রাত আর দিন ভাই রাত আর দিন
কথাটা হলো বিপরীতার্থক কিছু বুঝাতে, মানুষ এমন যুগল শব্দ ব্যবহার করে আসছে। বিপরীতার্থক ধ্যান–ধারণা সর্বমানবের ধমণীতে আজন্ম প্রবাহমান, আর তা কম বেশি চলছে নিয়ত। প্রত্যেকের কিছু বক্তব্য থাকে যে কোনো একটি বিষয়ের উপর, আর সাধরণ জনতা বিনে বাক্যে তা মেনে নেয়, সমর্থন করে এবং প্রয়োজনবোধে স্লোগান দিয়ে আকাশ বাতাশ মুখরীত করে তোলে। তাদের ভাবখানা দেখে মনে হয়, সকলেই আর্কিমেডিস বনে গেছে, তাই ইউরেকা ইউরেকা শব্দের দ্বারা তুফান সৃষ্টি করেছে। জনমনে নবজাগরণ তৈরী করেছে। এটা হলো বোবা ঢেউ; কেউ কি তা থামিয়ে রাখতে পারে? তবে মহাজ্ঞানী মহাজন পারেন, করেন যা কিছু আমরা প্রত্যক্ষ করে চলছি, ধীরে ধীরে, নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে সবকিছু কেবল মহাপরাক্রান্ত মাবুদের হাতে।
আসুন, রাত আর দিনের তাৎপর্য খুঁজে ফিরি। পৃথিবীতে রাত আর দিনের যেটুকু পার্থক্য রয়েছে তা হলো, আলো আর আধার। অন্যভাবে বলা চলে আলোর উপস্থিতি … যখন আলোর উপস্থিতিতে থাকে তখন হলো দিবস, আর দিবসে কোনো কিছু লুকিয়ে রাখবে কে! প্রদীপ নিভিয়ে দিলে তা পরিণত হলো রাতে, সাধারণের চোখে অনেককিছুই আর ধরা পড়ে না। তাই কথায় বলে, রাতের আধারে চোরা চুরি করে। বিশ্বের তাবৎ অশুভ ঘটনার অধিকাংশই সংঘটিত হয়েছে রাতের আধারে। তা হলে দেখা যায়, চোর তষ্কর আপন আপন দুষ্কর্ম চরিতার্থ করার জন্য সুয়োগ নিয়ে থাকে, তাদের হৃদয়ে পুঞ্জিভুত ক্লেদ কালিমা কুটকৌশল বাস্তবায়ন করার জন্য, সমাজে যতটা অপকীর্তি প্রচলিত, রয়েছে বিস্তৃত, তার সবটাই শুরু হয়েছে রাতের আধারে, গভির রাতে, ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয় গোপনে, সাধারণের চোখের আড়ালে। বলতে পারেন, বিষ্ফোরক প্রস্তুত ও পুতে রাখা হয় গোপনে, আর তা যখন বিষ্ফোরণ ঘটায়, তখন একটা সভ্যতা বিনষ্ট হয়ে পড়ে মারাত্মকভাবে। আর তেমন ধ্বংসস্তুপের মধ্যে সমাজকর্মী উপস্থিত হয়ে দিবালোকে; সবকিছু পুনর্গঠনের জন্য তারা অক্লান্ত শ্রম দিয়ে ফিরে। এমন কি নিজেদের শ্রম ঘামের বিনিময়ে কষ্টার্জীত অর্থবিত্ত ব্যয় করতেও কুষ্ঠাবোধ করে না। আসলে খোদা হলেন প্রেমের খোদা, ত্যাগের খোদা, শৃঙ্খলার খোদা, যার আশিষধারা প্রবাহিত হয়ে চলছে অব্যাহতধারায়, বিস্তৃতি যার আসমান–জমীন জুড়ে, অনন্ত অসীম প্রেমময় ক্ষমার অনন্ত আধার, স্বীয় প্রতিমূর্তীতে গড়া মানুষের অবস্থান তাঁর আপন নয়নের মধ্যখানে, যে কারণে নয়নের মণির সাথে তুলনা করেন, তিনি মানুষের কোনো ক্ষতি করেন না, করতে পারেন না, কোনো সুস্থ মা কি তার সন্তানের ক্ষতি কামনা করে? মানুষের ক্ষতি সাধন করা হলো একমাত্র অভিশপ্ত ইবলিসের আজন্ম আড়ি, মানুষকে আক্রমন করে আসছে খোদ আদম থেকে, কখনো প্রলোভন কখনো ভয়ভীতি, কখনো তোষামোদ তথা নানা প্রকার ছলাকলা দিয়ে, সাধুজনকে ভুল পথে, বিপন্ন দশায়, চালিয়ে নিচ্ছে। তবে ইবলিসের মোক্ষম বাজিমাৎ করার মত ফলপ্রসু অস্ত্র হলো পার্থীব বিষয় যথা: দেহের কামনা, চোখের লোভ আর সাংসারিক বিষয়ের প্রতি অদম্য আকর্ষণ (১ম ইউহোন্না ২ : ১৫–১৭)।
মানব হন্তা তথা ভ্রাতৃ হন্তা কাবিল আপন সহোদরকে হত্যা করে নরঘাতি রেওয়াজ চালু করলো সর্বপ্রথম, তার পর ইবলিসাশ্রিত কুলাঙ্গারের দল, আজ পর্যন্ত ঐ একই প্রক্রিয়া চালিয়ে আসছে; কেবল ক্ষণিকের হীনস্বার্থ তথা লোভ লালসা চরিতার্থ করার জন্য। মানুষ হয়ে মানুষকে জবাই করে চলছে ধর্ম প্রতিষ্ঠার অযুহাতে, দেবতা তুষ্টির কারণে। সে কেমন নরমাংসভোজি দেবতা যার তাবে পড়ে আছে অবোধ অশিক্ষিত জনগোষ্ঠি? নয় কি তারা প্রথম মানুষ আদমের বংশজাত? অবশ্যই সকলই ঐ একই আদমসূত, যাদের উপর দায়িত্বকর্তব্য রয়েছে নাজাতপ্রাপ্ত ঐশি রূহের দ্বারা পরিচালিত আশির্বাদপুষ্ট সচেতন ব্যক্তিদের। খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ আদম বংশের হারিয়ে যাওয়া পাপাশ্রিত ব্যক্তিদের খোঁজার জন্যই ধরাপৃষ্টে নেমে এসেছেন, এমন চুড়ান্ত মাশুল দিয়েছে যা কখনোই কেউ কল্পনা করতেও সাহস পায় নি। নিজ পূতপবিত্র জীবন করলেন দান, রাজ্যের গুনাহগার সন্তানদের দায়মুক্ত, পাপমুক্ত, কয়েদমুক্ত, দাসত্বমুক্ত করে স্নাতশুভ্র পূতপবিত্র করে দাড় করাবার জন্য যেন তাঁরা পুনরায় সুধীজনের সাথে, খোদার মহতী সমাবেশে হতে পারে সম্মানিত মেহমান, তা মেহমান বলছি কেন, যোগ্য সংসদ বলা হলে অতি উক্তি করা হবে না। কেননা সৃষ্টিলগ্নে তো খোদা এমন প্রত্যয়োক্তি ঘোষণা দিলেন, আমাদের সুরতে আমাদের সাদৃশ্যে, আমাদের সাথে মিল রেখে মানুষ সৃষ্টি করি (পয়দায়েশ ১ : ২৬–২৮)। যদিও আমাদরে ভাগ্যে প্রথম মানুষ আদমকে দেখার সুযোগ ঘটেনি, বলছি, আদমের অবাধ্যতা ও দুষ্ট ইবলিসের কুটচালে প্রতারিত হবার পূর্বের আদমের মহিমার কথা, যেথা নিত্যদিন খোদা ও আদমের মধ্যে চলতো মধুময় বাকচারিতা।
তবে দ্বিতীয় আদম, যিনি সম্পূর্ণ বেগুনাহ জীবন–যাপন করে গেছেন, নিজের জীবন, কর্ম ও বাস্তবধর্মী শিক্ষাকলাপের মাধ্যমে খোদার ঐশি কুদরতের প্রকাশ ঘটিয়েছেন, যা কোনো আদমের পক্ষেই দেখানো সম্ভব ছিল না, কেননা সকলেই আদমের কলুষিত রক্তের ধারক ও বাহক। শরীরের মধ্যে মরণদায়ী বিষ নিয়ে কেউ অন্য ব্যক্তিদের বিষের লাঘব করার ক্ষমতা আদৌ রাখে না, মুক্তিদানের ক্ষমতা তো খোদার নিজের অধিকারের বিষয়। কোনো গুনাহগার অন্য গুনাহগারের জামিন নিতে পারে না। তেমন প্রশ্ন ও সম্ভাবনাও জাগে না। মানব মুক্তির চূড়ান্ত পরিকল্পনা ও সম্পূর্ণ ক্ষমতা কেবল ঐশি কুদরত ও ক্ষমতার উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
পরমকরুনাময় প্রেমের পারাবার খোদা স্বতস্ফুর্ত হয়ে নিজেই অবোধ অবাধ্য সন্তানদের অভিশাপ মুক্ত করার জন্য এক চুড়ান্ত ব্যবস্থা হাতে নিলেন; স্বীয় কালাম ও পাকরূহ জগতে প্রেরণ করলেন মানুষের বেশে, যেন তিনি গোটা বিশে^র পাপের কাফফারা পরিশোধ করার ক্ষমতা রাখে। তিনি মানুষের মুক্তির জন্য, বিকল্প কোরবানির মেষ হিসেবে, নিজেকে দিলেন সলিবে আত্মকোরবানি।
খোদার কালাম ও পাকরূহের মানবরূপ দেখতে পেয়ে আমরা বাতেনি খোদাকে সবিশেষ দেখতে পেলাম। তিনি মৃতকে জীবিত করলেন, পক্ষঘাতগ্রস্থ ব্যক্তিকে চলার গতি দিলেন, অন্ধকে দেখার শক্তি দিলেন, কুদরতিভাবে পানি আগুন রসে পরিণত করে আঙ্গুর রসের ঘাটতি পুরণ করলেন, সার্বিক ঐশি কুদরতের বাস্তবায়ন করলেন মানুষের কল্যাণ সাধনকল্পে। মসিহ নিজেই দাবি করে বলেছেন, যে আমাকে দেখেছে, সে পিতাকেও দেখেছে (ইউহোন্না ১০ : ৩০)। খোদা মানুষকে লক্ষ্য করে বলেছেন, মানুষের জন্য তাঁর রয়েছে একটা উত্তম পরিকল্পনা যা, কেবল কল্যাণ আর কল্যাণপূর্ণ, তাতে অমঙ্গলের কিছুই নেই (যিরিমিয় ২৯ : ১১)।
পাকরূহের ফলগুলো আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই, আর (গালাতীয় ৫ : ২১–২৪) অভিশপ্ত ইবলিসের কর্মকান্ডও রয়েছে আমাদের জানা (গালাতীয় ৫ : ১৯–২১)। এক কথায় খোদার পরিকল্পনা হলো মানুষের কল্যাণ সাধন, আর বিপরীত ক্ষেত্রে অভিশপ্ত ইবলিস রয়েছে সদাব্যস্ত, মানুষকে ধ্বংস বিনাশ করতে। যেমন লেখা আছে, চোর আসে কেবল চুরি, খুন ও নষ্ট করার জন্য, আর মসিহ নিজের প্রাণ দিয়েছেন গোটা বিশ^বাসির পাপের কাফফারা পরিশোধ দেবার জন্য। কতিপয় ব্যক্তি আপন পাপের স্খলনের জন্য বিকল্প কোরবানি দিয়ে থাকে, আর তেমন ক্ষেত্রে শত হলো, কোরবানির পশুটি হতে হেব সম্পূর্ণ নিখুঁত। কোনো খুঁত বিশিষ্ট পশু খুঁত বিশিষ্ট মানুষের ক্ষুত মুক্ত করার ক্ষমতা রাখে ন। তবে বিষয়টি পরিষ্কার হলো, গুনাহগারের বিকল্প কেউ দাড়াতে পারে, তার পক্ষে তার ঋণের বোঝা নিজ কাঁধে তুলে নেবার জন্য, আর সেই একই কাজটি বেগুনাহ মসিহ নিজের নিখুঁত জীবন তথা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রক্তের দ্বারা গুনাহগারের রক্তের দায় চুকিয়ে দিলেন। এবার প্রশ্ন জাগতে পারে, খোদার কাজ আর ইবলিসের কাজ দুই বিপরীত অয়নের হলো কেমন করে? খুনি কাবিল থেকে শুরু করে জগতের বর্তমানকার কাবিলদের সার্বিক কর্মকান্ড দেখার পরেও যদি কেউ প্রশ্ন করে, কোনটি ইবলিসের কাজ আর কোনটি খোদার কাজ, তবে সহজেই বলতে হবে, মানুষের কল্যাণসাধন করা হলো খোদার কাজ, আর মানুষের ক্ষতি সাধন হলো ইবলিসের কাজ। একমাত্র খোদা এবং তিনি যাকে জগতে মানুষের মুক্তির জন্য প্রেরণ করেছেন তাঁর উপর চুড়ান্ত আস্থাবিশ্বাস স্থাপন করাটাই হলো খোদার কাজ (ইউহোন্না ১৭ : ২–৩)।
অন্ধকারে ডুবে থাকা ব্যক্তির অবকাশ রয়েছে আলোর রাজ্যে প্রবেশে লাভের। মসিহ হলেন দুনিয়ার নূর; যারা তাঁকে বিশ্বাস করে হৃদয়াভ্যন্তরে গ্রহণ করলো, তিনি তাদেরকেও দুনিয়ার নূরে পরিণত কররেন, আর তাদের সৎকাজগুলো প্রমাণ করবে তারা যে আসলেই নতুন জন্মপ্রাপ্ত দুনিয়ার নূরে হয়েছে পরিণত (মথি ৫ : ১৪, ১৫)।
আর যাদের হস্ত, মানুষের রক্ত দিয়ে করেছে রঞ্জিত, তাদের পরিচয় সেই লানতী ভ্রাতৃ ঘাতক খুনির মত পরিচিত।
অনেকে বলে বেড়ান, জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, দোটানা অবস্থানে, টানটান জীবন–যাপন করে চলছে। কথাটি একটু বিবেচনা করে দেখলে সহজেই এর জবাব পাওয়া যাবে। হয় জীবন্ত নতুবা মৃত; হয় রাত নতুবা দিন, হয় জোয়ার নতুবা ভাটা, আলো নতুবা অন্ধকার। যিনি আলোর রাজ্যে বিচরণ করেন তিনি তো অন্ধকারের কাজ করে বেড়াতে পারেন না। কালামপাকের আলোকে দেখা যায, আদমের স্খলনের পর আর কোনো ব্যক্তিকেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয় নি যিনি ছিলেন সম্পূর্ণ বেগুনাহ, নিখুঁত। সকলে পাপ করেছে এবং খোদার গৌরব হানি করেছে।
মসিহ অবশ্য এসেছেন গুনাহগারদের পাপের কাফফারা পরিশোধ দেবার জন্য, হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের পিতৃগৃহে ফিরিয়ে নেবার জন্য। তিনি কাউকে কোনোভাবে দোষারোপ করেন নি। তিনি দোষ দেখাতেও আসেন নি। তিনি এসেছেন স্নাতশুভ্র করার নিমিত্তে। তিনি তাই উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন গোটা বিশ্ববাসির প্রতি, “ওহে পরিশ্রান্ত তোমরা ক্লান্ত ও বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছ, তোমরা সবাই আমার কাছে এস; আমি তোমাদের বিশ্রাম দেব” (মথি ১১ : ২৮)।
সমালোচনা করে আমরা কাওকে তাড়িয়ে দিতে পারি না, বরং মসিহের যে মনোভাব ছিল বা আছে সেই একই মনোভাব নিয়ে সমস্ত মানুষকে প্রেমাশ্রিত আহ্বান জানাতে যেন সোচ্চার থাকি। মসিহ স্বীয় দূয়ার রেখেছেন সদা খোলা, আর তা সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। কেননা, তিনি তো কেবল মানুষ সৃষ্টি করেছেন আর তারা হলো খোদার প্রতিচ্ছবি! মানুষ দেখে খোদা দর্শন হবে স্বার্থক। এর বিপরীতে কোনো কথা আমি জানিনা। যারা ব্যাকগ্রাউন্ড খুঁজে বেড়ায় তাদের পরিচয় আমার জানা আছে, আর তা হলো পতিত আদমের ঔরষজাত সন্তান; পতনের পরে কাঁচেরপাত্র স্বাভাবিকভাবে যেমন শতধা হয়ে চারিদিকে ছিটকে পড়ে, আজকের সকল সম্প্রদায় ঐ একই হতভাগ্য আদমের দুর্ভাগা সন্তান–সন্তুতি। মসিহ কিন্তু সব খবর রাখেন। তাইতো তিনি সাহস করে সকলকে একই প্লাটফর্মে সমবেত করার জন্য এতটা চূড়ান্ত মাশুল দান করলেন। তাঁর অবদান কোনো ফালতু কাজে তিনি করেন নি। অবশ্যই তাঁর কোরবানি শতভাগ স্বার্থক হয়েছ- যেকোনো একটি শব্দ যেমন বলয়াকারে চার দিকে ছড়িয়ে পরে, আলোর বিস্তার যেমন চারদিকের সবকিছুর উপর গিয়ে পতিত হয়, একইভাবে ঐশি তনয় গোটা বিশ্ববাসিকে অবমুক্ত করেছেন, তাদের ক্রীত পাপের দায় চিরতরে চুকিয়ে দিয়েছেন, সকলে যাতে উক্ত কোরবানির দ্বারা মুক্ত স্বাধীন নির্দোষ বলে প্রতিপন্ন হতে পারে, সে কারণেই তিনি তাঁর মনোনীত সাহাবীদের এক আজ্ঞা প্রদান করলেন, তার দ্বারা অর্জীত মুক্তি সকলের কাছে পৌছে দেবার জন্য (মথি ২৮ : ১৮–২০)।
প্রিয় পাঠক, আপনি কোন পক্ষে যে অবস্থান করছেন তা সঠিক জানিনা, তবে একটা বিষয় আমার বোধে ধরে আর তা হলো ঐশি রহমতের কিরণ আপনাকেও আলোকিত করে চলছে।
কোনো সদ্য ফোটা নারকেল ফুলে বেছন জন্মায় না, তবে ওটি বেছনের যে পূর্ব শর্ত তা আমি হলফ করে বলতে পারি? খোদা না খাস্তা, ফুলটি যদি অকালে ঝড়ে যায়, তবে নারকেলের কুশি আর সৃষ্টি হলো না, ডাব বা ঝুণা নারকেলের প্রশ্নই জাগে না, বর্তমানকার ঝুণা নারকেলটি, কোনো একসময়ে ফুল বা কুশির আকারে অবস্থান করতো, তা বোধ করি মেনে নিতে কারো আপত্তি থাকবে না। বর্তমানকার যিনি সর্ববরেণ্য পন্ডিত ব্যক্তি, সম্ভবত তাঁর বয়স ৭০/৮০ বৎসর বা তার চেয়ে একটু বেশি হবে, তিনি সকলের কাছে প্রাতঃস্মরণীয় বরেণ্য ব্যক্তি নিশ্চয়। যদি ইতিহাস পাঠে কোনো আপত্তি না থাকে তবে, তেমন ব্যক্তির শিশুকালের জীবনি নিয়ে গবেষণা করে দেখুন। তাঁর জন্মকাহিনী, আর আপনার জন্ম কাহিনীর মধ্যে খুব একটা পার্থক্য থাকার কথা নয়। যতকিছু পার্থক্য তা হলো ফুল থেকে ঝুনা পর্যন্ত যতটুকু যতœ আদরের প্রয়োজন ছিল তেমনটা হয়তো আপনার ক্ষেত্রে, সমভাবে যোগান দেয়া হয় নি। আবার চিত্তচাঞ্চল্যতার কারণে মাথায় রাখা ডিম ভর্তি ঝুড়ি ভুপাতিত হয়ে সবকটা সুযোগের অবশান ঘটেছে। এক কথায় ভাইরাসাক্রান্ত।
প্রত্যেকটি বস্তুর এক একটা নিরুপিত সময় থাকে; ফুল ঝড়ে না গেলে কুশি থাকবে, কুশি আক্রমন মুক্ত যদি থাকে তবে তেমন ফলটি কলায় কলায় বৃদ্ধিলাভ করবে, আর এক সময় তা গাছপাকা উপযুক্ত ফল ও বেছন দুটোই হতে পারবে। নারকেলের ক্ষেত্রে বেছন পেতে অতি যত্নে আদরে রোপন করতে হবে, আর তেলের প্রয়োজন মিটাতে চাইলে যেন তেনভাবে ওটাকে ফাটিয়ে নারকেল বের করতে হবে, পিষ্ট করে ওর মধ্য থেকে শুপ্ত নির্যাস তেলটুকু বের করে নেয়া যাবে।
যেহেতু আমাদরে বেছনের প্রয়োজন, তাই অবশ্যই থাকতে বা রাখতে হবে বৃন্তে যুক্ত, সম্পূর্ণ পরিপক্কতা পর্যন্ত, যেন বৃক্ষ নিজেই তাকে আজ্ঞা করে একটি নতুন চারা বৃক্ষের সৃষ্টি করার জন্য।
প্রিয় পাঠক, খোদার নজরে আপনি অতীব মূল্যবান, খোদার নজরে বলছি এ কারণে, কেননা সকল মানুষকে তিনিই সৃষ্টি করেছেন, তবে মাধ্যম তিনি ব্যবহার করেছেন আর সকলেই লাভ করেছে খোদার সুরত। God Created man in His own image! (Genesis ১ : ২৬–২৮) সময় সুযোগ পেলে পাঠ করে দেখবেন।
আপনি খোদার মনোনীত সন্তান, আপনাকে সাবধানে চলতে হবে ইবলিসের রাজ্যে; গর্জনকারী সিংহের মত সদা ওত পেতে থাকে আপনাকে গ্রাসাচ্ছাদিত করার জন্য, বিনাশ করার জন্য। তবে মাবুদ আপনার আমার চির সহায় (১পিতর ৫ : ৮–৯)।