নারকেল তেল,নারকেল গাছ বা নারকেল দেখেনি এমন ব্যক্তি বাংলার বুকে কদাচিৎ থাকতে পারে; তবে কি করে যে নারকেল দিয়ে তেল প্রস্তুত করা হয় অথবা নারকেলের চারা যে কিভাবে জন্মাতে হয় তা বোধকরি বহুলোকের কাছেই রয়েছে অজানা।
শহরে অনেক রমণী নারকেলের তেল খুবই পছন্দ করেন, তাঁরা জানেন, নারকেলের কারখানা রয়েছে যেথা উক্ত তেল তৈরী হয়ে থাকে। কথাটা মোটেও মন্দ নয় তবে পুরোপুরি বিষয়ভিত্তিক বর্ণনা আর হলো না।
নারকেলের তেল প্রস্তুত করার জন্য চাই গাছপাকা ঝুনা নারকেল, তাহলে প্রতিদিন শতশত ডাব বিক্রি হয়ে আসছে। মজার বিষয় হলো, ডাব নারকেল দিয়ে না প্রস্তুত করা হয় তেল না বেছনের জন্য মনোনয়ন করা চলে। ডাব নারকেল দিয়ে কেবল ২/১গøাস জল পাওয়া সম্ভব; তেল বা বেছন পেতে চাইলে অবশ্যই ধৈর্য নিয়ে বহুদিন অপেক্ষা করতে হবে; নারকেলটিকে গাছে যুক্ত থেকে পরিপক্কতা লাভ করতে হবে। গাছপাকা একটি ঝুনো নারকেল দিয়ে পেতে হবে তেল, আবার যদি বেছন পেতে চান তবে ওটিকে আর বিরক্ত করা চলবে না, কোনো প্রকার আঘাত দেয়া ঠিক হবে না, যেমন পোয়াতি রমণীকে অতি যতেœ আদরে নির্ঝঞ্জাটভাবে থাকতে দিতে হবে। বেছনের জন্য যে সকল নারকেল আলাদা করা হয়ে থাকে সেগুলো গাছ থেকেই সাবধানে তোলা হয়। অবশ্য ডাব নারকেল, গাছ থেকে নামানো, একটা সাবধানতার বিষয়। যদিও বর্তমানে একধরণের নারকেল গাছ ভিয়েতনাম থেকে আমদানী করা হয়েছে, যেগুলো মাটি থেকে তিন হাত উচুতে না যেতেই ফল ধরাতে শুরু করে। এটা অবশ্যই গবেষণার ফল।
কিন্তু আমাদের দেশের সেই পুরানো নারকেল গাছ ৩০/৪০হাত লম্বা হয়ে থাকে, আর তেমন গাছের মাথা থেকে ডাব নারকেল যদি মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় তবে সবকটা ফেটে চৌচির হতে বাধ্য, যে কারণে ডাব তোলা সে উদ্দেশ্য আর পূরণ করা সম্ভব থাকবে না। তাই এক ছড়ি ডাব রশি দিয়ে ঝুলিয়ে নামাতে হবে অবশ্যই। তেমনভাবে ঝুনা নারকেল, বিশেষ করে যেগুলো অতীব যতেœ আদরে স্যাঁতসেঁতে ভূমিতে চারার জন্য রেখে দিতে হবে। আঘাত প্রাপ্ত নারকেলের ভিতরটা ফেটে গেলে ওকে দিয়ে আর চারা লাভ করা সম্ভব হবে না। মনে রাখবেন, নারকেল দিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে উপযোগ পেতে হলে অবশ্যই বৃন্তযুক্ত রেখেই তবে পরিপক্ক করাতে হবে; বিকল্প কোনো ব্যবস্থা প্রত্যাশা করতে গেলে পুরো পরিকল্পনাটি ভেস্তে যাবে।
বিষয়টি ধর্মীয় ক্ষেত্রে কমগুরুত্বপূর্ণ মনে করি না! নামধাম খানাপিনার পরিবর্তন করালে কি ধর্মীয় উৎকর্ষতা আসতে পারে! ব্যক্তি যখন ধার্মিকের সাথে একান্তভাবে থাকে জড়িত তবেই না তার জীবনে আসতে পারে প্রভূত পরিবর্তন। ধর্ম হলো খোদার একচ্ছত্র সম্পদ, যা যুগে যুগে জনে জনে তিনি বিতরণ করে থাকেন মহাতৃিপ্তভরে। তিনি নিজে হলেন এক রুহানি বাতেনি সত্ত্বা। তাঁর সার্বিক গুনাবলী তিনি স্বীয় নোমায়েন্দা মানুষের মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকেন। কালামপাকে পরিষ্কার বর্ণনা রয়েছে, যে ব্যক্তি পরাৎপারের অন্তরালে বসতি করে সে থাকে সুরক্ষিত এবং সর্বাবস্থায়।
আঙ্গুর গাছে যুক্ত না থাকলে শাখা নিজে নিজে যেমন বাঁচতে পারে না, একইভাবে ব্যক্তি খোদার সাথে যুক্ত না থাকলে কি করে ধার্মিকতার ছবক শিখবে (ইউহোন্না ১৫ : ১-৭)।
মানুষের কল্যাণ হলো খোদার দায়িত্ব আর ইবলিসের ব্রত হলো মানুষের ক্ষতিসাধন করা। চোর আসে চুরি, খুন ও নষ্ট করার জন্য, আবার বিপরীতক্রমে মসিহ স্বীয় পূতপবিত্র জীবন দান করেছেন, ছড়িয়ে পড়া হারানো মানিকদের খুঁজে খুঁজে রক্ষা করা ও পিতার সন্তান পিতার হাতে তুলে দেবার জন্য। কথায় বলে ঘরের সন্তান ঘরে ফেরা (মথি ২৩ : ৩১-৩৯)।
সার্বিক ধর্ম যা বর্তমানে রয়েছে প্রচলিত তা নিয়ে একঝলক আলোকপাত করা চলে। তাছাড়া মানবজাতির প্রথম মানুষ হলেন হযরত আদম, যাকে খোদা সার্বিক ঐশি গুনাবলী দিয়ে স্বীয় প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। নিত্যদিন খোদার সাথে আদমের চলতো বাকচারিতা। দুজনার মধ্যে বিরাজমান ছিল হৃদিজ সম্পর্ক। আদম মাটির তৈরী আর খোদা হলেন এক রুহানি সত্ত্বা তথাপি মানুষের হৃদয়জুড়ে তিনি থাকতে চান বসবাসরত, অনবরত। তিনি ভক্তের মনজুড়ে বাস করতে চান সুসম্পর্ক রাখতে চান সদাসর্বদা মানুষের সাথে।
খোদার জন্য বিশেষ গৃহ তৈরী করার ক্ষমতা, পবিত্রা, প্রজ্ঞা, ত্যাগ-তিতিক্ষা কোনোটাই মানুষ ক্ষুদে দুর্বলবাহুতে রাখে না। শুরু থেকেই শুরুর পতন, আর তা ইবলিসের প্রলুব্ধকারী মন্ত্রে, মোহান্ধ হবার ফলে। মানুষের ধার্মিকতা কেবল ঘৃণিত নোংরা আবর্জনাতুল্য, যা খোদা বরদাস্ত করতে পারেন না। তিনি ধমকের সুরে বলেছেন, নোংরা হাতে অসার নৈবেদ্য তাঁর কাছ কেবল ঘৃণার জন্ম দেয়। “তোমরা যে আমার কাছে উপস্থিত হয়ে আমার সব উঠান পায়ে মাড়াও, এ তোমাদের কার্ছে কে চেয়েছে? অসার কোরবানীর জিনিস তোমরা আর এনো না। তোমাদের ধুপ জ্বালানো আমার ঘৃণা লাগে। অমাবস্যা, বিশ্রামবার এবং ধর্মীয় মাহফিল- তোমাদের গুনাহের দরুন আমি এই সব সত্য সহ্য করতে পারি না। আমি তোমাদের সব অমাবস্যার উৎসব ও নির্দিষ্ট ভোজ-সভা ঘৃণা করি। এগুলো আমার কাছে বোঝার মত হয়েছে; এগুলোর বার বয়ে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। মুনাজাতের জন্য যখন তোমরা হাত তুলবে তখন আমি তোমাদের দিক থেকে আমার চোখ ফিরিয়ে নেব। যদিও বা অনেক মুনাজাত কর আমি তা শুনব না, কারণ তোমাদের হাত রক্তে পূর্ণ। তোমরা নিজেদের খাঁটি কর, পাক-সাফ হও। আমার চোখের সামনে থেকে তোমাদের সব খারাপ কাজ দূর করে দাও; তা আর কোরো না। তোমরা ভাল কাজ করতে শেখো, ন্যায়বিচার কর, জুলুমবাজদের সংশোধন কর, এতিমদের পক্ষে থাক, বিধবাদের মামলার তদারকি কর” (ইশাইয়া ১ : ১২-১৭)
মানুষ অধার্মিক। তা সে নিজেও জানে, আর জানে বলেই উদ্ভাবন করে রেখেছে হাজার প্রকার বিধি ব্যবস্থা, কেবল মথুরা পার হবার জন্য। গঙ্গার জলে চিড়া না ভিজলে চোখের জলে তা ভিজানো কি সম্ভব? মানুষের কলুষিত হস্তে প্রস্তুতকৃত সর্বপ্রকার নিয়ম শৃঙ্খলা তাকে কেবল বিপাকেই ঠেলে দিচ্ছে। একই পরিবারের সদস্য আজ কেউ কাউকে জানেও না, মানেও না, এমন কি জানার আগ্রহ পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছে। এমন ছন্দপতনের কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। তা আবার কোন কারণে মানুষের সাথে খোদার সম্পর্কে ঘাটতি দেখা দিল, মধুময় সম্পর্কের মধ্যে কে বিষ ঢেলে দিল!
আমাদের প্রধান আলোচ্য বিষয় পরিপক্কতা। যেমন অপরিপক্ক নারকেল দিয়ে না পাওয়া যাবে তেল, না পাওয়া যাবে বেছন বা নতুন চারা। মোমটি যদিও পূর্ণ কলেবরে রয়েছে অস্তিত্বমান, তবুও কক্ষে কেন অন্ধকারের রাজ্য থাকবে বলবৎ? এমন হাজার প্রকার প্রশ্ন শততঃ বেজার করে রাখছে ক্ষুদে মনটা।
যাত্রারম্ভেই মানুষ অবাধ্য, ধোকা খাওয়া, মরীচিকার পিছনে নিয়ত ধাবমান; জানেনা, তেমন দিব্যজ্ঞানও নেই, ওটা কেবল অলীক বিভ্রান্তকারী মরণদায়ী ফাঁদ, অসহায় শিকার তা বুঝতে পারে না। প্রথম জোড়া মানুষ তেমন ফাঁদে ধরা খেল, সুপেয় জলের মধ্যে ঢেলে দেয়া হল প্রাণঘাতী হলাহল। বিষের ক্ষতিকর প্রক্রিয়া তাৎক্ষনিক শুরু হয়ে গেল- মানুষ খুন! কতটা মর্মবিদারক ঘটনা যা খোদার জন্য অবশ্যই বেদনাদায়ক!
চাই আমাদের ঐশি জ্ঞানে পরিপূর্ণতা লাভ! অবশ্যই অভিষিক্ত হতে হবে প্রতিজ্ঞাত অনন্তসহায় পাকরূহের দ্বারা। তিনি হলেন তেমন ধার্মিকসত্ত্বা যিনি আমাদের পথের দীশা দিয়ে থাকেন।
শহরে অনেক রমণী নারকেলের তেল খুবই পছন্দ করেন, তাঁরা জানেন, নারকেলের কারখানা রয়েছে যেথা উক্ত তেল তৈরী হয়ে থাকে। কথাটা মোটেও মন্দ নয় তবে পুরোপুরি বিষয়ভিত্তিক বর্ণনা আর হলো না।
নারকেলের তেল প্রস্তুত করার জন্য চাই গাছপাকা ঝুনা নারকেল, তাহলে প্রতিদিন শতশত ডাব বিক্রি হয়ে আসছে। মজার বিষয় হলো, ডাব নারকেল দিয়ে না প্রস্তুত করা হয় তেল না বেছনের জন্য মনোনয়ন করা চলে। ডাব নারকেল দিয়ে কেবল ২/১গøাস জল পাওয়া সম্ভব; তেল বা বেছন পেতে চাইলে অবশ্যই ধৈর্য নিয়ে বহুদিন অপেক্ষা করতে হবে; নারকেলটিকে গাছে যুক্ত থেকে পরিপক্কতা লাভ করতে হবে। গাছপাকা একটি ঝুনো নারকেল দিয়ে পেতে হবে তেল, আবার যদি বেছন পেতে চান তবে ওটিকে আর বিরক্ত করা চলবে না, কোনো প্রকার আঘাত দেয়া ঠিক হবে না, যেমন পোয়াতি রমণীকে অতি যতেœ আদরে নির্ঝঞ্জাটভাবে থাকতে দিতে হবে। বেছনের জন্য যে সকল নারকেল আলাদা করা হয়ে থাকে সেগুলো গাছ থেকেই সাবধানে তোলা হয়। অবশ্য ডাব নারকেল, গাছ থেকে নামানো, একটা সাবধানতার বিষয়। যদিও বর্তমানে একধরণের নারকেল গাছ ভিয়েতনাম থেকে আমদানী করা হয়েছে, যেগুলো মাটি থেকে তিন হাত উচুতে না যেতেই ফল ধরাতে শুরু করে। এটা অবশ্যই গবেষণার ফল।
কিন্তু আমাদের দেশের সেই পুরানো নারকেল গাছ ৩০/৪০হাত লম্বা হয়ে থাকে, আর তেমন গাছের মাথা থেকে ডাব নারকেল যদি মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় তবে সবকটা ফেটে চৌচির হতে বাধ্য, যে কারণে ডাব তোলা সে উদ্দেশ্য আর পূরণ করা সম্ভব থাকবে না। তাই এক ছড়ি ডাব রশি দিয়ে ঝুলিয়ে নামাতে হবে অবশ্যই। তেমনভাবে ঝুনা নারকেল, বিশেষ করে যেগুলো অতীব যতেœ আদরে স্যাঁতসেঁতে ভূমিতে চারার জন্য রেখে দিতে হবে। আঘাত প্রাপ্ত নারকেলের ভিতরটা ফেটে গেলে ওকে দিয়ে আর চারা লাভ করা সম্ভব হবে না। মনে রাখবেন, নারকেল দিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে উপযোগ পেতে হলে অবশ্যই বৃন্তযুক্ত রেখেই তবে পরিপক্ক করাতে হবে; বিকল্প কোনো ব্যবস্থা প্রত্যাশা করতে গেলে পুরো পরিকল্পনাটি ভেস্তে যাবে।
বিষয়টি ধর্মীয় ক্ষেত্রে কমগুরুত্বপূর্ণ মনে করি না! নামধাম খানাপিনার পরিবর্তন করালে কি ধর্মীয় উৎকর্ষতা আসতে পারে! ব্যক্তি যখন ধার্মিকের সাথে একান্তভাবে থাকে জড়িত তবেই না তার জীবনে আসতে পারে প্রভূত পরিবর্তন। ধর্ম হলো খোদার একচ্ছত্র সম্পদ, যা যুগে যুগে জনে জনে তিনি বিতরণ করে থাকেন মহাতৃিপ্তভরে। তিনি নিজে হলেন এক রুহানি বাতেনি সত্ত্বা। তাঁর সার্বিক গুনাবলী তিনি স্বীয় নোমায়েন্দা মানুষের মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকেন। কালামপাকে পরিষ্কার বর্ণনা রয়েছে, যে ব্যক্তি পরাৎপারের অন্তরালে বসতি করে সে থাকে সুরক্ষিত এবং সর্বাবস্থায়।
আঙ্গুর গাছে যুক্ত না থাকলে শাখা নিজে নিজে যেমন বাঁচতে পারে না, একইভাবে ব্যক্তি খোদার সাথে যুক্ত না থাকলে কি করে ধার্মিকতার ছবক শিখবে (ইউহোন্না ১৫ : ১-৭)।
মানুষের কল্যাণ হলো খোদার দায়িত্ব আর ইবলিসের ব্রত হলো মানুষের ক্ষতিসাধন করা। চোর আসে চুরি, খুন ও নষ্ট করার জন্য, আবার বিপরীতক্রমে মসিহ স্বীয় পূতপবিত্র জীবন দান করেছেন, ছড়িয়ে পড়া হারানো মানিকদের খুঁজে খুঁজে রক্ষা করা ও পিতার সন্তান পিতার হাতে তুলে দেবার জন্য। কথায় বলে ঘরের সন্তান ঘরে ফেরা (মথি ২৩ : ৩১-৩৯)।
সার্বিক ধর্ম যা বর্তমানে রয়েছে প্রচলিত তা নিয়ে একঝলক আলোকপাত করা চলে। তাছাড়া মানবজাতির প্রথম মানুষ হলেন হযরত আদম, যাকে খোদা সার্বিক ঐশি গুনাবলী দিয়ে স্বীয় প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। নিত্যদিন খোদার সাথে আদমের চলতো বাকচারিতা। দুজনার মধ্যে বিরাজমান ছিল হৃদিজ সম্পর্ক। আদম মাটির তৈরী আর খোদা হলেন এক রুহানি সত্ত্বা তথাপি মানুষের হৃদয়জুড়ে তিনি থাকতে চান বসবাসরত, অনবরত। তিনি ভক্তের মনজুড়ে বাস করতে চান সুসম্পর্ক রাখতে চান সদাসর্বদা মানুষের সাথে।
খোদার জন্য বিশেষ গৃহ তৈরী করার ক্ষমতা, পবিত্রা, প্রজ্ঞা, ত্যাগ-তিতিক্ষা কোনোটাই মানুষ ক্ষুদে দুর্বলবাহুতে রাখে না। শুরু থেকেই শুরুর পতন, আর তা ইবলিসের প্রলুব্ধকারী মন্ত্রে, মোহান্ধ হবার ফলে। মানুষের ধার্মিকতা কেবল ঘৃণিত নোংরা আবর্জনাতুল্য, যা খোদা বরদাস্ত করতে পারেন না। তিনি ধমকের সুরে বলেছেন, নোংরা হাতে অসার নৈবেদ্য তাঁর কাছ কেবল ঘৃণার জন্ম দেয়। “তোমরা যে আমার কাছে উপস্থিত হয়ে আমার সব উঠান পায়ে মাড়াও, এ তোমাদের কার্ছে কে চেয়েছে? অসার কোরবানীর জিনিস তোমরা আর এনো না। তোমাদের ধুপ জ্বালানো আমার ঘৃণা লাগে। অমাবস্যা, বিশ্রামবার এবং ধর্মীয় মাহফিল- তোমাদের গুনাহের দরুন আমি এই সব সত্য সহ্য করতে পারি না। আমি তোমাদের সব অমাবস্যার উৎসব ও নির্দিষ্ট ভোজ-সভা ঘৃণা করি। এগুলো আমার কাছে বোঝার মত হয়েছে; এগুলোর বার বয়ে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। মুনাজাতের জন্য যখন তোমরা হাত তুলবে তখন আমি তোমাদের দিক থেকে আমার চোখ ফিরিয়ে নেব। যদিও বা অনেক মুনাজাত কর আমি তা শুনব না, কারণ তোমাদের হাত রক্তে পূর্ণ। তোমরা নিজেদের খাঁটি কর, পাক-সাফ হও। আমার চোখের সামনে থেকে তোমাদের সব খারাপ কাজ দূর করে দাও; তা আর কোরো না। তোমরা ভাল কাজ করতে শেখো, ন্যায়বিচার কর, জুলুমবাজদের সংশোধন কর, এতিমদের পক্ষে থাক, বিধবাদের মামলার তদারকি কর” (ইশাইয়া ১ : ১২-১৭)
মানুষ অধার্মিক। তা সে নিজেও জানে, আর জানে বলেই উদ্ভাবন করে রেখেছে হাজার প্রকার বিধি ব্যবস্থা, কেবল মথুরা পার হবার জন্য। গঙ্গার জলে চিড়া না ভিজলে চোখের জলে তা ভিজানো কি সম্ভব? মানুষের কলুষিত হস্তে প্রস্তুতকৃত সর্বপ্রকার নিয়ম শৃঙ্খলা তাকে কেবল বিপাকেই ঠেলে দিচ্ছে। একই পরিবারের সদস্য আজ কেউ কাউকে জানেও না, মানেও না, এমন কি জানার আগ্রহ পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছে। এমন ছন্দপতনের কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। তা আবার কোন কারণে মানুষের সাথে খোদার সম্পর্কে ঘাটতি দেখা দিল, মধুময় সম্পর্কের মধ্যে কে বিষ ঢেলে দিল!
আমাদের প্রধান আলোচ্য বিষয় পরিপক্কতা। যেমন অপরিপক্ক নারকেল দিয়ে না পাওয়া যাবে তেল, না পাওয়া যাবে বেছন বা নতুন চারা। মোমটি যদিও পূর্ণ কলেবরে রয়েছে অস্তিত্বমান, তবুও কক্ষে কেন অন্ধকারের রাজ্য থাকবে বলবৎ? এমন হাজার প্রকার প্রশ্ন শততঃ বেজার করে রাখছে ক্ষুদে মনটা।
যাত্রারম্ভেই মানুষ অবাধ্য, ধোকা খাওয়া, মরীচিকার পিছনে নিয়ত ধাবমান; জানেনা, তেমন দিব্যজ্ঞানও নেই, ওটা কেবল অলীক বিভ্রান্তকারী মরণদায়ী ফাঁদ, অসহায় শিকার তা বুঝতে পারে না। প্রথম জোড়া মানুষ তেমন ফাঁদে ধরা খেল, সুপেয় জলের মধ্যে ঢেলে দেয়া হল প্রাণঘাতী হলাহল। বিষের ক্ষতিকর প্রক্রিয়া তাৎক্ষনিক শুরু হয়ে গেল- মানুষ খুন! কতটা মর্মবিদারক ঘটনা যা খোদার জন্য অবশ্যই বেদনাদায়ক!
চাই আমাদের ঐশি জ্ঞানে পরিপূর্ণতা লাভ! অবশ্যই অভিষিক্ত হতে হবে প্রতিজ্ঞাত অনন্তসহায় পাকরূহের দ্বারা। তিনি হলেন তেমন ধার্মিকসত্ত্বা যিনি আমাদের পথের দীশা দিয়ে থাকেন।