ঘরের মধ্যে ছোট বড় বাচ্চাকাচ্চা সদাসর্বদা ছুটাছুটি করে বেড়ায়, যা প্রত্যেক পরিবারের সাধারণ ছিত্র! লুকোচুরি খেলা খেলতে গিয়ে একটি শিশু ঢুকে পড়েছে খাটের নীচে আর একটি লুকোবার চান্স খুঁচছে আলমিরার ফাঁকে, আর একটি ডাইনিং টেবিলের নীচে ঢুকতে গিয়ে টেবিলের উপরে থাকা কাঁচের জগ পাতালে অর্থাৎ ফ্লোরে ফেলে দিল; আর যায় কোথা, জগটি ভেঙ্গে খান খান, টুকরো টুকরো, ছড়িয়ে ছিটে পড়েছে পুরো ফ্লোর জুড়ে।
শব্দ পেয়ে গৃহিনী নিনাদ তুলে ছুটে এলেন, শিশুরা ভয় পেয়ে কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে যার যার স্থানে অন্তরাত্মাশুন্য হয়ে দাঁড়িয়ে কাঁপছে। মা এবার ছাড়বে না, কাউকেই না। কারো রক্ষে নেই এ যাত্রা।
মা হাকডাক তুলে হুকুম করলেন “ঝাড়– নিয়ে আয়”, “বেলচা নিয়ে আয়” ‘একটা বালতি সাথে রাখিস”! এমন আজ্ঞা জারি করলেন। তাঁর সাহায্যকারী যথাযথ উপকরণ নিয়ে অকুস্থলে হাজির। মা সকলকে কড়া হুশিয়ার করে দিলেন, কেউ ফ্লোরে ছুটাছুটি করোনা, কাঁচের টুকরো বড়ই ধারালো, হাত পা কেটে যাবার ভয় আছে।
সাহায্যকারী যথারীতি ঝাড়– নিয়ে বড় টুকরো, ছোট টুকরো, ক্ষুদে ক্ষুদে টুকরো, মাইক্রোস্কোপিক টুকরো সবগুলো ঝাড়– দিয়ে বালতি ভর্তি করে নিলেন; মা জানেন, কেন তিনি তা করলেন; আপতদৃষ্টিতে মনে হয়, ঘরভর্তি ছেলেপুলের হাত-পা যেন না কাটে, ক্ষতিগ্রস্থ কেউ না হয় সে ব্যবস্থা হলো আসু ব্যবস্থা। আর ভাঙ্গা কাঁচগুলো হয়তো কাঁচভাঙ্গা ডাস্টবিনে ফেলে রাখবে।
বিদেশে তো কাঁচের ভাঙ্গারী আলাদা করে রাখা হয়, পরবর্তী পর্যায়ে তা সংগ্রহ করে ওভেনে ফেলে গলানো হয়; পুণরায় পাত্র প্রস্তুত করার জন্য। উন্নত দেশের উন্নত ব্যবস্থা, যাকে তারা রিসাইক্লিং বলে। বৈজ্ঞানিক উপায়ে লাভজনকভাবে সমস্যার সমাধানকল্পে এটি একটি উন্নত ব্যবস্থা, যেন ফেলে দেওয়া অকেজো মৃতের মধ্যে পুনরায় জীবনের সঞ্চার ঘটানোর প্রক্রিয়া! যদিও খোদা স্বীয় সুরতে আপন প্রতিনিধি হিসেবে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, তারা ঝঞ্জাতড়িত বিচ্ছিন্ন এলামেলো অবস্থায় যত্রতত্র হারিয়ে গেছে; কেউ কারো পরিচয় পর্যন্ত জানে না। মনে হয় তারা ভিন্ন ভিন্ন আদমের বংশজাত; আসলে খোদা তো মাত্র একজনই আদম সৃষ্টি করেছেন; সেই সহজ-সরল সূত্রে সকল মানুষ একই আদম-বংশজাত; যা নিঃসন্দেহে বলা চলে।
মানুষ আজ বহুধা, রয়েছে পরষ্পরের মধ্যে ঘোর অমিল দান্ধিক সম্পর্ক, মতবাদের কারণে, স্বার্থের কারণে, বিত্তবৈভবের কারণে তথা পাÐিত্বের কারণে, সর্বোপরি ভ্রান্তির কারণে সমাজ জামাত হয়ে পড়েছে আত্মকেন্দ্রীক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। কেউ যেন কারো সাথে একাকার হতে সমীহ করছে; মনে মনে সন্দেহ ও ভয় ঢুকে গেছে; ঠোকর খেয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে এবং ‘যে করে চক্ষুদান উল্টো তার চোখ উৎপাটন!’ তাই এতশত অভিজ্ঞতার আলোকে আজ মানুষের হৃদয়ে পুঞ্জীভূত হয়ে আছে এ সন্দেহ ভীতি সমীহ দ্বিধাদন্ধ। মানুষকে একত্রিত করার অধিকার কেবল খোদ নির্মাতা ধারণ করেন। ভাঙ্গা কাঁচের টুকরোগুলো যেমন ওভেনে ফেলে দেবার ফলে সবকটা বিগলিত হয়ে একটি নতুন মন্ড প্রস্তুত হলো, ভেঙ্গে যাওয়া জগটির মত আর একটি জগ তৈরী করা সম্ভব হলো, ঠিক একই প্রক্রিয়ায় আজ মানব সমাজ খোদ নির্মাতার হাতেই হবে নতুন সৃষ্টি। খোদা এ কারণেই পাককালাম ও পাকরূহ মানব রূপে জগতে প্রেরণ কররেন, যেন তিনি তাদের পুনরায় এক জাতি, এক মন, এক প্রাণের অধিকারী করতে পারেন। মসিহ গোটা বিশ্ববাসীকে নিষ্পাপ প্রতিপন্ন করার জন্য তাদের পাপের দায় স্বীয় পূতপবিত্র রক্তের দামে চুকিয়ে দিলেন, নিজে হলেন কোরবান। কেবল উক্ত আত্মত্যাগের ফলে, বিশ্বাসপূর্বক, আমরা হতে পেরেছি গুনাহমুক্ত, স্বাধীন ঐশি সন্তান, খোদার দরবারে সমাদ্রিত সমাসীন, আর তা অনন্ত জীবনের জন্য।
অনেকে ভুল করে বলে বসেন, “প্রভুতে নিদ্রাগত” আসলে প্রভু কখনোই নিদ্রা যান না, ঘুমে ঢুলেও পড়েন না। তিনি সদা জ্রগাত এক রুহানী সত্ত্বা। দৈহিকভাবে আমরা তাঁর এবাদত করতে পারি না; তাঁর ভজনা হবে রূহে ও সত্যে (ইউহোন্না ৪ : ২৪)। আমাদের মধ্যে পুঞ্জিভুত ক্লেদ কালীমা নিয়ে তাকে তৃপ্ত করা সম্ভব নয়; তবে তিনি আজ্ঞা করেছেন, আমাদের সার্বিক বোঝা তার কাঁধে তুলে দিয়ে আমরা সুসমাচারের ঘোষণা দিয়ে ফিরি। আহ্বান জানিয়ে চলি হারানো লোকদের প্রতি, কোথা কোন অভাজন, করিছে ক্রন্দন, ত্বরা ছুটে গিয়ে যেন তাদের করতে পারি চয়ন; এ দায়িত্ব উপর থেকে আমাদের উপর অর্পণ করা হয়েছে (লুক ১৯ : ১০)।
এবার প্রশ্ন হলো, সংগৃহীত সন্তানদের তো অবশ্যই মাত্র একটি সুনির্দিষ্ট প্লাটফর্মে জড়ো করা হবে, যার বিকল্প বলতে কিছুই থাকতে পারে না, আর তা হলো খোদ নির্মাতার বিশাল ক্রোড়। মাত্র একটি খোয়াড়, একজন পালক, একটি পাল, যা শোভা বর্ধণ করবে খোদার মহিমা (ইউহোন্না ১০ : ১৬)। অবশ্যই ব্যবসায়ী দৃষ্টিকোণ থেকে জেলে সম্প্রদায় নিজেদের জালে ধরাপড়া মাছগুলো আলাদা আলাদাভাবে বাজারে তোলে। যতই ভিন্ন ভিন্ন ঝুড়িতে ভরা হোক না কেন, মাছগুলো তো একই মাছ থাকে। যেমন হাজার হাজার ইলিশ মাছ বাজারে তোলা হয়, যতই ভিন্ন ভিন্ন ঝুড়ি ভর্তি থাক না কেন, মাছের নাম আর জেলের নামানুসারে চিহ্নিত করা হয় না; তা কৈবর্ত মহাসয় যতই আস্ফালন করুক না কেন।
গুনাহগারদের গুনাহের কাফফারা পরিশোধ দেয়া হয়েছে কেবল ঐশি তনয় কুমারী জঠরজাত সন্তান খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহের বেগুনাহ রক্তের মূল্যে; কোনো গুনাহগার আদম সন্তানদের পক্ষে তেমনকিছু করা সম্ভব ছিল না বা থাকার প্রশ্নই জাগে না; সকলেই পাপ করে বসে আছে, সকলেই নিজ নিজ পাপের চাপে পিষ্ট হয়ে আছে। প্রত্যেকেই আপন আপন বোধমত, মুক্তিলাভের উপায় খুঁজে ফিরছে, কৃচ্ছ্রসাধন করে চলছে, তীর্থের কাক সাজতে চেষ্টা করছে, দেবতাদের মনরঞ্জন রক্ষা করার জন্য নিজেদের কলুষিত হাতে পূজার অর্ঘ দান করছে, তারপরও হৃদয় থেকে জাত্যভিমান হচ্ছে না দুরিভূত। অপরিচিত মানুষ দেখে সহাস্যে ছালাম জানাতে মনটা সায় দিচ্ছে না, সকলেই মানুষ; খোদা সৃষ্টি করেছেন মানুষ, আমরা মানুষের মধ্যে ভাগাভাগি করি কোন সুবাধে। মানুষের মাঝে টানে অভেদ সীমানা, পশুর কাতারে তাদের করিবে যোজন; রচিয়া মাটির মানুষ দিলেন প্রেরণা, খোদার নায়েব ভূমে অমোঘ ঘোষণা।
ট্রাঞ্জিটের কথা আলাদা! তবে সুনির্দিষ্ট প্লাটফর্মে অর্থাৎ খোদার সুশীতল শান্তিপূর্ণ কোলে সমাসীন হবার অধিকার রয়েছে প্রত্যেকটি বিশ্বাসী ব্যক্তির, যারাই তাঁর পূতপবিত্র রক্তে হতে পেরেছেন স্নাতশুভ্র, তাদের সকলের জন্য তিনি অভয়বাণী শুনিয়েছেন “আমি তাদের অনন্ত জীবন দিই। তারা কখনও বিনষ্ট হবে না এবং কেউই আমার হাত থেকে তাদের কেড়ে নেবে না। আমার পিতা, যিনি তাদের আমাকে দিয়েছেন, তিনি সকলের চেয়ে মহান। কেউই পিতার হাত থেকে কিছু কেড়ে নিতে পারে না। আমি আর পিতা এক” (ইউহোন্না ১০ : ২৮-৩০)।
সর্বোপরি কথা হলো বাজারে তথা প্রদর্শনীকেন্দ্রে প্রদর্শনের বিষয় এক কথা আর সত্যিকার অর্থে হারানো সন্তানদের খুঁজে খুঁজে চয়ন করা, জীবন প্রদান, স্নাতশুভ্র করণ, ও তাদের হারিয়ে যাওয়া অধিকার মানমর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা।
খোদা নিয়ত খুঁজে ফিরছেন ভোক্তা যিনি তাঁর চুড়ান্ত সত্য- খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে ধারণ ও প্রয়োগ করে সম্পূর্ণ কাঙ্খিত নতুন মানুষে হলো পরিণত; তিনি বিক্রেতার চাইতে ভোক্তাকেই অধিক প্রধান্য দিয়ে থাকেন।
শব্দ পেয়ে গৃহিনী নিনাদ তুলে ছুটে এলেন, শিশুরা ভয় পেয়ে কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে যার যার স্থানে অন্তরাত্মাশুন্য হয়ে দাঁড়িয়ে কাঁপছে। মা এবার ছাড়বে না, কাউকেই না। কারো রক্ষে নেই এ যাত্রা।
মা হাকডাক তুলে হুকুম করলেন “ঝাড়– নিয়ে আয়”, “বেলচা নিয়ে আয়” ‘একটা বালতি সাথে রাখিস”! এমন আজ্ঞা জারি করলেন। তাঁর সাহায্যকারী যথাযথ উপকরণ নিয়ে অকুস্থলে হাজির। মা সকলকে কড়া হুশিয়ার করে দিলেন, কেউ ফ্লোরে ছুটাছুটি করোনা, কাঁচের টুকরো বড়ই ধারালো, হাত পা কেটে যাবার ভয় আছে।
সাহায্যকারী যথারীতি ঝাড়– নিয়ে বড় টুকরো, ছোট টুকরো, ক্ষুদে ক্ষুদে টুকরো, মাইক্রোস্কোপিক টুকরো সবগুলো ঝাড়– দিয়ে বালতি ভর্তি করে নিলেন; মা জানেন, কেন তিনি তা করলেন; আপতদৃষ্টিতে মনে হয়, ঘরভর্তি ছেলেপুলের হাত-পা যেন না কাটে, ক্ষতিগ্রস্থ কেউ না হয় সে ব্যবস্থা হলো আসু ব্যবস্থা। আর ভাঙ্গা কাঁচগুলো হয়তো কাঁচভাঙ্গা ডাস্টবিনে ফেলে রাখবে।
বিদেশে তো কাঁচের ভাঙ্গারী আলাদা করে রাখা হয়, পরবর্তী পর্যায়ে তা সংগ্রহ করে ওভেনে ফেলে গলানো হয়; পুণরায় পাত্র প্রস্তুত করার জন্য। উন্নত দেশের উন্নত ব্যবস্থা, যাকে তারা রিসাইক্লিং বলে। বৈজ্ঞানিক উপায়ে লাভজনকভাবে সমস্যার সমাধানকল্পে এটি একটি উন্নত ব্যবস্থা, যেন ফেলে দেওয়া অকেজো মৃতের মধ্যে পুনরায় জীবনের সঞ্চার ঘটানোর প্রক্রিয়া! যদিও খোদা স্বীয় সুরতে আপন প্রতিনিধি হিসেবে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, তারা ঝঞ্জাতড়িত বিচ্ছিন্ন এলামেলো অবস্থায় যত্রতত্র হারিয়ে গেছে; কেউ কারো পরিচয় পর্যন্ত জানে না। মনে হয় তারা ভিন্ন ভিন্ন আদমের বংশজাত; আসলে খোদা তো মাত্র একজনই আদম সৃষ্টি করেছেন; সেই সহজ-সরল সূত্রে সকল মানুষ একই আদম-বংশজাত; যা নিঃসন্দেহে বলা চলে।
মানুষ আজ বহুধা, রয়েছে পরষ্পরের মধ্যে ঘোর অমিল দান্ধিক সম্পর্ক, মতবাদের কারণে, স্বার্থের কারণে, বিত্তবৈভবের কারণে তথা পাÐিত্বের কারণে, সর্বোপরি ভ্রান্তির কারণে সমাজ জামাত হয়ে পড়েছে আত্মকেন্দ্রীক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। কেউ যেন কারো সাথে একাকার হতে সমীহ করছে; মনে মনে সন্দেহ ও ভয় ঢুকে গেছে; ঠোকর খেয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে এবং ‘যে করে চক্ষুদান উল্টো তার চোখ উৎপাটন!’ তাই এতশত অভিজ্ঞতার আলোকে আজ মানুষের হৃদয়ে পুঞ্জীভূত হয়ে আছে এ সন্দেহ ভীতি সমীহ দ্বিধাদন্ধ। মানুষকে একত্রিত করার অধিকার কেবল খোদ নির্মাতা ধারণ করেন। ভাঙ্গা কাঁচের টুকরোগুলো যেমন ওভেনে ফেলে দেবার ফলে সবকটা বিগলিত হয়ে একটি নতুন মন্ড প্রস্তুত হলো, ভেঙ্গে যাওয়া জগটির মত আর একটি জগ তৈরী করা সম্ভব হলো, ঠিক একই প্রক্রিয়ায় আজ মানব সমাজ খোদ নির্মাতার হাতেই হবে নতুন সৃষ্টি। খোদা এ কারণেই পাককালাম ও পাকরূহ মানব রূপে জগতে প্রেরণ কররেন, যেন তিনি তাদের পুনরায় এক জাতি, এক মন, এক প্রাণের অধিকারী করতে পারেন। মসিহ গোটা বিশ্ববাসীকে নিষ্পাপ প্রতিপন্ন করার জন্য তাদের পাপের দায় স্বীয় পূতপবিত্র রক্তের দামে চুকিয়ে দিলেন, নিজে হলেন কোরবান। কেবল উক্ত আত্মত্যাগের ফলে, বিশ্বাসপূর্বক, আমরা হতে পেরেছি গুনাহমুক্ত, স্বাধীন ঐশি সন্তান, খোদার দরবারে সমাদ্রিত সমাসীন, আর তা অনন্ত জীবনের জন্য।
অনেকে ভুল করে বলে বসেন, “প্রভুতে নিদ্রাগত” আসলে প্রভু কখনোই নিদ্রা যান না, ঘুমে ঢুলেও পড়েন না। তিনি সদা জ্রগাত এক রুহানী সত্ত্বা। দৈহিকভাবে আমরা তাঁর এবাদত করতে পারি না; তাঁর ভজনা হবে রূহে ও সত্যে (ইউহোন্না ৪ : ২৪)। আমাদের মধ্যে পুঞ্জিভুত ক্লেদ কালীমা নিয়ে তাকে তৃপ্ত করা সম্ভব নয়; তবে তিনি আজ্ঞা করেছেন, আমাদের সার্বিক বোঝা তার কাঁধে তুলে দিয়ে আমরা সুসমাচারের ঘোষণা দিয়ে ফিরি। আহ্বান জানিয়ে চলি হারানো লোকদের প্রতি, কোথা কোন অভাজন, করিছে ক্রন্দন, ত্বরা ছুটে গিয়ে যেন তাদের করতে পারি চয়ন; এ দায়িত্ব উপর থেকে আমাদের উপর অর্পণ করা হয়েছে (লুক ১৯ : ১০)।
এবার প্রশ্ন হলো, সংগৃহীত সন্তানদের তো অবশ্যই মাত্র একটি সুনির্দিষ্ট প্লাটফর্মে জড়ো করা হবে, যার বিকল্প বলতে কিছুই থাকতে পারে না, আর তা হলো খোদ নির্মাতার বিশাল ক্রোড়। মাত্র একটি খোয়াড়, একজন পালক, একটি পাল, যা শোভা বর্ধণ করবে খোদার মহিমা (ইউহোন্না ১০ : ১৬)। অবশ্যই ব্যবসায়ী দৃষ্টিকোণ থেকে জেলে সম্প্রদায় নিজেদের জালে ধরাপড়া মাছগুলো আলাদা আলাদাভাবে বাজারে তোলে। যতই ভিন্ন ভিন্ন ঝুড়িতে ভরা হোক না কেন, মাছগুলো তো একই মাছ থাকে। যেমন হাজার হাজার ইলিশ মাছ বাজারে তোলা হয়, যতই ভিন্ন ভিন্ন ঝুড়ি ভর্তি থাক না কেন, মাছের নাম আর জেলের নামানুসারে চিহ্নিত করা হয় না; তা কৈবর্ত মহাসয় যতই আস্ফালন করুক না কেন।
গুনাহগারদের গুনাহের কাফফারা পরিশোধ দেয়া হয়েছে কেবল ঐশি তনয় কুমারী জঠরজাত সন্তান খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহের বেগুনাহ রক্তের মূল্যে; কোনো গুনাহগার আদম সন্তানদের পক্ষে তেমনকিছু করা সম্ভব ছিল না বা থাকার প্রশ্নই জাগে না; সকলেই পাপ করে বসে আছে, সকলেই নিজ নিজ পাপের চাপে পিষ্ট হয়ে আছে। প্রত্যেকেই আপন আপন বোধমত, মুক্তিলাভের উপায় খুঁজে ফিরছে, কৃচ্ছ্রসাধন করে চলছে, তীর্থের কাক সাজতে চেষ্টা করছে, দেবতাদের মনরঞ্জন রক্ষা করার জন্য নিজেদের কলুষিত হাতে পূজার অর্ঘ দান করছে, তারপরও হৃদয় থেকে জাত্যভিমান হচ্ছে না দুরিভূত। অপরিচিত মানুষ দেখে সহাস্যে ছালাম জানাতে মনটা সায় দিচ্ছে না, সকলেই মানুষ; খোদা সৃষ্টি করেছেন মানুষ, আমরা মানুষের মধ্যে ভাগাভাগি করি কোন সুবাধে। মানুষের মাঝে টানে অভেদ সীমানা, পশুর কাতারে তাদের করিবে যোজন; রচিয়া মাটির মানুষ দিলেন প্রেরণা, খোদার নায়েব ভূমে অমোঘ ঘোষণা।
ট্রাঞ্জিটের কথা আলাদা! তবে সুনির্দিষ্ট প্লাটফর্মে অর্থাৎ খোদার সুশীতল শান্তিপূর্ণ কোলে সমাসীন হবার অধিকার রয়েছে প্রত্যেকটি বিশ্বাসী ব্যক্তির, যারাই তাঁর পূতপবিত্র রক্তে হতে পেরেছেন স্নাতশুভ্র, তাদের সকলের জন্য তিনি অভয়বাণী শুনিয়েছেন “আমি তাদের অনন্ত জীবন দিই। তারা কখনও বিনষ্ট হবে না এবং কেউই আমার হাত থেকে তাদের কেড়ে নেবে না। আমার পিতা, যিনি তাদের আমাকে দিয়েছেন, তিনি সকলের চেয়ে মহান। কেউই পিতার হাত থেকে কিছু কেড়ে নিতে পারে না। আমি আর পিতা এক” (ইউহোন্না ১০ : ২৮-৩০)।
সর্বোপরি কথা হলো বাজারে তথা প্রদর্শনীকেন্দ্রে প্রদর্শনের বিষয় এক কথা আর সত্যিকার অর্থে হারানো সন্তানদের খুঁজে খুঁজে চয়ন করা, জীবন প্রদান, স্নাতশুভ্র করণ, ও তাদের হারিয়ে যাওয়া অধিকার মানমর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা।
খোদা নিয়ত খুঁজে ফিরছেন ভোক্তা যিনি তাঁর চুড়ান্ত সত্য- খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে ধারণ ও প্রয়োগ করে সম্পূর্ণ কাঙ্খিত নতুন মানুষে হলো পরিণত; তিনি বিক্রেতার চাইতে ভোক্তাকেই অধিক প্রধান্য দিয়ে থাকেন।