প্রিয় সুধি
আমরা যখন কথা বলি, তখন আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, আমরা সকলেই ডুবন্ত টাইটানিকের অসহায় যাত্রীসকল! অথৈ সাগরে তরঙ্গ বিক্ষুদ্ধ সীমাহিন জলরাশিতে, আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, বাঁচার তাগিদে। ডুবন্ত যাত্রীদের কারো হাতেই বাঁচার কোনো উপায় নেই অবশিষ্ট। সাগর ফেনা কি পারে আমাদের বাঁচাতে? আছে কি আমাদের হাতে উদ্ধার পাবার কোনো ব্যবস্থা?
অবশ্যই বাঁচার জন্য উপর থেকে এক অভিনব ব্যবস্থা আসতে হবে, অথৈ জলরাশি যাকে ডুবাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ! এখন প্রশ্ন হলো, তাহলে কোন সাগরে তথা কোন প্রকারের ক্লেদাক্ত জলে আমরা ডুবন্ত, আর কোন সে জাহাজ যাকে টাইটানিকের সাথে তুলনা করা হয়েছে?
আমরা সকলে পাপের সাগরে ডুবন্ত, প্রভেদ নেই, সকলেই সমভাবে ভেসে চলছি, অসহায়, নিরুপায়! আর আমাদের সেই টাইটানিক জাহাজ হলেন অবাধ্য বিতাড়িত আদম, যাকে খোদা নিজের সুরতে, নিজের প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি করেছিলেন, দিয়েছিলেন প্রচুর দোয়া ও ক্ষমতা, প্রজ্ঞা, ধার্মিকতা। বড়ই আফসোসের বিষয়, অভিশপ্ত ইবলিসের কুটচালে লোভাতুরা হৃদয় পটে গেল, খোদার হুকুম তুচ্ছজ্ঞান করে লুফে নিল ইবলিসের মন্ত্র, বিপন্ন হলো সকলে অবাধ্যতার ফলে। আর তাঁর ঔরশজাত সন্তান হিসেবে আমরাও ডুবে গেলাম পাপ ও অনাচারের সাগরে।
আমাদের হাতে রয়েছে কেবলই কান্না, আর পারি ঝরাতে কেবল দু’ফোটা অশ্রুবারি, দয়াময়ের পাদপ্রান্তে। আমাদের প্রজ্ঞা, ধার্মিকতা অথবা গায়ের জোর দিয়ে কিছুই করার উপায় নেই। সম্পূর্ণ পরাভূত! আমরা বিশ্ববাসি সকলে গুনাহগার, পাইকারিহারে গুনাহগার, প্রভেদ নেই, সকলে সমান, সকলেই বিতাড়িত আদমের ঔরষজাত। ভাষা আমাদের ভিন্ন, রীতিনীতি, আচার-আচরণ ভিন্ন, জলবায়ু কতকটা ভিন্ন, কিন্তু ক্ষুৎপিপাসা, জৈবিক চাহিদা নিঃসন্দেহে একই। প্রজনন প্রক্রিয়া, আগমন প্রয়ান সেক্ষেত্রেও অভিন্ন। লাশ নিয়ে জীবিতগণ ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় নিঃশ্বেশিত হবার ব্যবস্থা করে বটে, তবে মৃত লাশের সাথে যোগ-বিয়োগ দেবার কিছুই করার থাকে না।
শতভাগ আমাদের নির্ভর করতে হবে খোদ মাবুদের অভাবিত খাঁটি নিখুঁত ব্যবস্থার উপর, যিনি আমাদের প্রেম করেছেন নিজের জীবনের মূল্য দিয়ে, ক্রয় করে নিয়েছেন পূতপবিত্র রক্তের দামে। আর তিনি হলেন আমাদের নাজাতদাতা খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ। তিনি হলেন আলাহপাকের জীবন্ত কালাম ও পাকরূহ যিনি খোদার কুদরতে পবিত্র কুমারী নারী মরিয়মের গর্ভে মানবরূপে হলেন ভূমিষ্ট। কোনো মানুষের পক্ষেই বেগুনাহ জীবন যাপন করা আদৌ সম্ভব নয় এই কলুষিত ধরাপৃষ্ঠে। পৃথিবীর কোনো গ্রন্থে তেমন নজীর দেখা যাবে না, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে কিনা ছিলেন সম্পূর্ণ বেগুনাহ, কেবলমাত্র একজন মানুষই আছেন সম্পূর্ণ বেগুনাহ, আর তিনিই পাপের নিগড় থেকে আমাদের ক্রয় করে নিয়েছেন নিজের পূতপবিত্র রক্তের মূল্যে।
মহান আলাহপাকের সুমহান পরিকল্পনা হলো মানজাতিকে রক্ষা করা, তা তাদের কৃতপাপের প্রায়শ্চিত্ত অথবা কাফফারা শোধ দেবার জন্য চাই এক বেগুনাহ মেষ, আর উক্ত চাহিদা পুরণের নিমিত্তে তিনি তার পুত্র কালেমাতুলাহ ও রূহুলাহ অর্থাৎ খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহকে মানরূপে প্রেরণ করলেন পতিত বিশ্বে, আমরা যেহেতু অত্র বিশ্বে রয়েছি যাতনাক্লিষ্ট তাই আমাদের উদ্ধার করার কারণে তাকে অবশ্য অত্র বিবদমান বিশ্বেই নেমে আসতে হলো, ঝুকে পড়ে তুলে নিতে হলো।
পুনরায় বলি, আমরা কেউই এ বিশ্বের কোথাও স্নাতশুভ্র পূতপবিত্র থাকতে পারি না, কেবল বিশ্বাস পুর্বক মসিহের ছায়াতলে যতজন হতে পেরেছে একীভুত, আজ তারাই ছুটে বেড়াচ্ছে দিকে দিকে আর্তপীড়িত হারানো সন্তানদের খুঁজে নিতে, চয়ন করতে, যেন সকলে পিতার কাছে নিভৃত ঠাই পেতে পারে, ফিরে পেতে পারে সেই অধিকার মর্যাদা যা পাপ ও অবাধ্যতার ফলে এদন উদ্যানে হারাতে হয়েছিল।
মসিহ হলেন একমাত্র মডেল বা আদর্শ যিনি হলেন সকলের নিভৃত আশ্রয়।