের হাতে হত হয়ে চলছে, তারা বিনম্র হাবিলের স¤প্রদায় বলা হলে অত্যুক্তি করার কোনো ভয় আছে কি? গোটা বিশ্ব আজ বিতর্কিত হয়ে আছে। যেমন আন্ডা আগে না মুরগী আগে।
আমরা তেমন বিতর্কের উর্দ্ধে উঠে এসে খোদার অস্তিত্তে¡ শতভাগ বিশ্বাস স্থাপন করি। তিনি পূতপবিত্র এবং শতভাগ। ধার্মিক কেবল বিশ্বাসহেতু বেঁচে থাকে। একজন গুনাহগার ব্যক্তি অনেক কিছুই করতে পারে, করে থাকে, তবে তার পক্ষে অর্থবহ কাজ হলো ‘অনুসোচনা’। যা কিছু করার জন্য সে আদিষ্ট ছিল তার এক শতাংশও সে করতে পারে নি, একথাটি আন্তরিকভাবে স্বীকার করাই হলো উক্ত ব্যক্তির জন্য নৈতিক দায়িত্ব। যেমন কেতাবে বর্ণিত রয়েছে, ‘আমার লোকেরা, যাদের আমার বান্দা বলে ডাকা হয় তারা যদি নম্র হয়ে মুনাজাত করে ও আমার রহমত চায় এবং খারাপ পথ থেকে ফেরে, তবে বেহেশত থেকে তা শুনে আমি তাদের গুনাহ মাফ করব এবং তাদের দেশের অবস্থা ফিরিয়ে দেব। (২খান্দানামা ৭ ঃ ১৪)।
আমাদের ফরিয়াদ কেবল মাবুদের সকাশে পেশ করতে হবে, যিনি নিজেই মেহেরবান, মহব্বতের তাগিদে যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, ঘোষণা দিয়েছেন তাঁর স্বীয় প্রতিনিধি হিসেবে। তিনি নিজেই মানব সুরতে ভূপৃষ্টে নেমে এসেছেন মানুষের কৃতপাপের কাফফারা শোধ দেবার জন্য। খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ আর কেউই নন, তিনিই মানবরূপে বাতেনি খোদার হুবহু প্রকাশ। তিনি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমি মানুষ, যাকে পাপ ও দিয়াবল আদৌ স্পর্শ করতে পারে নি, বরং তিনিই চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছেন ইবলিসের মস্তক।
মানুষ মূলতঃ খোদার সুরতপ্রাপ্ত খোদারই প্রতিনিধি, পথিমধ্যে ইবলিসের মন্ত্রে খেই হারিয়ে ফেলেছিল। যেই মুহুর্তে সে নিজের ভুল ও অবাধ্যতার পরিণাম বুঝতে পারলো, অমনি অনুসোচনায় সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়লো, জুড়ে দিল কান্না, ঝড়াতে শুরু করলো মষুলধারে অশ্র“বারি যা খোদার দরবার পর্যন্ত আর্দ্র করে ফেললো। আর মাবুদ নিজেই প্রেম, মানুষের কান্না সহ্য হবার নয় তাঁর কাছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিলেন মানব মুক্তির, যেমনটা আমরা দেখতে পাই পিতার দরদ অপব্যায়ী দুষ্ট অবাধ্য পুত্রের প্রতি। নির্ভয়ে আমরা মসিহের কাছে ছুটে আসতে পারি মসিহের ক্রোড়ে যিনি হলেন গুনাহগারদের জন্য একমাত্র মুক্তিদাতা!
মনে রাখবেন, বেহেশত-দোযগ বন্টনের ভার কোনো মানুষের হাতে খোদা তুলে দেন নি, তা সম্পূর্ণ খোদার হাতে সুরক্ষিত। এমন কি কোনো নবী-রাসুলদের হাতেও সে দায়িত্বভার তিনি তুলে দেন নি, কেননা আদমসূত প্রত্যেকটি ব্যক্তি হলো গুনাহগার। যদিও কেউবা বলে বেড়ায়, পাইকারি হারে সকল নবী-রাসুল হলেন বেগুনাহ, আসলে খোদার কালাম ও ইতিহাস তাদের জানা না থাকার কারণে আন্দাজ অনুমানের উপর ভিত্তি করে এমন মন্তব্য করে থাকে, যা জন্মান্ধের দ্বারা প্রদত্ত হাতীর বর্ণনা দেবার সামিল। এমনিতে মুখস্ত বিদ্যা জাহির করার সময় অধিকাংশ ব্যক্তি বলে বেড়ায়, নবীদের সংখ্যা হলো একলক্ষ চব্বিস হাজার, মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার অথবা আরো অধিক, তবে হাতের করগুণে দেখতে গেলে তারা কেউই চব্বিশ হাজার নবীর তালিকা প্রনয়ন করতে পারবে না, তা আমি হলফ করে বলতে পারি।
প্রাপ্ত তথ্যমতে আদম (আ.) থেকে শুরু করে গণনা করা হলে দেখা যায়
১। হযরত আদম ও তাঁর পুত্র কন্যা
২। নূহ ও তার পুত্র কন্যা
৩। ইব্রাহিম ও তার পুত্র কন্যা
৪। ইসহাক
৫। ইয়াকুব
৬। ইউসুফ
৭। মুসা
৮। গিদিয়ান
৯। শমুয়েল
১০। শ্যামসন
১১। দাউদ
১২। সোলায়মান
১৩। ইলিয়াস
১৪। ইলিশাহ
১৫। ইউনুস
১৬। হোসেয়া
১৭। ইসাইয়া
১৮। জোসিয়া
১৯। জেরোমিয়া
২০। দানিয়েল
২১। যিহুদা
২২। ইস্রা
২৩। নেহামিয়া
২৪। মালাখি
২৫। ঈসা মসিহ
আদম থেকে শুরু করা হলে দেখা যায়, তিনি ইবলিসের কুটচালে রাজি হবার ফলে হলেন খোদার অবাধ্য, হলেন এদন-কানন থেকে বিতাড়িত, নূহ নবীর সময় গোটা সৃষ্টি বানের জলে ডুবে ও পঁচে গেল। নবীদের মধ্যে সকলেই খোদাকে এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করেছেন, কেউবা ঘুসি মেরে মানুষ হত্যা করেছে, কেউবা তরবারিঘাতে মানুষ কতল করেছেন; এমনি কত কি যে ঘটনা ঘটেছে তাদের জীবদ্ধশায়, তার পুরোটি ইতিহাসের পাতায় তুলে ধরা সম্ভব নয়; তবে মজার বিষয় হলো, খোদা ক্রোধে ধির ও দয়াতে মহান। তিনি মহব্বত ও মেহেরবান। খোদার পূতপবিত্রতার হুবহু প্রকাশ আমরা দেখতে পাই মানবরূপে প্রকাশিত খোদার কালাম ও পাকরূহ খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহের মাধ্যমে।
তিনি মানুষকে আঘাত দিতে আসেন নি বরং গুনাহের যাতাকলে পিষ্ট অসহায় আদম সন্তানদের রক্ষা করার জন্যই নেমে এলেন কলুষিত ভূতলে, প্রেমের পরাকাষ্টা হলেন তিনি, মানুষের পাপের প্রায়শ্চিত্ত শোধ দিলেন নিজের পূতপবিত্র রক্তের মূল্যে যা হলো সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমি, অভাবিত ঐশি প্রেম অন্ধ বিবদমান জিঘাংসাকাতর মানুষ কষ্মিনকালেও ভাবতে পারে না।
চোখের চিকিৎসক যেমন চোখের ছানি কেটে দেয়, একইভাবে, মসিহ মানুষের হৃদয়ে পুঞ্জিভুত পাপ কালিমা ধুয়ে মুছে দেবার জন্যই আত্মকোরবানি দিলেন, যেন যারাই বিশ্বাস নিয়ে তাঁর মধ্যে ডুবে যায় তারাই পরিণত হয়ে ওঠে এক নতুন সৃষ্টি হিসেবে, তারা মসিহের মতই পূতপবিত্র সম্মানি বিনম্র ব্যক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়, যা কেবল পরমকরুনাময় খোদার হাতেই হয়ে থাকে সম্পন্ন।
মানুষের পক্ষে যা কিছু অসম্ভব তা সাধন করা খোদার পক্ষে অতীব সহজ। মসিহ আমাদের তুলে দিয়েছেন খোদার হাতে যেন আমরা নিত্যদিন অদৃশ্য খোদার দৃশ্যমান ব্যক্তিবর্গরূপে সমাজে বিচরণ করি।
প্রথম মানুষ আদম খোদার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলেন প্রধান্য দিয়ে বসলেন ইবলিসের কুটমন্ত্রনাকে, নতিজা নিজের ও তার বংশাবলির উপর প্লেগ রোগের মতো জর্জরিত করে তুললো। কুষ্ঠু রোগ মানুষের শরীরটাকে তীলে তীলে খেয়ে ফেলে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রিত করে ছাড়ে, একইভাবে পাপ ও অবাধ্যতা মানুষকে আজ ইতর প্রাণীর নিজে নামিয়ে দিয়েছে। একটি ইতর প্রাণী কোনো নতুন এলাকায় পৌছার সাথে সাথে, তথাকার ইতর প্রাণীগুলো ধারালো দাঁত খিচে তেড়ে আসে, একইভাবে আজ আমাদের দেশে কারো সীমানায় যদি কেউ ভুলক্রমেও গিয়ে হাজির হয়, অমনি গুলি ছুড়ে তাকে আহত নিহত করে ছাড়ে। আমরা যে সকলেই আদম জাতি, তারই কি এটা প্রমান নয়? তবে আমরা সকলেই বিকার গ্রস্থ বিভ্রান্ত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
আদমের পতনের পর থেকে খোদার প্রকৃত পরিচয় বহন করার কোনো মানুষই সমাজে আর দৃষ্ট হবার নেই। সকলেই পাপ করেছে এবং খোদার গৌরব হারিয়ে বসেছে। কালামপাক বলে যা কিছু প্রকাশ করা হচ্ছে, সেগুলোও মানুষের হাতে হয়েছে লিপিবদ্ধ। বর্তমান বিশ্বে যতগুলো ভাষা রয়েছে প্রচলিত, সৃষ্টি লগ্নে অর্থাৎ আদম হাওয়া যখন এদন কাননে মহাসুখে, খোদার সকাসে, পূতপবিত্র জীবন-যাপন করতেন, তখন তাদের কোনো ভাষা ছিল না, যা ছিল তা হলো প্রেমের ভাষা, প্রেমের ভাষা কিন্তু শুরু হয় চোখের দ্বারা। চোখে চোখ পড়ার ফলে যে ভাষা শুরু হয় তার স্পন্দন গিয়ে হৃদয়কে জাগ্রত করে, সৃঙ্গার সৃষ্টি করে, যেন ঘুমন্ত প্রাণ জাগিয়ে তোলে নতুন কিছু সৃর্ষ্টি জন্য। সেই ভাষার আবেদন আজ পর্যন্ত রয়েছে সমভাবে কার্যকর। তবে যৌবনের প্রথম জোয়ারে উক্ত স্পন্দন বাধভাঙ্গা বেগ নিয়ে এগিয়ে যায়, ঘটায় নতুন তটরেখা, যার সাক্ষ্য আজ আমরা বহুজন দিতে পারি।
খোদা হলেন প্রেম! প্রেমের তাগিদে তিনি বিশ্বচরাচর সৃষ্টি করেছেন। মানুষ হলো তাঁর যোগ্য প্রতিনিধি। ফেরেশতাদের চেয়েও মানুষের মর্যাদা তিনি অধিক দিয়েছেন। যার প্রমান, তিনি ফেরেশতাদের আজ্ঞা দিলেন আদম (আ.) সেজদা দিতে। আমরা সাধারণতঃ সম্মানিত গুরুজনকে সালাম দিয়ে থাকি, অন্যথায় আমরা আদব-কায়দা জ্ঞান বিবর্জিত নিন্দনীয় ব্যক্তিতে ঘোষিত হয়ে থাকি। ইবলিস আত্ম অহংকারে খোদার আজ্ঞা লঙ্ঘন করে বসলো, হলো অবনমিত তার উচ্চ আসন থেকে, নামিয়ে দেয়া হলো ইতর প্রাণির কাতারে, গোটা জীবন হয়ে গেলো অভিশপ্ত। আর এ কারণে সে মানুষের ক্ষতিসাধনের জন্য লেগে আছে আদাজল খেয়ে। তার আরাধ্য খেলা শুরু করলো সেই এদন কানন থেকে, আর আজ পর্যন্ত তেমন খেলা খেলে চলছে প্রত্যেকটি জনগোষ্টির সাথে।
আপনি যদি জানতে চান মানুষের অন্ধত্ব কতোটা মারাত্মক তবে বুঝতে পারবেন, তারা একটি বিশেষ ভাষা যা মানুষের দ্বারা হয়েছে আবি®কৃত ও রচিত, যথা আরবি ভাষা, বহুলোক মনে করে উক্ত ভাষাটা খোদার নিজস্ব ভাষা, উক্ত ভাষার অবমাননা করার অর্থ হলো খোদাকে অবমাননা করার সমতুল্য। যারা আরবি ভাষা তুচ্ছজ্ঞান করে তারা পরিষ্কার জাহান্নামি গোষ্টি, এমন ফতোয়া দিতে শুনেছি আলেম নামের বাকপটু বাচালদের মুখে। খোদা আর ভাষা সমমানে একক স্তরে তুলে আনা যে কতোটা বিভ্রান্তিমুলক কাজ, তা কারো কাছে প্রকাশ করার উপায় নেই।
কাপর-চোপর যে ধর্ম নয়, নয় ধর্মের বাহক, তাও অনেকে জানে না। ধর্ম বিষয়ক জ্ঞান হলো খোদা বিষয়ক জ্ঞান, যে ব্যক্তি খোদার সাথে যুক্ত, তিনিই তো হতে পেরেছেন ধার্মিক ব্যক্তিতে পরিণত। তা আপনি কোথায় গিয়ে খোদার সন্ধান পাবেন? বিশ্বের কোথাও এমন কোনো পবিত্র স্থান বা বস্তু নেই, যেথা গিয়ে বা যা কিছু স্পর্শ করে আপনি হতে পারবেন এক রূপান্তরিত ব্যক্তি। পৃথিবীটা সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের দেহটিকে বাঁচিয়ে রাখা ও সুরক্ষা করার জন্য। আমাদের দুটো দেহ রয়েছে, একটি হলো ভৌতিক বা জড় পদার্থের দেহ, বস্তুগত যা বাঁচিয়ে রাখার জন্য চাই বস্তুসামগ্রী, আর একটি রয়েছে রুহানি দেহ, যা বাঁচিয়ে রাখার জন্য চাই পাকরূহ, আর পাক খোদার বিষয়ে যে সকল বর্ণনা আমরা জানি ও অন্যকে জানাই, তার জন্য প্রয়োজন পড়ে কতকগুলো ভাষা যা কতিপয় লোক উক্ত চিহ্নগুলোর অর্থ তাৎপর্য বুঝতে পারে। ভাষা তো কেবল শব্দ ও কলমের আঁকিঝুকি। প্রচলিত ভাষা বলুন আর থাকে অজানা ভাষা বলুন, তা শিশুকাল থেকে শিখে সকল ব্যক্তিবর্গ। যেমন প্রথমে আক্ষরিক জ্ঞান, অক্ষর চেনা, তারপরে শব্দ গঠন, তারপর বাক্য, এমনিকরে প্রেমপত্র নিয়ে প্রিয়জনকে তুষ্ট করা হয়, তাদের জানান দেয়া হয় ব্যক্তির হৃদয়ে জমে আছে প্রেমের অফুরান ভান্ডার। কেবল উর্দ্ধশ্বাসে ছুটে আসলেই সারবে।
খোদা নিজেই হলেন প্রেম, আর যে ব্যক্তি প্রেমে বিরাজ করে, সে অবশ্যই খোদার মধ্যে অবস্থান করে। খোদার প্রেম ও তার প্রেমের দরিয়া বিশাল, যার নেই কোনো কুল কিনারা। যে কোনো জঘন্য পাপীকে তিনি গ্রহন করতে থাকেন সদা প্রস্তুত, স্নাতশুভ্র করার মানসে। মানুষ কখনো কখনো খোদার কাছ থেকে কর্য করে নিয়ে প্রেমিক সাজতে সচেষ্ট হয়, তবে তেমন ক্ষেত্রে যদি তারা অনবরত খোদার সাথে যুক্ত ও খোদার রাজ্যে নিয়ত বসবাস করে, তবে তাদের প্রেম শুণ্য হবার ভয় থাকে না।
মসিহ যেমন শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি আঙ্গুর লতা, আর তাঁর সাহাবিগণ হলো উক্ত লতার শাখা-প্রশাখা, যেসকল শাখা-প্রশাখা প্রধান লতার সাথে থাকে সদা যুক্ত, তেমন শাখাগুলো নিয়ত বেঁচে থাকে, আর তা ফুলে ফলে পত্রপলবে ভরপুর থাকে।
কোনো ভাষা নয় খোদার বহিপ্রকাশিত রূপ। কোনো মানুষ খোদা নয়, নয় খোদার বিকল্প সৃষ্টি। মানুষকে খোদার স্থানে সম্মান দেয়া হবে খোদার সাথে তুলনা করা, ফলে খোদার অবমাননা করা হয়। আদমসূত সকল মানুষ হলো গুনাহগার, খোদার গৌরব বিনাশকারি, যারা কেবল ইবলিসের কুটমন্ত্রনায় নিয়ত জীবন-যাপন করে চলছে। বিশ্বের যাবতীয় হত্যাযজ্ঞ কেবল ইবলিসের কুটচালে পড়ে মানুষ ঘটাচ্ছে। সকলেই আজ ইবলিসাস্রিত। খুঁজে দেখুন, এমন কোনো ব্যক্তি পাওয়া যায় কিনা, যারা বা যে কোনো পাপ করে নি। অসম্ভব! কাবিলের হাতে হাবিলের রক্ত ক্ষরিত হবার পর থেকে দুর্বলের রক্ত আজ পর্যন্ত ঝরছে সবল সন্ত্রাসিদের হাতে, যাকে কোনো মতেই খোদার আজ্ঞা বলে সার্টিফাই করা বা প্রত্যায়ন পত্র দেয়া সম্ভব নয়। যারা মানুষ খুন করে তারা কাবিলের অনুসারী আর যারা কাবিলদের হাতে হত হয়ে চলছে, তারা বিনম্র হাবিলের স¤প্রদায় বলা হলে অত্যুক্তি করার কোনো ভয় আছে কি? গোটা বিশ্ব আজ বিতর্কিত হয়ে আছে। যেমন আন্ডা আগে না মুরগী আগে।
আমরা তেমন বিতর্কের উর্দ্ধে উঠে এসে খোদার অস্তিত্তে¡ শতভাগ বিশ্বাস স্থাপন করি। তিনি পূতপবিত্র এবং শতভাগ। ধার্মিক কেবল বিশ্বাসহেতু বেঁচে থাকে। একজন গুনাহগার ব্যক্তি অনেক কিছুই করতে পারে, করে থাকে, তবে তার পক্ষে অর্থবহ কাজ হলো ‘অনুসোচনা’। যা কিছু করার জন্য সে আদিষ্ট ছিল তার এক শতাংশও সে করতে পারে নি, একথাটি আন্তরিকভাবে স্বীকার করাই হলো উক্ত ব্যক্তির জন্য নৈতিক দায়িত্ব। যেমন কেতাবে বর্ণিত রয়েছে, ‘আমার লোকেরা, যাদের আমার বান্দা বলে ডাকা হয় তারা যদি নম্র হয়ে মুনাজাত করে ও আমার রহমত চায় এবং খারাপ পথ থেকে ফেরে, তবে বেহেশত থেকে তা শুনে আমি তাদের গুনাহ মাফ করব এবং তাদের দেশের অবস্থা ফিরিয়ে দেব। (২খান্দানামা ৭ ঃ ১৪)।
আমাদের ফরিয়াদ কেবল মাবুদের সকাশে পেশ করতে হবে, যিনি নিজেই মেহেরবান, মহব্বতের তাগিদে যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, ঘোষণা দিয়েছেন তাঁর স্বীয় প্রতিনিধি হিসেবে। তিনি নিজেই মানব সুরতে ভূপৃষ্টে নেমে এসেছেন মানুষের কৃতপাপের কাফফারা শোধ দেবার জন্য। খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ আর কেউই নন, তিনিই মানবরূপে বাতেনি খোদার হুবহু প্রকাশ। তিনি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমি মানুষ, যাকে পাপ ও দিয়াবল আদৌ স্পর্শ করতে পারে নি, বরং তিনিই চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছেন ইবলিসের মস্তক।
মানুষ মূলতঃ খোদার সুরতপ্রাপ্ত খোদারই প্রতিনিধি, পথিমধ্যে ইবলিসের মন্ত্রে খেই হারিয়ে ফেলেছিল। যেই মুহুর্তে সে নিজের ভুল ও অবাধ্যতার পরিণাম বুঝতে পারলো, অমনি অনুসোচনায় সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়লো, জুড়ে দিল কান্না, ঝড়াতে শুরু করলো মষুলধারে অশ্র“বারি যা খোদার দরবার পর্যন্ত আর্দ্র করে ফেললো। আর মাবুদ নিজেই প্রেম, মানুষের কান্না সহ্য হবার নয় তাঁর কাছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিলেন মানব মুক্তির, যেমনটা আমরা দেখতে পাই পিতার দরদ অপব্যায়ী দুষ্ট অবাধ্য পুত্রের প্রতি। নির্ভয়ে আমরা মসিহের কাছে ছুটে আসতে পারি মসিহের ক্রোড়ে যিনি হলেন গুনাহগারদের জন্য একমাত্র মুক্তিদাতা!
মনে রাখবেন, বেহেশত-দোযগ বন্টনের ভার কোনো মানুষের হাতে খোদা তুলে দেন নি, তা সম্পূর্ণ খোদার হাতে সুরক্ষিত। এমন কি কোনো নবী-রাসুলদের হাতেও সে দায়িত্বভার তিনি তুলে দেন নি, কেননা আদমসূত প্রত্যেকটি ব্যক্তি হলো গুনাহগার। যদিও কেউবা বলে বেড়ায়, পাইকারি হারে সকল নবী-রাসুল হলেন বেগুনাহ, আসলে খোদার কালাম ও ইতিহাস তাদের জানা না থাকার কারণে আন্দাজ অনুমানের উপর ভিত্তি করে এমন মন্তব্য করে থাকে, যা জন্মান্ধের দ্বারা প্রদত্ত হাতীর বর্ণনা দেবার সামিল। এমনিতে মুখস্ত বিদ্যা জাহির করার সময় অধিকাংশ ব্যক্তি বলে বেড়ায়, নবীদের সংখ্যা হলো একলক্ষ চব্বিস হাজার, মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার অথবা আরো অধিক, তবে হাতের করগুণে দেখতে গেলে তারা কেউই চব্বিশ হাজার নবীর তালিকা প্রনয়ন করতে পারবে না, তা আমি হলফ করে বলতে পারি।
প্রাপ্ত তথ্যমতে আদম (আ.) থেকে শুরু করে গণনা করা হলে দেখা যায়
১। হযরত আদম ও তাঁর পুত্র কন্যা
২। নূহ ও তার পুত্র কন্যা
৩। ইব্রাহিম ও তার পুত্র কন্যা
৪। ইসহাক
৫। ইয়াকুব
৬। ইউসুফ
৭। মুসা
৮। গিদিয়ান
৯। শমুয়েল
১০। শ্যামসন
১১। দাউদ
১২। সোলায়মান
১৩। ইলিয়াস
১৪। ইলিশাহ
১৫। ইউনুস
১৬। হোসেয়া
১৭। ইসাইয়া
১৮। জোসিয়া
১৯। জেরোমিয়া
২০। দানিয়েল
২১। যিহুদা
২২। ইস্রা
২৩। নেহামিয়া
২৪। মালাখি
২৫। ঈসা মসিহ
আদম থেকে শুরু করা হলে দেখা যায়, তিনি ইবলিসের কুটচালে রাজি হবার ফলে হলেন খোদার অবাধ্য, হলেন এদন-কানন থেকে বিতাড়িত, নূহ নবীর সময় গোটা সৃষ্টি বানের জলে ডুবে ও পঁচে গেল। নবীদের মধ্যে সকলেই খোদাকে এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করেছেন, কেউবা ঘুসি মেরে মানুষ হত্যা করেছে, কেউবা তরবারিঘাতে মানুষ কতল করেছেন; এমনি কত কি যে ঘটনা ঘটেছে তাদের জীবদ্ধশায়, তার পুরোটি ইতিহাসের পাতায় তুলে ধরা সম্ভব নয়; তবে মজার বিষয় হলো, খোদা ক্রোধে ধির ও দয়াতে মহান। তিনি মহব্বত ও মেহেরবান। খোদার পূতপবিত্রতার হুবহু প্রকাশ আমরা দেখতে পাই মানবরূপে প্রকাশিত খোদার কালাম ও পাকরূহ খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহের মাধ্যমে।
তিনি মানুষকে আঘাত দিতে আসেন নি বরং গুনাহের যাতাকলে পিষ্ট অসহায় আদম সন্তানদের রক্ষা করার জন্যই নেমে এলেন কলুষিত ভূতলে, প্রেমের পরাকাষ্টা হলেন তিনি, মানুষের পাপের প্রায়শ্চিত্ত শোধ দিলেন নিজের পূতপবিত্র রক্তের মূল্যে যা হলো সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমি, অভাবিত ঐশি প্রেম অন্ধ বিবদমান জিঘাংসাকাতর মানুষ কষ্মিনকালেও ভাবতে পারে না।
চোখের চিকিৎসক যেমন চোখের ছানি কেটে দেয়, একইভাবে, মসিহ মানুষের হৃদয়ে পুঞ্জিভুত পাপ কালিমা ধুয়ে মুছে দেবার জন্যই আত্মকোরবানি দিলেন, যেন যারাই বিশ্বাস নিয়ে তাঁর মধ্যে ডুবে যায় তারাই পরিণত হয়ে ওঠে এক নতুন সৃষ্টি হিসেবে, তারা মসিহের মতই পূতপবিত্র সম্মানি বিনম্র ব্যক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়, যা কেবল পরমকরুনাময় খোদার হাতেই হয়ে থাকে সম্পন্ন।
মানুষের পক্ষে যা কিছু অসম্ভব তা সাধন করা খোদার পক্ষে অতীব সহজ। মসিহ আমাদের তুলে দিয়েছেন খোদার হাতে যেন আমরা নিত্যদিন অদৃশ্য খোদার দৃশ্যমান ব্যক্তিবর্গরূপে সমাজে বিচরণ করি।