ব্যক্তিকে খ্রীষ্টান হতে হবে নাজাত লাভের জন্য, এমন মতবাদের ভিত্তি জানতে পারলে অভুতপূর্ব লাভ হতো, সম্ভবতঃ ধর্মান্তরিত করণের ডামাঢোল বন্ধ করা সম্ভব হতো। দ্বিতীয়ত প্রত্যেকটি মতবাদত প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য থাকতে হবে যথাযথ নির্ভরযোগ্য বস্তুনিষ্ঠ ভিত্তি; তা না হলে থাকতে পারে না ঝোপে টিকে অথবা অগ্নি পরীক্ষার সময় অবশ্যই তা পরিণত হবে আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবার মত ভষ্মবৎ।
বর্তমান বিশ্বে প্রত্যেকটি মতবাদের পিছনে রয়েছে একজন প্রবক্তা, যাকে অবশ্যই হতে হবে গণ সমর্থন যোগ্য। কালের আবর্তে ষড় ঋতুর যাতাকলে পিষ্ট হয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে তাকতে হবে জনতার সমর্থনের ফলে; কেননা সকল মতবাদ তো মানুষকে কেন্দ্রে রেখে হয়ে থাকে বিরচিত। মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করার কারণেই তারা নিয়ত সংগ্রাম যুদ্ধ চালিয়ে চলছে; মানুষ তো পরিষ্কার খোদার স্বীয় প্রতিনিধি, তাদের কল্যাণ বয়ে আনার জন্য তিনি থাকেন সদা সজাগ, তৎপর; কালামপাকে দেখা যায়, তিনি তন্দ্রা পর্যন্ত যান না; শততঃ থাকেন নেগাবান সৃষ্টির কল্যাণকর্মে। তবে ভুলে গেলে চলবে না, মানুষের ক্ষতি সাধন করার জন্য সদা তৎপর রয়েছে এক অপশক্তি, যাকে কেউ ইবলিস নামে অভিহিত করে থাকে, আবার কেউবা বলে দিয়াবল, তা যে যে নামেই ওকে চিহ্নিত করুক না কেন, ওর চরিত্রে তেমন কোনো তারতম্য ঘটতে পারে না। আকার ইকার অথবা শব্দের আগে-পিছে প্রত্যয় জুড়ে দিয়ে শব্দের পরিবর্তনের ফলে পেশার মান বাড়েও না কমেও না; যিনি যে কাজে যুক্ত থাকেন সততা, ধৈর্য্য, বিশ্বাসভক্তি প্রেম নিয়ে কাজ চালিয়ে গেলে গোটা সমাজ হয় উপকৃত।
আসুন মতবাদের বিষয়ে আলোকপাত করা যাক। মানুষ প্রথমেই হয়ে পড়লো বিপন্ন, প্রতারিত, পরাভুত খোদা ও মানুষের মধ্যে বিষ্ময় সম্পর্ক জনমের অরি ইবলিসের দ্বারা হয়েছে সৃষ্ট; অবশ্য হতাশা ও লোভ দুটো প্রবণতা কাজ করেছে তাদের দুষ্ট মন্ত্রে রাজী করার জন্য। মানুষ হয়ে পড়লো প্রলুব্ধ ও সন্দিহান, খোদ নির্মাতার প্রতিজ্ঞা সমূহে।
আশিষধারা বন্ধ হয়ে গেলে তটতটীনি জলশুন্য মরুভূমে পরিণত হয়ে যায়, যা বোধকরি শিশুদের পক্ষেও বুঝতে বেগ পেতে হয় না। আমার একটি গানের একটি কলি হলো, মরুভূমি জলে ভিজে বণানী বনে, আর প্রবাহীনি মরু হয় প্রবাহ বিনে।
আশির্বাদপুষ্ট সাহচার্য থেকে বাদ পড়ে আদম-হাওয়ার ভালে জুটে গেল অনন্ত নরকজ¦ালা। পাপের কুফল দেখতে পাই ভ্রাতৃহননের মত জঘন্য কর্মকান্ডের মাধ্যমে।
যাক, আমাদের মুল আলোশ্চ্য থেকে সরে যাবো না। কথাটা ছিল, মুক্তি চাইলে অবশ্যই খ্রীষ্টান হতে হবে। খ্রীষ্টধর্ম পালন না করলে কেমন করে ব্যক্তি লাভ করতে পারে খোদার নৈকট্য? বিষয়টি গিয়ে দাড়ায় খ্রীষ্ট বা মসিহ বা খোদার মানবরূপী কালাম ও পাকরূহকে নিয়ে। মানুষ খোদার উপর আস্থা হারিয়ে হয়ে পড়লো দিকভ্রান্ত, জড়িয়ে পড়লো খোদাদ্রোহী অশুভ কর্মকান্ডের মধ্যে। খোদা ও মানুষের আজন্ম শত্রু হলো অভিশপ্ত ইবলিস, যার ব্রত হলো মানুষের সর্বনাশ করা; তা ছলে-বলে, ভয় বা প্রলোভন যা কিছুই প্রয়োজন হোক না কেন, মানুষকে বিপন্ন পরাভুত করেই তবে ইবলিস পাবে শান্তি, হবে শান্ত।
মানবের প্রতি অসীম প্রেমের কারণে খোদা বিশ^বােিক উদ্ধার করার জন্য এক অভিনব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করলেন। স্বীয় কালাম বা পাকরূহ জগতে প্রেরণ করলেন বিশে^র পাপের কাফফারা পরিশোধ দেবার জন্য। কুমারী মরিয়মনাম্মী এক বিদুষী নারীর গর্ভে জাত সন্তান যিনি হলেন খোদার জীবন্ত কালাম, মানবরূপে আবির্ভুত ঐশি মেষ, শতভাগ বেগুনাহ ব্যক্তি, হযরত ঈসা মসিহ! খোদা নিজেই এমন অভাবিত ব্যবস্থা স্থাপন করলেন অসহায় বিশ্বকে ক্রয় করার জন্য।
মসিহ ধরাপৃষ্টে মানবরূপে ৩৩বৎসর যাবৎ অবস্থান করেছেন। সাধারণ আর দশটি লোকের মতই তিনি জীবন যাপন করেছেন বটে, তবে পাপ ও দিয়াবল তাকে পরাবুত করতে পারে নি। ভূমিষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে জগতের পাপার্থক কাফফারা সাধনকারী মর্ম বিদারক সলিবে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ঐশি জীবন যাপন করেছেন; বাতেনি খোদার জাহেরী প্রকাশ হলেন খোদ খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ। জীবনের শেষ প্রান্তে তিনটি বৎসর কাল জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে শিক্ষা বিস্তার করেছেন। তিনি এসেছেন মানুষের মুক্তি নায়ক হয়ে, মানুষের পাপের স্খলন ঘটানোর জন্য। মানুষ গুনাহগার আর খোদা হলেন শতভাগ পূতপবিত্র। খোদা মানুষকে নিজের মত করে সৃষ্টি করেছেন, স্বীয় প্রতিনিধিত্ব করার জন্য, কেননা তিনি হলেন এক বাতেনী পরম রুহানী সত্তা। তাঁর ঐশি গুনাবলী মানুষের মধ্যে প্রবাহিত করার জন্যই তিনি থাকেন সদাব্যস্ত।
আমরা দেখব, সেই বাতেনি পরম পিতা কেমন করে মানুষের মধ্যে মানবরূপে ধারণ করে নেমে এলেন। তিনি মানুষ হলেন, গুনাহগারদের মধ্যে প্রবেশ করলেন, তাদের শিক্ষা দিলেন, সত্য সুন্দরের পথের বিষয় শিক্ষা ও প্রেরণা যোগালেন, যেন মানুষ ফিরে পেতে পারে তাদের হৃত হয়ে যাওয়া অধিকার, সৃষ্টি লগ্নে যা পিতা মানুষকে দান করেছিলেন। মানুষ আসলে বাতেনী খোদার জাহেরী প্রকাশ। মসিহ তাই যথার্থ দাবি করেছেন, যে কেউ তাঁকে (মসিহকে) দেখেছে সে অদেখা খোদাকে দেখতে পেরেছে (ইউহোন্না ৬ : ২৯, ৩৩, ৩৫, ৩৮, ৪৮, ৫৩, ৫৮)।
মসিহ সম্ভবত ৩০ বৎসর বয়সে সর্বসাধারণের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার করতে শরু করলেন। একটানা তিনি তিন বৎসর জনসাধারণের মধ্যে ঐশি কালাম প্রচার প্রকাশ করে গেছেন। বলতে পারেন, মুখ খুলেই যে কথা তিনি প্রকাশ করেছেন তা হলো “সময় হয়েছে, আল্লাহর রাজ্য কাছে এস গেছে। আপনার তওবা করুন এবং এই সুসংবাদের উপর ঈমান আনুন” (মার্ক ১ : ১৫)।
আর একটি প্রচার বাণী তুলে ধরছি, “ঈসা শহরে শহরে ও গ্রামে গ্রামে গিয়ে ইহুদীদের মজলিস-খানায় শিক্ষা দিতেন ও বেহেশতী রাজ্যের সুসংবাদ তবলিগ করতে লাগলেন। এছাড়া তিনি লোকদের সব রকম রোগও ভাল করলেন। লোকদের ভিড় দেখে তাদের জন্য ঈসার মমতা হল, কারণ তারা রাখালহীন ভেড়ার মত ক্লান্ত ও অসহায় ছিল। তখন ঈসা তাঁর সাহাবীদের বললেন, “ফসল সত্যিই অনেক কিন্তু কাজ করবার লোক কম। সেজন্য ফসলের মালিকের কাছে অনুরোধ কর যেন তিনি তাঁর ফসল কাটবার জন্য লোক পাঠিয়ে দেন” (মথি ৯ : ৩৫-৩৮)। ইউহোন্না বর্ণীত সুসমাচারের প্রথমেই যে কথা আমরা দেখতে প্ইা তা হলো, (ইউহোন্না ১:১-১৮)। উক্ত শিক্ষামালা পর্যালোচনা করে দেখা যায় তিনি আদম বংশের হারিয়ে যাওয়া মানুষ খুঁজে পেতে এসেছেন, তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত তিনি স্বীয় পূতপবিত্র রক্তের মূল্যে করেছেন শোধ। যেমন ইব্রাহীম নবীর পুত্র ইছাহাক প্রাণে বেঁচে গেছেন খোদাদত্ত একটি মেষের মাধ্যমে। ইছহাকের বিকল্প উক্ত মেষটি হলো কোরবানী।
পাপের বেতন মৃত্যু, প্রত্যেক পাপীর মৃত্যু অবধারিত। গুনাহগারের হাতে কোনো মাশুল নেই যার বিনিময়ে সে নিজেকে বেকসুর খালাস করতে পারবে। মসিহ তাই মানুষের প্রতি সীমাহিন প্রেম ও ত্যাগ স্বীকার করলেন, মানুষের পাপের দায় নিজের স্বন্ধে তুলে নিয়ে হলেন কোরবানি, যার ফলে গোটাবিশ্ব হতে পারলো মুক্তপাপ।
এবার দেখতে পেলাম, তিনি সকল লোকের কাছেই ঐশি অময়ি বাণী পৌছে দিয়েছেন এবং তাঁর সাহাবীদের তেমন আজ্ঞা দিলেন সমস্ত জাতির কাছে উক্ত নাজাতের বারতা পৌছে দেবার জন্য (মথি ২৮ : ১৮-২০)।
প্রশ্ন রাখা স্বাভাবিক, মসিহ কি কাওকে নাম পরিবর্তন করার ফালতু দাবি জানিয়েছেন। তিনি কি কাওকে বলেছেন নাজাত পেতে চাইলে অবশ্যই খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে নাম লিখাতে হবে, তাছাড়া নাম ধাম পোশাক পরিচ্ছেদ ভাষা কৃষ্টি কালচার ইত্যাদি বাহ্যিক বাহারী পোশাকের পরিবর্তন করতে হবে, পালকের পায়ে উবুর হয়ে ক্ষমা চাইতে হবে, তাছাড়া তাদের থাকতে হবে বাহ্যিক রীতি-নীতি নিয়ম-কানুন অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে; তবেইনা তাকে খ্রীষ্টান বলে গণনা করা যাবে।
ভ্রাতঃ যার উপর ভিত্তি করে বিশে^র পরিত্রাণ হয়েছে সাধিত, যার রক্তের মূল্যে আপনি আমি হতে পেরেছি খোদার কাছে গ্রহনযোগ্য, যার মাধ্যমে আমাদের দান করা হয়েছে পূতপবিত্র রুহানী হৃদয় অধিকার, খোদার সাথে পূণর্মিলিত হবার জন্য যিনি হলেন একমাত্র পথ, সত্য ও জীবন, প্রেম ও ক্ষমার আধার, তাঁর প্রচারকালীন ইতিহাস ও প্রচার অভিযান ক্ষতিয়ে দেখুন, তিনি কোনো গুনাহগার হারানো সন্তানকে খ্রীষ্টান হতে বলেন নি।
আপনারা ভুল করছেন, অমন অবৈজ্ঞানিক, অযৌক্তিক, মনগড়া শর্ত তিনি কখনোই উচ্চারণ করেন নি; তাছাড়া ‘খ্রীষ্টান’ শব্দটি চালু হয়েছে মসিহের শত্রæদের দ্বারা, যারা পূতপবিত্র হবার জন্য মসিহের দাতব্য আহ্বান মনে প্রাণে মেনে নিতে হয়েছে চরম ব্যর্থ। সত্য সুন্দরের পথ যা চুড়ান্ত মূল্যে হয়েছে ক্রীত, যা নস্যাৎ করে দেবার জন্য মসিহের অনুসারীদের অপবাদ বা গালি দিয়েছে। আর প্রথম এটি ঘটেছে তদানীন্তন আন্তিয়াখীয়া শহরে হযরত পৌলের প্রচার অভিযানের সময়ে। কথাটা আসলে টিটকারী দিয়ে বলা (প্রেরিত ১১ : ২৬)।
কোন বাহ্যিক কর্মকান্ড পরিবর্তনের দ্বারা মানুষ নাজাত পেতে পারে না (ইফিষীয় ২ : ৮-১০)। মানুষের ধার্মিকতা পূতপবিত্র মহান খোদার ধার্মিকতার তুলনায় কেবল তুচ্ছিকৃত (ইশাইয়া ৬৪:৬)। মানুষকে ধার্মিক বলে সাব্যস্থ করা হয়েছে শতভাগ পবিত্র ঐশি মেষ খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহের কাফফারা সাধনকারী কোরবানি দেবার মাধ্যমে। যারাই উক্ত কোরবানির উপর আস্থা ও নির্ভর করে, কেবল তারাই হতে পারলো অবমুক্ত, সর্বপ্রকার গুনাহের দাবি-দাওয়া থেকে। আপনি যেকোনো পরিবেশে জন্ম ও প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষা লাভ করুন না কেন, আপনাকে অবশ্যই বসবাস করতে হয় বর্তমানকার কলুষিত বিশ্বে, যেমন, বর্তমানে গোটা বিশ^ আক্রান্ত করোনাঘাতে। মনে হচ্ছে, সকলেই উক্ত রোগজীবাণুর বাহক, নিয়ত ঘটিয়ে চলছে মরণব্যধির বিস্তার; এমন একটি অবস্থা, কেউ কাওকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না। কথাটা অবশ্যই সত্যি, যেমন সকলেই পাপ করেছে, আর খোদার গৌরব হারিয়ে বসেছে। পূণ্যবান কেউই নেই আদম বংশোদ্ভুত মানুষের মধ্যে; কেননা আদম নিজেই হলেন প্রলুব্ধ প্রতারিত মোহান্ধ, হলেন এদন কানন থেকে বিতাড়িত; আর তার পুত্র কাবিল সহোদর ভ্রাতাকে কতল করে বিশ^টাকে করে তুলল অধিকতর কলুষিত।
ব্যবহার অনুপযোগী নোংরা পোশাক ধোপা যেমন পরিষ্কার করে মালিকের হাতে ফিরিয়ে দেয়, একইভাবে মসিহের আগমন ঘটেছে পাপে পংকিল কদাকার অপাংক্তেয় লোকদের খোদার দরবারে পৌছে দিতে; তিনি সকলকে স্নাতশুভ্র নিষ্পাপ করে তুললেন এক চূড়ান্ত মূল্য পরিশোধ করার মাধ্যমে। তিনি গুনাহগারদের স্থলে নিজেই দাঁড়ালেন, মর্ম বিদারক সলীব স্বীয় স্কন্ধে তুলে নিলেন, মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করলেন, কেবল আপনাকে আমাকে গুনাহমুক্ত করার জন্য, নতুন সৃষ্টি হিসেবে পিতার সাথে পুনর্মিলনের অধিকার করলেন দান; যা হলো প্রেমের বিনিময়ে। যেমন লেখা আছে, “তবে যতজন তাঁর উপর ঈমান এনে তাঁকে গ্রহণ করল তাদের প্রত্যেককে তিনি আল্লাহর সন্তান হবার অধিকার দিলেন” (ইউহোন্না ১ : ১২)।
নিঃসংশয়ে জেনে রাখুন, মসিহের হাতে সমার্পিত হবার জন্য স্বীয় কৃত পাপ স্বীকার করা, আর মন পরিবর্তন করাটাই হলো প্রধান ও একমাত্র শর্ত। অর্থবিত্তের নিরীখে, বিদ্যা বুদ্ধি মেধা মননের কারণে কোনো ব্যক্তি মুক্তপাপ হবার ক্ষমতা রাখে না। সকলেই পাইকারীহারে গুনাহগার। সকলেই আত্মকেন্দ্রীক, কোলকুঁজো, নিজেকে নিয়ে থাকে সদা ব্যস্ত, হাতে সময় বা মনন কোনটাই নেই অন্যের জন্য ভাবনাচিন্তা করে দেখার। খোদার অনন্ত প্রতিজ্ঞার উপর তাদের কোনোই আস্থা নেই। খোদার অমীয় বাণী প্রচার প্রসার করা হলো তাদের যোগ্য বাণিজ্যের হাতিয়ার (ইউহোন্না ২ : ১৬)
কোন পরিবারে আপনার জন্ম হয়েছে তা বড় বিষয় নয়; গুরুত্ববহ বিষয় হলো, আপনি একজন মানুষ, আদমজাত, মানুষ আপনাকে নানাবিধ উপাধি দিয়ে রেখেছে সামাজিক সেবা পাবার জন্য। শ্রমে কোনো লজ্জ্যা থাকার কারণ নেই। লজ্জা পাবার যদি কিছু থাকে তবে তা হবে রিলিফ চুরির কাজে। সমাজের দিকে তাকান, উকি মেরে দেখুন, বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা যদি থাকে তবে ক্ষতিয়ে দেখুন, সমাজে ভালো কাকে বলবেন, কাকে উপাধি দিবেন ‘ধার্মিক’ বলে। কে এমন আছে যার পদাঙ্ক অনুসরণ করা চলে নির্বিবাদে চোখ বন্ধ করে, আমার সেই পুরানো শ্লোকটি প্রকাশ করলাম
“যার হস্ত হয়েছে ভ্রাতার রক্তে রঞ্চিত
বলুন সুধী, কি করে রাখব তাকে
ভক্তি শ্রদ্ধার চিতে সঞ্চিত?”
প্রদীপ্ত শিখা নিজেই নিজেকে প্রকাশ করে, দূর দূরান্ত থেকে সহজেই দৃষ্ট হয়। আপনি যদি সত্যিই একজন ধার্মিক ব্যক্তি, হয়ে থাকেন তবে আপনার সুন্দর স্বভাব আচরণ প্রমান বহন করবে আপনার চিন্তা- চেতনার পরিবর্তনের কথা, “যদি কেউ মসিহের সংগে যুক্ত হয়ে থাকে তবে সে নতুনভাবে সৃষ্ট হল। তার পুরানো সব কিছু মুছে গিয়ে নতুন হয়ে উঠেছে। এই সব আল্লাহ থেকেই হয়। তিনি মসিহের মধ্য দিয়ে তাঁর নিজের সংগে আমাদের মিলিত করেছেন, আর তাঁর সংগে আমাদের মিলন করিয়ে দেবার দায়িত্ব আমাদের উপর দিয়েছেন। এর অর্থ হল, আল্লাহ মানুষের গুনাহ না ধরে মসিহের মধ্য দিয়ে নিজের সংগে মানষকে মিলিত করছিলেন, আর সেই মিলনের খবর জানাবার ভার তিনি আমাদের উপর দিয়েছেন। সেজন্যই আমরা মসিহের দূত হিসাবে তাঁর হয়ে কথা বলছি। আসলে আল্লাহ যেন নিজেই আমাদের মধ্য দিয়ে লোকদের কাছে অনুরোধ করছেন। তাই মসিহের হয়ে আমরা এই মিনতি করছি, “তোমরা আল্লাহর সংগে মিলিত হও।” ঈসা মসিহের মধ্যে কোন গুনাহ ছিল না; কিন্তু আল্লাহ আমাদের গুনাহ তাঁর উপর তুলে দিয়ে তাঁকেই গুনাহের জায়গায় দাঁড় করালেন, যেন মসিহের সংগে যুক্ত থাকবার দরুন আল্লাহর পবিত্রতা আমাদের পবিত্রতা হয়” (২করিন্থীয় ৫ : ১৭-২১)।
মসিহের কাছে আসতে চাইলে বাহ্যিক কোনো কিছু পরিবর্তন পরিবর্ধনের প্রয়োজন নেই, প্রজ্জলিত মোমটি নিয়ত আলো ছড়ায়, ফলে চারপাশের অন্ধকার হয়ে যায় দূরীভুত; আর একটি রহস্য হলো, প্রতিটি ক্ষণে উক্ত মোমটি গলে গলে এক সময় নিঃশেষিত হয়ে যায়। প্রজ্জলিত মোমের প্রবৃদ্ধির তো প্রশ্নই জাগে না? আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া হলো চোর তষ্কারের দৃষ্টান্ত; নিজেকে যে বিলিয়ে দেয় অন্যের কল্যাণে, তাকে তো কর্পূরের সাথে তুলনা করা সহিচীন।
গোটা বিশ্ববাসির মুক্তির জন্য ঐশি পুত্র খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ নিজেকে সলীবে দিলেন কোরবানি। আপনি কি তাকেই অনুসরণ করে চলছেন। নিরবে, নির্ভয়ে, বিশ্বাসে সুদৃঢ় থেকে আপনার ব্রতে স্থীর থাকুন। আপনি সর্বশক্তিমান অন্তর্যামী প্রভুর সেবা করে ফিরছেন; আপনার আবার কিসের ভয় থাকতে পারে? তিনি তাঁর ভক্তবৃন্দদের সর্বদা ধরে রাখার যে প্রতিজ্ঞা করেছেন তা অবশ্যই সর্বাবস্থায় রয়েছে অনড়।
খোদা ইউসা নবীকে অভয় বাণী দিয়ে শক্তিশালী করলেন, তাঁর মনোবল বাড়িয়ে দিলেন এ বলে, “তুমি শক্তিশালী হও, মনে সাহস আন, কারণ যে দেশ দেবার কথা আমি এই লোকদের পূর্বপুরুষদের কাছে কসম খেয়ে বলেছিলাম, সেই দেশ এই লোকদের অধিকার হিসাব তোমাকেই ভাগ করে দিতে হবে। তুমি শক্তিশালী হও ও সাহসে বুক বাঁধ। আমার গোলাম মূসা তোমাকে যে শরীয়ত দিয়ে গেছে সেই সব শরীয়ত পালন করবার দিকে মন দেবে, তা থেকে একটুও এদিক ওদিক সরবে না। এতে তুমি যেখানেই যাবে সেখানেই সফল হবে। এই তৌরাত কিতাবের মধ্যে যা লেখা আছে তা যেন সব সময় তোমার মুখে থাকে। এর মধ্যে যা লেখা আছে তা যাতে তুমি পালন করবার দিকে মন দিতে পার সেজন্য দিনরাত তা নিয়ে তুমি গভীরভাবে চিন্তা করবে। তাতে সব কিচুতে তুমি সফল হবে এবং তোমার উন্নতি হবে। আমি তোমাকে হুকুম দিয়েছি, কাজেই তুমি শক্তিশালী হও ও মনে সাহস আন। ভয় করো না কিংবা নিরাশ হোয়ো না, কারণ তুমি যেখানেই যাও না কেন তোমার মাবুদ আল্লাহ তোমার সংগে থাকবেন” (ইউসা ১ : ৬-৯)
বর্তমান বিশ্বে প্রত্যেকটি মতবাদের পিছনে রয়েছে একজন প্রবক্তা, যাকে অবশ্যই হতে হবে গণ সমর্থন যোগ্য। কালের আবর্তে ষড় ঋতুর যাতাকলে পিষ্ট হয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে তাকতে হবে জনতার সমর্থনের ফলে; কেননা সকল মতবাদ তো মানুষকে কেন্দ্রে রেখে হয়ে থাকে বিরচিত। মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করার কারণেই তারা নিয়ত সংগ্রাম যুদ্ধ চালিয়ে চলছে; মানুষ তো পরিষ্কার খোদার স্বীয় প্রতিনিধি, তাদের কল্যাণ বয়ে আনার জন্য তিনি থাকেন সদা সজাগ, তৎপর; কালামপাকে দেখা যায়, তিনি তন্দ্রা পর্যন্ত যান না; শততঃ থাকেন নেগাবান সৃষ্টির কল্যাণকর্মে। তবে ভুলে গেলে চলবে না, মানুষের ক্ষতি সাধন করার জন্য সদা তৎপর রয়েছে এক অপশক্তি, যাকে কেউ ইবলিস নামে অভিহিত করে থাকে, আবার কেউবা বলে দিয়াবল, তা যে যে নামেই ওকে চিহ্নিত করুক না কেন, ওর চরিত্রে তেমন কোনো তারতম্য ঘটতে পারে না। আকার ইকার অথবা শব্দের আগে-পিছে প্রত্যয় জুড়ে দিয়ে শব্দের পরিবর্তনের ফলে পেশার মান বাড়েও না কমেও না; যিনি যে কাজে যুক্ত থাকেন সততা, ধৈর্য্য, বিশ্বাসভক্তি প্রেম নিয়ে কাজ চালিয়ে গেলে গোটা সমাজ হয় উপকৃত।
আসুন মতবাদের বিষয়ে আলোকপাত করা যাক। মানুষ প্রথমেই হয়ে পড়লো বিপন্ন, প্রতারিত, পরাভুত খোদা ও মানুষের মধ্যে বিষ্ময় সম্পর্ক জনমের অরি ইবলিসের দ্বারা হয়েছে সৃষ্ট; অবশ্য হতাশা ও লোভ দুটো প্রবণতা কাজ করেছে তাদের দুষ্ট মন্ত্রে রাজী করার জন্য। মানুষ হয়ে পড়লো প্রলুব্ধ ও সন্দিহান, খোদ নির্মাতার প্রতিজ্ঞা সমূহে।
আশিষধারা বন্ধ হয়ে গেলে তটতটীনি জলশুন্য মরুভূমে পরিণত হয়ে যায়, যা বোধকরি শিশুদের পক্ষেও বুঝতে বেগ পেতে হয় না। আমার একটি গানের একটি কলি হলো, মরুভূমি জলে ভিজে বণানী বনে, আর প্রবাহীনি মরু হয় প্রবাহ বিনে।
আশির্বাদপুষ্ট সাহচার্য থেকে বাদ পড়ে আদম-হাওয়ার ভালে জুটে গেল অনন্ত নরকজ¦ালা। পাপের কুফল দেখতে পাই ভ্রাতৃহননের মত জঘন্য কর্মকান্ডের মাধ্যমে।
যাক, আমাদের মুল আলোশ্চ্য থেকে সরে যাবো না। কথাটা ছিল, মুক্তি চাইলে অবশ্যই খ্রীষ্টান হতে হবে। খ্রীষ্টধর্ম পালন না করলে কেমন করে ব্যক্তি লাভ করতে পারে খোদার নৈকট্য? বিষয়টি গিয়ে দাড়ায় খ্রীষ্ট বা মসিহ বা খোদার মানবরূপী কালাম ও পাকরূহকে নিয়ে। মানুষ খোদার উপর আস্থা হারিয়ে হয়ে পড়লো দিকভ্রান্ত, জড়িয়ে পড়লো খোদাদ্রোহী অশুভ কর্মকান্ডের মধ্যে। খোদা ও মানুষের আজন্ম শত্রু হলো অভিশপ্ত ইবলিস, যার ব্রত হলো মানুষের সর্বনাশ করা; তা ছলে-বলে, ভয় বা প্রলোভন যা কিছুই প্রয়োজন হোক না কেন, মানুষকে বিপন্ন পরাভুত করেই তবে ইবলিস পাবে শান্তি, হবে শান্ত।
মানবের প্রতি অসীম প্রেমের কারণে খোদা বিশ^বােিক উদ্ধার করার জন্য এক অভিনব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করলেন। স্বীয় কালাম বা পাকরূহ জগতে প্রেরণ করলেন বিশে^র পাপের কাফফারা পরিশোধ দেবার জন্য। কুমারী মরিয়মনাম্মী এক বিদুষী নারীর গর্ভে জাত সন্তান যিনি হলেন খোদার জীবন্ত কালাম, মানবরূপে আবির্ভুত ঐশি মেষ, শতভাগ বেগুনাহ ব্যক্তি, হযরত ঈসা মসিহ! খোদা নিজেই এমন অভাবিত ব্যবস্থা স্থাপন করলেন অসহায় বিশ্বকে ক্রয় করার জন্য।
মসিহ ধরাপৃষ্টে মানবরূপে ৩৩বৎসর যাবৎ অবস্থান করেছেন। সাধারণ আর দশটি লোকের মতই তিনি জীবন যাপন করেছেন বটে, তবে পাপ ও দিয়াবল তাকে পরাবুত করতে পারে নি। ভূমিষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে জগতের পাপার্থক কাফফারা সাধনকারী মর্ম বিদারক সলিবে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ঐশি জীবন যাপন করেছেন; বাতেনি খোদার জাহেরী প্রকাশ হলেন খোদ খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ। জীবনের শেষ প্রান্তে তিনটি বৎসর কাল জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে শিক্ষা বিস্তার করেছেন। তিনি এসেছেন মানুষের মুক্তি নায়ক হয়ে, মানুষের পাপের স্খলন ঘটানোর জন্য। মানুষ গুনাহগার আর খোদা হলেন শতভাগ পূতপবিত্র। খোদা মানুষকে নিজের মত করে সৃষ্টি করেছেন, স্বীয় প্রতিনিধিত্ব করার জন্য, কেননা তিনি হলেন এক বাতেনী পরম রুহানী সত্তা। তাঁর ঐশি গুনাবলী মানুষের মধ্যে প্রবাহিত করার জন্যই তিনি থাকেন সদাব্যস্ত।
আমরা দেখব, সেই বাতেনি পরম পিতা কেমন করে মানুষের মধ্যে মানবরূপে ধারণ করে নেমে এলেন। তিনি মানুষ হলেন, গুনাহগারদের মধ্যে প্রবেশ করলেন, তাদের শিক্ষা দিলেন, সত্য সুন্দরের পথের বিষয় শিক্ষা ও প্রেরণা যোগালেন, যেন মানুষ ফিরে পেতে পারে তাদের হৃত হয়ে যাওয়া অধিকার, সৃষ্টি লগ্নে যা পিতা মানুষকে দান করেছিলেন। মানুষ আসলে বাতেনী খোদার জাহেরী প্রকাশ। মসিহ তাই যথার্থ দাবি করেছেন, যে কেউ তাঁকে (মসিহকে) দেখেছে সে অদেখা খোদাকে দেখতে পেরেছে (ইউহোন্না ৬ : ২৯, ৩৩, ৩৫, ৩৮, ৪৮, ৫৩, ৫৮)।
মসিহ সম্ভবত ৩০ বৎসর বয়সে সর্বসাধারণের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার করতে শরু করলেন। একটানা তিনি তিন বৎসর জনসাধারণের মধ্যে ঐশি কালাম প্রচার প্রকাশ করে গেছেন। বলতে পারেন, মুখ খুলেই যে কথা তিনি প্রকাশ করেছেন তা হলো “সময় হয়েছে, আল্লাহর রাজ্য কাছে এস গেছে। আপনার তওবা করুন এবং এই সুসংবাদের উপর ঈমান আনুন” (মার্ক ১ : ১৫)।
আর একটি প্রচার বাণী তুলে ধরছি, “ঈসা শহরে শহরে ও গ্রামে গ্রামে গিয়ে ইহুদীদের মজলিস-খানায় শিক্ষা দিতেন ও বেহেশতী রাজ্যের সুসংবাদ তবলিগ করতে লাগলেন। এছাড়া তিনি লোকদের সব রকম রোগও ভাল করলেন। লোকদের ভিড় দেখে তাদের জন্য ঈসার মমতা হল, কারণ তারা রাখালহীন ভেড়ার মত ক্লান্ত ও অসহায় ছিল। তখন ঈসা তাঁর সাহাবীদের বললেন, “ফসল সত্যিই অনেক কিন্তু কাজ করবার লোক কম। সেজন্য ফসলের মালিকের কাছে অনুরোধ কর যেন তিনি তাঁর ফসল কাটবার জন্য লোক পাঠিয়ে দেন” (মথি ৯ : ৩৫-৩৮)। ইউহোন্না বর্ণীত সুসমাচারের প্রথমেই যে কথা আমরা দেখতে প্ইা তা হলো, (ইউহোন্না ১:১-১৮)। উক্ত শিক্ষামালা পর্যালোচনা করে দেখা যায় তিনি আদম বংশের হারিয়ে যাওয়া মানুষ খুঁজে পেতে এসেছেন, তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত তিনি স্বীয় পূতপবিত্র রক্তের মূল্যে করেছেন শোধ। যেমন ইব্রাহীম নবীর পুত্র ইছাহাক প্রাণে বেঁচে গেছেন খোদাদত্ত একটি মেষের মাধ্যমে। ইছহাকের বিকল্প উক্ত মেষটি হলো কোরবানী।
পাপের বেতন মৃত্যু, প্রত্যেক পাপীর মৃত্যু অবধারিত। গুনাহগারের হাতে কোনো মাশুল নেই যার বিনিময়ে সে নিজেকে বেকসুর খালাস করতে পারবে। মসিহ তাই মানুষের প্রতি সীমাহিন প্রেম ও ত্যাগ স্বীকার করলেন, মানুষের পাপের দায় নিজের স্বন্ধে তুলে নিয়ে হলেন কোরবানি, যার ফলে গোটাবিশ্ব হতে পারলো মুক্তপাপ।
এবার দেখতে পেলাম, তিনি সকল লোকের কাছেই ঐশি অময়ি বাণী পৌছে দিয়েছেন এবং তাঁর সাহাবীদের তেমন আজ্ঞা দিলেন সমস্ত জাতির কাছে উক্ত নাজাতের বারতা পৌছে দেবার জন্য (মথি ২৮ : ১৮-২০)।
প্রশ্ন রাখা স্বাভাবিক, মসিহ কি কাওকে নাম পরিবর্তন করার ফালতু দাবি জানিয়েছেন। তিনি কি কাওকে বলেছেন নাজাত পেতে চাইলে অবশ্যই খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে নাম লিখাতে হবে, তাছাড়া নাম ধাম পোশাক পরিচ্ছেদ ভাষা কৃষ্টি কালচার ইত্যাদি বাহ্যিক বাহারী পোশাকের পরিবর্তন করতে হবে, পালকের পায়ে উবুর হয়ে ক্ষমা চাইতে হবে, তাছাড়া তাদের থাকতে হবে বাহ্যিক রীতি-নীতি নিয়ম-কানুন অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে; তবেইনা তাকে খ্রীষ্টান বলে গণনা করা যাবে।
ভ্রাতঃ যার উপর ভিত্তি করে বিশে^র পরিত্রাণ হয়েছে সাধিত, যার রক্তের মূল্যে আপনি আমি হতে পেরেছি খোদার কাছে গ্রহনযোগ্য, যার মাধ্যমে আমাদের দান করা হয়েছে পূতপবিত্র রুহানী হৃদয় অধিকার, খোদার সাথে পূণর্মিলিত হবার জন্য যিনি হলেন একমাত্র পথ, সত্য ও জীবন, প্রেম ও ক্ষমার আধার, তাঁর প্রচারকালীন ইতিহাস ও প্রচার অভিযান ক্ষতিয়ে দেখুন, তিনি কোনো গুনাহগার হারানো সন্তানকে খ্রীষ্টান হতে বলেন নি।
আপনারা ভুল করছেন, অমন অবৈজ্ঞানিক, অযৌক্তিক, মনগড়া শর্ত তিনি কখনোই উচ্চারণ করেন নি; তাছাড়া ‘খ্রীষ্টান’ শব্দটি চালু হয়েছে মসিহের শত্রæদের দ্বারা, যারা পূতপবিত্র হবার জন্য মসিহের দাতব্য আহ্বান মনে প্রাণে মেনে নিতে হয়েছে চরম ব্যর্থ। সত্য সুন্দরের পথ যা চুড়ান্ত মূল্যে হয়েছে ক্রীত, যা নস্যাৎ করে দেবার জন্য মসিহের অনুসারীদের অপবাদ বা গালি দিয়েছে। আর প্রথম এটি ঘটেছে তদানীন্তন আন্তিয়াখীয়া শহরে হযরত পৌলের প্রচার অভিযানের সময়ে। কথাটা আসলে টিটকারী দিয়ে বলা (প্রেরিত ১১ : ২৬)।
কোন বাহ্যিক কর্মকান্ড পরিবর্তনের দ্বারা মানুষ নাজাত পেতে পারে না (ইফিষীয় ২ : ৮-১০)। মানুষের ধার্মিকতা পূতপবিত্র মহান খোদার ধার্মিকতার তুলনায় কেবল তুচ্ছিকৃত (ইশাইয়া ৬৪:৬)। মানুষকে ধার্মিক বলে সাব্যস্থ করা হয়েছে শতভাগ পবিত্র ঐশি মেষ খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহের কাফফারা সাধনকারী কোরবানি দেবার মাধ্যমে। যারাই উক্ত কোরবানির উপর আস্থা ও নির্ভর করে, কেবল তারাই হতে পারলো অবমুক্ত, সর্বপ্রকার গুনাহের দাবি-দাওয়া থেকে। আপনি যেকোনো পরিবেশে জন্ম ও প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষা লাভ করুন না কেন, আপনাকে অবশ্যই বসবাস করতে হয় বর্তমানকার কলুষিত বিশ্বে, যেমন, বর্তমানে গোটা বিশ^ আক্রান্ত করোনাঘাতে। মনে হচ্ছে, সকলেই উক্ত রোগজীবাণুর বাহক, নিয়ত ঘটিয়ে চলছে মরণব্যধির বিস্তার; এমন একটি অবস্থা, কেউ কাওকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না। কথাটা অবশ্যই সত্যি, যেমন সকলেই পাপ করেছে, আর খোদার গৌরব হারিয়ে বসেছে। পূণ্যবান কেউই নেই আদম বংশোদ্ভুত মানুষের মধ্যে; কেননা আদম নিজেই হলেন প্রলুব্ধ প্রতারিত মোহান্ধ, হলেন এদন কানন থেকে বিতাড়িত; আর তার পুত্র কাবিল সহোদর ভ্রাতাকে কতল করে বিশ^টাকে করে তুলল অধিকতর কলুষিত।
ব্যবহার অনুপযোগী নোংরা পোশাক ধোপা যেমন পরিষ্কার করে মালিকের হাতে ফিরিয়ে দেয়, একইভাবে মসিহের আগমন ঘটেছে পাপে পংকিল কদাকার অপাংক্তেয় লোকদের খোদার দরবারে পৌছে দিতে; তিনি সকলকে স্নাতশুভ্র নিষ্পাপ করে তুললেন এক চূড়ান্ত মূল্য পরিশোধ করার মাধ্যমে। তিনি গুনাহগারদের স্থলে নিজেই দাঁড়ালেন, মর্ম বিদারক সলীব স্বীয় স্কন্ধে তুলে নিলেন, মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করলেন, কেবল আপনাকে আমাকে গুনাহমুক্ত করার জন্য, নতুন সৃষ্টি হিসেবে পিতার সাথে পুনর্মিলনের অধিকার করলেন দান; যা হলো প্রেমের বিনিময়ে। যেমন লেখা আছে, “তবে যতজন তাঁর উপর ঈমান এনে তাঁকে গ্রহণ করল তাদের প্রত্যেককে তিনি আল্লাহর সন্তান হবার অধিকার দিলেন” (ইউহোন্না ১ : ১২)।
নিঃসংশয়ে জেনে রাখুন, মসিহের হাতে সমার্পিত হবার জন্য স্বীয় কৃত পাপ স্বীকার করা, আর মন পরিবর্তন করাটাই হলো প্রধান ও একমাত্র শর্ত। অর্থবিত্তের নিরীখে, বিদ্যা বুদ্ধি মেধা মননের কারণে কোনো ব্যক্তি মুক্তপাপ হবার ক্ষমতা রাখে না। সকলেই পাইকারীহারে গুনাহগার। সকলেই আত্মকেন্দ্রীক, কোলকুঁজো, নিজেকে নিয়ে থাকে সদা ব্যস্ত, হাতে সময় বা মনন কোনটাই নেই অন্যের জন্য ভাবনাচিন্তা করে দেখার। খোদার অনন্ত প্রতিজ্ঞার উপর তাদের কোনোই আস্থা নেই। খোদার অমীয় বাণী প্রচার প্রসার করা হলো তাদের যোগ্য বাণিজ্যের হাতিয়ার (ইউহোন্না ২ : ১৬)
কোন পরিবারে আপনার জন্ম হয়েছে তা বড় বিষয় নয়; গুরুত্ববহ বিষয় হলো, আপনি একজন মানুষ, আদমজাত, মানুষ আপনাকে নানাবিধ উপাধি দিয়ে রেখেছে সামাজিক সেবা পাবার জন্য। শ্রমে কোনো লজ্জ্যা থাকার কারণ নেই। লজ্জা পাবার যদি কিছু থাকে তবে তা হবে রিলিফ চুরির কাজে। সমাজের দিকে তাকান, উকি মেরে দেখুন, বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা যদি থাকে তবে ক্ষতিয়ে দেখুন, সমাজে ভালো কাকে বলবেন, কাকে উপাধি দিবেন ‘ধার্মিক’ বলে। কে এমন আছে যার পদাঙ্ক অনুসরণ করা চলে নির্বিবাদে চোখ বন্ধ করে, আমার সেই পুরানো শ্লোকটি প্রকাশ করলাম
“যার হস্ত হয়েছে ভ্রাতার রক্তে রঞ্চিত
বলুন সুধী, কি করে রাখব তাকে
ভক্তি শ্রদ্ধার চিতে সঞ্চিত?”
প্রদীপ্ত শিখা নিজেই নিজেকে প্রকাশ করে, দূর দূরান্ত থেকে সহজেই দৃষ্ট হয়। আপনি যদি সত্যিই একজন ধার্মিক ব্যক্তি, হয়ে থাকেন তবে আপনার সুন্দর স্বভাব আচরণ প্রমান বহন করবে আপনার চিন্তা- চেতনার পরিবর্তনের কথা, “যদি কেউ মসিহের সংগে যুক্ত হয়ে থাকে তবে সে নতুনভাবে সৃষ্ট হল। তার পুরানো সব কিছু মুছে গিয়ে নতুন হয়ে উঠেছে। এই সব আল্লাহ থেকেই হয়। তিনি মসিহের মধ্য দিয়ে তাঁর নিজের সংগে আমাদের মিলিত করেছেন, আর তাঁর সংগে আমাদের মিলন করিয়ে দেবার দায়িত্ব আমাদের উপর দিয়েছেন। এর অর্থ হল, আল্লাহ মানুষের গুনাহ না ধরে মসিহের মধ্য দিয়ে নিজের সংগে মানষকে মিলিত করছিলেন, আর সেই মিলনের খবর জানাবার ভার তিনি আমাদের উপর দিয়েছেন। সেজন্যই আমরা মসিহের দূত হিসাবে তাঁর হয়ে কথা বলছি। আসলে আল্লাহ যেন নিজেই আমাদের মধ্য দিয়ে লোকদের কাছে অনুরোধ করছেন। তাই মসিহের হয়ে আমরা এই মিনতি করছি, “তোমরা আল্লাহর সংগে মিলিত হও।” ঈসা মসিহের মধ্যে কোন গুনাহ ছিল না; কিন্তু আল্লাহ আমাদের গুনাহ তাঁর উপর তুলে দিয়ে তাঁকেই গুনাহের জায়গায় দাঁড় করালেন, যেন মসিহের সংগে যুক্ত থাকবার দরুন আল্লাহর পবিত্রতা আমাদের পবিত্রতা হয়” (২করিন্থীয় ৫ : ১৭-২১)।
মসিহের কাছে আসতে চাইলে বাহ্যিক কোনো কিছু পরিবর্তন পরিবর্ধনের প্রয়োজন নেই, প্রজ্জলিত মোমটি নিয়ত আলো ছড়ায়, ফলে চারপাশের অন্ধকার হয়ে যায় দূরীভুত; আর একটি রহস্য হলো, প্রতিটি ক্ষণে উক্ত মোমটি গলে গলে এক সময় নিঃশেষিত হয়ে যায়। প্রজ্জলিত মোমের প্রবৃদ্ধির তো প্রশ্নই জাগে না? আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া হলো চোর তষ্কারের দৃষ্টান্ত; নিজেকে যে বিলিয়ে দেয় অন্যের কল্যাণে, তাকে তো কর্পূরের সাথে তুলনা করা সহিচীন।
গোটা বিশ্ববাসির মুক্তির জন্য ঐশি পুত্র খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ নিজেকে সলীবে দিলেন কোরবানি। আপনি কি তাকেই অনুসরণ করে চলছেন। নিরবে, নির্ভয়ে, বিশ্বাসে সুদৃঢ় থেকে আপনার ব্রতে স্থীর থাকুন। আপনি সর্বশক্তিমান অন্তর্যামী প্রভুর সেবা করে ফিরছেন; আপনার আবার কিসের ভয় থাকতে পারে? তিনি তাঁর ভক্তবৃন্দদের সর্বদা ধরে রাখার যে প্রতিজ্ঞা করেছেন তা অবশ্যই সর্বাবস্থায় রয়েছে অনড়।
খোদা ইউসা নবীকে অভয় বাণী দিয়ে শক্তিশালী করলেন, তাঁর মনোবল বাড়িয়ে দিলেন এ বলে, “তুমি শক্তিশালী হও, মনে সাহস আন, কারণ যে দেশ দেবার কথা আমি এই লোকদের পূর্বপুরুষদের কাছে কসম খেয়ে বলেছিলাম, সেই দেশ এই লোকদের অধিকার হিসাব তোমাকেই ভাগ করে দিতে হবে। তুমি শক্তিশালী হও ও সাহসে বুক বাঁধ। আমার গোলাম মূসা তোমাকে যে শরীয়ত দিয়ে গেছে সেই সব শরীয়ত পালন করবার দিকে মন দেবে, তা থেকে একটুও এদিক ওদিক সরবে না। এতে তুমি যেখানেই যাবে সেখানেই সফল হবে। এই তৌরাত কিতাবের মধ্যে যা লেখা আছে তা যেন সব সময় তোমার মুখে থাকে। এর মধ্যে যা লেখা আছে তা যাতে তুমি পালন করবার দিকে মন দিতে পার সেজন্য দিনরাত তা নিয়ে তুমি গভীরভাবে চিন্তা করবে। তাতে সব কিচুতে তুমি সফল হবে এবং তোমার উন্নতি হবে। আমি তোমাকে হুকুম দিয়েছি, কাজেই তুমি শক্তিশালী হও ও মনে সাহস আন। ভয় করো না কিংবা নিরাশ হোয়ো না, কারণ তুমি যেখানেই যাও না কেন তোমার মাবুদ আল্লাহ তোমার সংগে থাকবেন” (ইউসা ১ : ৬-৯)