তা হলে বিষয়টি দিবালোকের মতো পরিষ্কার হলো, পৃথিবীর যাবতীয় আচার-অনুষ্ঠান ক্রিয়াকর্ম সবই মানুষের দ্বারা, মানুষের হাতে, মানুষের জন্য হয়েছে বিধিবদ্ধ। পৃথিবীটাকে ভোগদখলের জন্য মানুষকে প্রজ্ঞা-কৌশল দেয়া হয়েছে, তারা যেন তাদের প্রয়োজন ও ইচ্ছেমতো সাজিয়ে গুছিয়ে নেয়। মানুষের মধ্যে পাপবোধ ও স্বার্থপরতা জন্মসূত্রে প্রাপ্ত প্রথম সৃষ্টি লগ্নে যা ছিল পূতপবিত্র নির্মাতার মতো, কেননা তিনিই সেকথা ঘোষণা দিয়েছেন ‘আপন সুরতে খোদা গড়িয়া মানুষ, আকার দিলেন তাদের নারী ও পুরুষ…।’ আমরা সকলে ব্যতিক্রমহীনভাবে অবাধ্য আদমের সন্তান, তাই আমাদের মধ্যে ঐ সকল দোষ অবশ্যই থাকবে। মজার বিষয় হলো, মানুষের মধ্যে প্রথমে পুরে দেয়া হয় ঐশি গুনাবলি যা পরবর্তী অভিশপ্ত শয়তানের প্ররোচনায় কলুষিত হয়ে পড়ে। স্বর্ণের খনি থেকে কেবল স্বর্ণই তোলা হয় না ওর সাথে থাকে আরো অনেক কিছু আক্ষরিক পদার্থ যা পরবর্তী সময় শোধন করে নিতে হয়। মানুষ শোধন করার জন্য রয়েছে বিদ্যাপীঠ যেখানে নৈতিক শিক্ষা দেয়া হয়, আর তা ধর্মিয় শিক্ষার আলোকে। মানুষ তো প্রথমেই পরাভূত, নিরুপায় অসহায় তবে তাকে চিরতরে ফেলে দেয়া হয় নি। খ্যাপলা জাল সাজোরে ছুড়ে মারে গভীর পানিতে, তবে চুটার রশি বা টিকিটি থাকে যিনি ছুড়ে মারের তার হাতের মুঠোয়। অবাধ্য আদমকে যদিও তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, তা কোথা, সে তো খোদারই রাজ্যে। এছাড়া আর তো কোথা যাবার স্থান নেই, নেই কোনো উপায়।