বাঁধাকপি একটি আদর্শ সবজি, যেমন ফুলকপি। তবে বাঁধাকপি শব্দটি অবশ্যই রহস্যাবৃত! বাঁধা শব্দটি নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি করে, যেমন বাঁধাধরা নিয়ম, চোরটা বাঁধা পড়েছে, মানুষ অশিক্ষা অজ্ঞতায় বাঁধা, মানুষের অগ্রগতি ও সমাজ বিবর্তনের বাঁধাগুলো অবশ্যই চিহ্নিত করে দেখতে হবে, জঞ্জাল মূলোৎপাদনকল্পে।
ধর্মীয় ক্ষেত্রে তেমন বলা চলে, যাহেলিয়া বা অন্ধকারাচ্ছান্ন যুগ মানবসভ্যতার বিকাশে বড়ই অন্তরায়! প্রত্যেকটি মানুষের নিজের তথা সমাজের স্বার্থে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে, তেমন জগদ্ধল পাথর, উপড়ে ফেলতে। কথায় বলে, একের জন্য যা বোঝা, তা অবশ্যই দশের জন্য লাঠি স্বরূপ।
বাঁধাকপির ক্ষেত্রে বলা চলে, ওটা যে কি বেঁধে রেখেছে তা আবিষ্কার করা আবশ্যক। যেমন কাপড়ের অন্তরালে একটা কিছু থাকে লুকানো, সিন্ধুকের মধ্যে থাকে কোনো কিছু সুরক্ষিত, যেমন ব্যক্তিগত বিষয়াদি। তবে সামগ্রিক স্বার্থে যদি কিছু হেফাজত করতে হয়, তবে তেমন ক্ষেত্রে অবশ্যই থাকতে হবে সকলের জানা।
আমি সমাজ বিবর্তনের স্বার্থে অন্তরায়গুলো খুঁজে ফিরছি, সদা-সর্বদা। আমার প্রিয় গান হলো “স্বার্থের টানে… দূরে সরে চলে যায়”। তা আমাদের যাত্রারম্ভে ‘ভ্রাতৃহন্তা’ হয়েই করেছি যাত্রা শুরু। বন্ধুবর আপত্তি তুললো, না, না, অবাধ্যতার ফলেই আমাদের তাড়িয়ে দিলেন মহান স্রষ্টা, যিনি স্বীয় সুরতে, অতি আদর যত্ন করে, তাঁর প্রতিনিধিত্ব করনার্থে সৃষ্টি করেছিলেন।
কথাটা সত্য, অবাধ্যতা ও সন্দেহ, নিরঙ্কুষ নির্ভরতায় চির ধারায়, যার ফলে ঐশি নির্ভরতা ও আদর্শ থেকে হলো স্খলিত, অন্তরে জন্মালো লোভ-লালসা, স্বার্থপরতার বিষবৃক্ষ, যা কলায় কলায় বৃদ্ধি পেয়ে এক সময় প্রেম কানন বিষাক্ত পুতিগন্ধময় করে তুললো।
মানুষ অবলিলায়, মানুষকে নিপাত করে চললো, যার প্রকৃষ্ট বাস্তবায়ন দৃষ্ট হলো, কাবিলে হাতে হাবিলের খুন। মনে রাখতে হবে, মহান নির্মাতা খোদা, মানুষ খুন হতে দেখে আদৌ সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। কাবিল হলো পলাতক, বুঝতে পারলো তার অপরাধের চুড়ান্ত খতিয়ান। মানব হত্যা চিরকালের জন্য ঘৃণিত অপরাধ। পরষ্পরকে মহব্বত করার তাগিদ রয়েছে ঐশি নির্দেশনায়। অবশ্য যে তা মেনে চলে, বিধিবাক্য তো তার জন্যই হবে প্রযোজ্য। আর যিনি তা নিজ জীবনে প্রয়োগ করেন, সুফল তার জীবন থেকেই হবে প্রষ্ফুটিত।
ঐশি নির্দেশনা, কে, কিভাবে পেল, তেমন নির্ভরযোগ্য খবর আমাদরে জ্ঞাত থাকা উত্তম। অবশ্য এর সাথে ইতিহাসও জানতে হবে। কথায় বলে “হাজার ইদুর মেরে বিড়াল গেল হজ্বে।”
একটি ইমারত নির্মানের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে ওলন, যার অর্থ হলো ভারসাম্য বজায় রেখে ঋজু অবস্থায় ইমারত তুলতে হবে। মানুষের ক্ষেত্রেও এমন দশটি ওলন দেয়া হয়েছে, যার সাহায্যে, ব্যক্তিটি সবল সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর উক্ত দশটি ওলন হলো, দশ শরিয়ত। খোদা মূসা নবীকে এই দশ আজ্ঞা প্রদান করলেন যা দশ হুকুম নামে সুপরিচিত। কথায় বলে রং নাকি সাতটি যেমন- ‘বেনীআসহকলা’ বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল Red, Orange, Yellow, Green, Blue, Indigo & Violet. তা প্রাকৃতিক রংগুলোকে নানাভাবে মিশ্রণ করে লোকে অগণিত রংঙ্গের সৃষ্টি করে রেখেছে।
খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ উক্ত দশ হুকুম, সারসংক্ষেপ করে, মাত্র দুটো হুকুমে করেছন পরিণত, যার মধ্যে সবগুলো আজ্ঞার বাস্তবায়ন ঘটেছে। যেমন সমস্ত মন, সমস্ত প্রাণ, সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমাদের সৃষ্টিকর্তা খোদাকে মহব্বত করবে, আর দ্বিতীয়টি হলো আত্মবৎ প্রতিবেশিকে মহব্বত করবে।
ধর্মের নামে প্রচারকগণ কেন লুকোচুরি খেলা খেলছে? এ প্রশ্ন কে করবে, আর কেইবা জবাব দিবে? খোদাকে ব্যক্তিগত পুজি বানিয়ে, একদল দুষ্ট, অবাধ বাণিজ্য চালিয়ে আসছে, সেই সাত-সকাল থেকে। বেদবাক্য সুদ্রের কানে পৌছালে নাকি গলিত সিসা ঢেলে তেমন কান বন্ধ করে দেয়া হতো।
ল্যাটিন ভাষা ছিল বাইবেলের ভাষা, অবশ্য গ্রীকভাষা ও হিব্রুবাষা নিয়ে বর্তমানেও কম টানাটানি করতে দেখছি না। আর এক পক্ষ, আরবি ভাষা আস্টে পৃষ্টে বেধে রেখেছে, খোদার নিজস্ব ভাষা হিসেবে। এ নিয়ে যেন কেউ কোনো মন্তব্য করতে নারাজ, সাহস না পায়, তেমন অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে আসছে জাহেলিয়ার সুবাদে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে ঐ অবোধ্য আরবি ভাষায়, যেমন বাহ্মণ মন্ত্র পাঠ করে পুরাতন যুগের সাংস্কৃতিক ভাষায়, যে ভাষাগুলো সাধারণ জনতা আদৌ বুঝতে পারে না। তাই তারা বাধ্য পুনঃ পুনঃ একই বাক্য ক্লান্তিহীনভাবে আওড়াতে। অবশ্য বোধগম্য মাতৃভাষায় কোনো অবোধ পর্যন্ত তেমন অনুশীলন করে না। কোনো ব্যক্তি মাতৃভাষায় যদি বারবার একই বাক্য বা শব্দ উচ্চারণ করে চলে, তবে স্বজন-প্রিয়জন তাকে নিয়ে চিন্তায় পড়ে, মানসিক ভারসাম্যহারা মনে করে। কিন্তু অবোধগম্য ভাষাতে যখন তেমন বাখ্য শত সহস্রবার আওড়াতে দেখে, তখন তাকে ধার্মীক বা পরহেজগার ভেবে সম্মানের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অবশ্য এমন প্রবণতা কেবল জাহেলিয়াতের কারণেই পাত্তা পায়।
শিক্ষাকে আলোর সাথে তুলনা করা হয়। যেথায় রয়েছে আলো উপস্থিতি সেথা অন্ধকার কি করে ঠাই পেতে পারে, দয়া করে বলবেন কি? একটি শিক্ষিত ব্যক্তি ও তেমন সমাজ ধোকাবানি ভন্ডামি সহজেই ধরে ফেলতে পারে; সজাগ সচেতন ব্যক্তি ধোকায় পড়ে না কোনো মতেই। ইবলিস হলো চরম ধোকাবাজ। সে সদা-সর্বদা খোদার বিপরীতে যুক্তি দাড় করে আসছে। এদন উদ্যানে কুটচাল শুরু করলো, তার জালে ধরা খেল প্রথম জোড়া নর-নারী, তাদের ধমনিতে প্রবেশ করালো লোভ লালসার রক্তধারা, যা তাদের ঔরষজাত সন্তানদের শিরা উপশিরায় বহমান, একই পদ্ধতিতে; যার উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত কাবিলের হাতে হাবিল খুন। যদিও ঘটনাটির জন্য আপনি আমি কেউই দায়ী নই, তবুও শুনামাত্র হৃদয়ে অব্যক্ত বেদনা গুমরে ওঠে। অবশ্য আমরা সংবেদনশীল মানুষ, যে জন্য এমন ঘটনায় আতকে উঠি। নিজের অজান্তে চোখের কোণা ভিজে যায়!
দশ আজ্ঞা বলি অথবা সারসংক্ষেপ দুই আজ্ঞা বলি, বণিক সম্প্রদায় আজ্ঞাগুলোকে নিজস্ব সৃষ্ট মতবাদ দিয়ে এমন জটাধারি কিম্ভুত কিমাকার আকৃতিতে রূপ দিয়েছে, সাধারণ মানুষ তা দেখে সম্পূর্ণ ভড়কে যায়, এবং চার সীমানায় ঘেষতেও ভয় পায়। ধর্মের মধ্যে তারা না খুজে পায় প্রগতি, না খুঁজে পায় সুমহান খোদার উপস্থিতি। রবিঠাকুর খেদোক্তি করে বলেছেন, ‘ধর্মের বিকার’ অর্থাৎ ধর্মের কারণে মানুষ আজ বিকার গ্রস্থ অর্থাৎ মাতাল। আসলে কি ধর্মের বাণী, সুস্থ্য মানুষকে মাতাল করে তোলে, না মাতালকে সুস্থ্য করার জন্য ঐশি বাণী হয়েছে জারিকৃত? মসিহ তাই বলেছেন, সুস্থ্যদের জন্য ডাক্তারের প্রয়োজন পড়ে না, তিনি এসেছেন অসুস্থ্য অপাক্তেয় ব্যক্তিদের সুস্থ্য করে তুলতে, হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে নিতে (লুক ১৯:১০)।
মসিহের শিক্ষালোকে জারিত ব্যক্তি রূপান্তরিত হয়ে খোদ মসিহের মতই হয়ে ওঠে; যা কেবল খোদার নিজের হাতের কাজ, অপাংক্তেয় ব্যক্তিটিকে পংক্তিবদ্ধ করার জন্য মসিহের আগমন, নিজের পূতপবিত্র রক্তদান করলেন, যেন সকল আদম সন্তান পুনরায় লাভ করতে পারে খোদার সুরত, মানসম্মান ও পবিত্রতা।
ধর্মীয় ক্ষেত্রে তেমন বলা চলে, যাহেলিয়া বা অন্ধকারাচ্ছান্ন যুগ মানবসভ্যতার বিকাশে বড়ই অন্তরায়! প্রত্যেকটি মানুষের নিজের তথা সমাজের স্বার্থে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে, তেমন জগদ্ধল পাথর, উপড়ে ফেলতে। কথায় বলে, একের জন্য যা বোঝা, তা অবশ্যই দশের জন্য লাঠি স্বরূপ।
বাঁধাকপির ক্ষেত্রে বলা চলে, ওটা যে কি বেঁধে রেখেছে তা আবিষ্কার করা আবশ্যক। যেমন কাপড়ের অন্তরালে একটা কিছু থাকে লুকানো, সিন্ধুকের মধ্যে থাকে কোনো কিছু সুরক্ষিত, যেমন ব্যক্তিগত বিষয়াদি। তবে সামগ্রিক স্বার্থে যদি কিছু হেফাজত করতে হয়, তবে তেমন ক্ষেত্রে অবশ্যই থাকতে হবে সকলের জানা।
আমি সমাজ বিবর্তনের স্বার্থে অন্তরায়গুলো খুঁজে ফিরছি, সদা-সর্বদা। আমার প্রিয় গান হলো “স্বার্থের টানে… দূরে সরে চলে যায়”। তা আমাদের যাত্রারম্ভে ‘ভ্রাতৃহন্তা’ হয়েই করেছি যাত্রা শুরু। বন্ধুবর আপত্তি তুললো, না, না, অবাধ্যতার ফলেই আমাদের তাড়িয়ে দিলেন মহান স্রষ্টা, যিনি স্বীয় সুরতে, অতি আদর যত্ন করে, তাঁর প্রতিনিধিত্ব করনার্থে সৃষ্টি করেছিলেন।
কথাটা সত্য, অবাধ্যতা ও সন্দেহ, নিরঙ্কুষ নির্ভরতায় চির ধারায়, যার ফলে ঐশি নির্ভরতা ও আদর্শ থেকে হলো স্খলিত, অন্তরে জন্মালো লোভ-লালসা, স্বার্থপরতার বিষবৃক্ষ, যা কলায় কলায় বৃদ্ধি পেয়ে এক সময় প্রেম কানন বিষাক্ত পুতিগন্ধময় করে তুললো।
মানুষ অবলিলায়, মানুষকে নিপাত করে চললো, যার প্রকৃষ্ট বাস্তবায়ন দৃষ্ট হলো, কাবিলে হাতে হাবিলের খুন। মনে রাখতে হবে, মহান নির্মাতা খোদা, মানুষ খুন হতে দেখে আদৌ সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। কাবিল হলো পলাতক, বুঝতে পারলো তার অপরাধের চুড়ান্ত খতিয়ান। মানব হত্যা চিরকালের জন্য ঘৃণিত অপরাধ। পরষ্পরকে মহব্বত করার তাগিদ রয়েছে ঐশি নির্দেশনায়। অবশ্য যে তা মেনে চলে, বিধিবাক্য তো তার জন্যই হবে প্রযোজ্য। আর যিনি তা নিজ জীবনে প্রয়োগ করেন, সুফল তার জীবন থেকেই হবে প্রষ্ফুটিত।
ঐশি নির্দেশনা, কে, কিভাবে পেল, তেমন নির্ভরযোগ্য খবর আমাদরে জ্ঞাত থাকা উত্তম। অবশ্য এর সাথে ইতিহাসও জানতে হবে। কথায় বলে “হাজার ইদুর মেরে বিড়াল গেল হজ্বে।”
একটি ইমারত নির্মানের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে ওলন, যার অর্থ হলো ভারসাম্য বজায় রেখে ঋজু অবস্থায় ইমারত তুলতে হবে। মানুষের ক্ষেত্রেও এমন দশটি ওলন দেয়া হয়েছে, যার সাহায্যে, ব্যক্তিটি সবল সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর উক্ত দশটি ওলন হলো, দশ শরিয়ত। খোদা মূসা নবীকে এই দশ আজ্ঞা প্রদান করলেন যা দশ হুকুম নামে সুপরিচিত। কথায় বলে রং নাকি সাতটি যেমন- ‘বেনীআসহকলা’ বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল Red, Orange, Yellow, Green, Blue, Indigo & Violet. তা প্রাকৃতিক রংগুলোকে নানাভাবে মিশ্রণ করে লোকে অগণিত রংঙ্গের সৃষ্টি করে রেখেছে।
খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ উক্ত দশ হুকুম, সারসংক্ষেপ করে, মাত্র দুটো হুকুমে করেছন পরিণত, যার মধ্যে সবগুলো আজ্ঞার বাস্তবায়ন ঘটেছে। যেমন সমস্ত মন, সমস্ত প্রাণ, সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমাদের সৃষ্টিকর্তা খোদাকে মহব্বত করবে, আর দ্বিতীয়টি হলো আত্মবৎ প্রতিবেশিকে মহব্বত করবে।
ধর্মের নামে প্রচারকগণ কেন লুকোচুরি খেলা খেলছে? এ প্রশ্ন কে করবে, আর কেইবা জবাব দিবে? খোদাকে ব্যক্তিগত পুজি বানিয়ে, একদল দুষ্ট, অবাধ বাণিজ্য চালিয়ে আসছে, সেই সাত-সকাল থেকে। বেদবাক্য সুদ্রের কানে পৌছালে নাকি গলিত সিসা ঢেলে তেমন কান বন্ধ করে দেয়া হতো।
ল্যাটিন ভাষা ছিল বাইবেলের ভাষা, অবশ্য গ্রীকভাষা ও হিব্রুবাষা নিয়ে বর্তমানেও কম টানাটানি করতে দেখছি না। আর এক পক্ষ, আরবি ভাষা আস্টে পৃষ্টে বেধে রেখেছে, খোদার নিজস্ব ভাষা হিসেবে। এ নিয়ে যেন কেউ কোনো মন্তব্য করতে নারাজ, সাহস না পায়, তেমন অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে আসছে জাহেলিয়ার সুবাদে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে ঐ অবোধ্য আরবি ভাষায়, যেমন বাহ্মণ মন্ত্র পাঠ করে পুরাতন যুগের সাংস্কৃতিক ভাষায়, যে ভাষাগুলো সাধারণ জনতা আদৌ বুঝতে পারে না। তাই তারা বাধ্য পুনঃ পুনঃ একই বাক্য ক্লান্তিহীনভাবে আওড়াতে। অবশ্য বোধগম্য মাতৃভাষায় কোনো অবোধ পর্যন্ত তেমন অনুশীলন করে না। কোনো ব্যক্তি মাতৃভাষায় যদি বারবার একই বাক্য বা শব্দ উচ্চারণ করে চলে, তবে স্বজন-প্রিয়জন তাকে নিয়ে চিন্তায় পড়ে, মানসিক ভারসাম্যহারা মনে করে। কিন্তু অবোধগম্য ভাষাতে যখন তেমন বাখ্য শত সহস্রবার আওড়াতে দেখে, তখন তাকে ধার্মীক বা পরহেজগার ভেবে সম্মানের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অবশ্য এমন প্রবণতা কেবল জাহেলিয়াতের কারণেই পাত্তা পায়।
শিক্ষাকে আলোর সাথে তুলনা করা হয়। যেথায় রয়েছে আলো উপস্থিতি সেথা অন্ধকার কি করে ঠাই পেতে পারে, দয়া করে বলবেন কি? একটি শিক্ষিত ব্যক্তি ও তেমন সমাজ ধোকাবানি ভন্ডামি সহজেই ধরে ফেলতে পারে; সজাগ সচেতন ব্যক্তি ধোকায় পড়ে না কোনো মতেই। ইবলিস হলো চরম ধোকাবাজ। সে সদা-সর্বদা খোদার বিপরীতে যুক্তি দাড় করে আসছে। এদন উদ্যানে কুটচাল শুরু করলো, তার জালে ধরা খেল প্রথম জোড়া নর-নারী, তাদের ধমনিতে প্রবেশ করালো লোভ লালসার রক্তধারা, যা তাদের ঔরষজাত সন্তানদের শিরা উপশিরায় বহমান, একই পদ্ধতিতে; যার উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত কাবিলের হাতে হাবিল খুন। যদিও ঘটনাটির জন্য আপনি আমি কেউই দায়ী নই, তবুও শুনামাত্র হৃদয়ে অব্যক্ত বেদনা গুমরে ওঠে। অবশ্য আমরা সংবেদনশীল মানুষ, যে জন্য এমন ঘটনায় আতকে উঠি। নিজের অজান্তে চোখের কোণা ভিজে যায়!
দশ আজ্ঞা বলি অথবা সারসংক্ষেপ দুই আজ্ঞা বলি, বণিক সম্প্রদায় আজ্ঞাগুলোকে নিজস্ব সৃষ্ট মতবাদ দিয়ে এমন জটাধারি কিম্ভুত কিমাকার আকৃতিতে রূপ দিয়েছে, সাধারণ মানুষ তা দেখে সম্পূর্ণ ভড়কে যায়, এবং চার সীমানায় ঘেষতেও ভয় পায়। ধর্মের মধ্যে তারা না খুজে পায় প্রগতি, না খুঁজে পায় সুমহান খোদার উপস্থিতি। রবিঠাকুর খেদোক্তি করে বলেছেন, ‘ধর্মের বিকার’ অর্থাৎ ধর্মের কারণে মানুষ আজ বিকার গ্রস্থ অর্থাৎ মাতাল। আসলে কি ধর্মের বাণী, সুস্থ্য মানুষকে মাতাল করে তোলে, না মাতালকে সুস্থ্য করার জন্য ঐশি বাণী হয়েছে জারিকৃত? মসিহ তাই বলেছেন, সুস্থ্যদের জন্য ডাক্তারের প্রয়োজন পড়ে না, তিনি এসেছেন অসুস্থ্য অপাক্তেয় ব্যক্তিদের সুস্থ্য করে তুলতে, হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে নিতে (লুক ১৯:১০)।
মসিহের শিক্ষালোকে জারিত ব্যক্তি রূপান্তরিত হয়ে খোদ মসিহের মতই হয়ে ওঠে; যা কেবল খোদার নিজের হাতের কাজ, অপাংক্তেয় ব্যক্তিটিকে পংক্তিবদ্ধ করার জন্য মসিহের আগমন, নিজের পূতপবিত্র রক্তদান করলেন, যেন সকল আদম সন্তান পুনরায় লাভ করতে পারে খোদার সুরত, মানসম্মান ও পবিত্রতা।