প্রায়শই শোনা যায় পৌর এলাকায় পানেয় জলের লাইন পয়ঃনিষ্কাশনের লাইনের সাথে এক হয়ে গেছে; ফলে দেখা গেছে জনস্বাস্থের উপর নেমে আসছে মারাত্মক হুমকী। একটি লাইন হলো পরিষ্কার, বিশুদ্ধ পান করার উপযোগী জল সরবরাহ করার জন্য স্থাপিত, আর একটি লাইন বা পাইপ দিয়ে নোংরা জল পরিশোধন করার জন্য স্থাপিত। যেহেতু পৌর এলাকা, সবকিছু যথাযথভাবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়, নতুবা শহুরে অত্যাধুনিক জীবন যাপনের তাৎপর্য থাকলো কোথায়?
তবে ভুলভ্রান্তি তো হতেই পারে, মানুষের কৃত কোনো কাজকর্মই শতভাগ নির্ভুল হবে এমনটা ভেবে বসে থাকা বিজ্ঞজনোচিত হতে পারে না। মানুষের যেমন ভুল হয়ে থাকে আবার অসদুদ্যেশে কিছু করে বসে,ধরা পড়লে নাকে কানে হাত দিয়ে লজ্জা-লাল হতে দেখেছি। আমিও তো একজন মানুষ, লিখে চলছি বলে অতোটা কি শিখতে পারছি বলুন!
তা যে প্রসঙ্গ নিয়ে লিখতে শুরু করলাম, সেক্ষেত্রে আসা যাক। পান করার জল আর ময়লা নিষ্কাশনের জলধারা যখন অজানা মাটির নীচে দুটো পাইপ একাকার হয়ে যায়, তখন ময়লাযুক্ত পানির কোনো সমস্যা না হলেও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয় পান করার জল, উক্ত জল আর নির্ভরযোগ্য বিশুদ্ধ থাকলো না। দূষিত জল পান করার ফলে সমাজে দ্রুত বিস্তার লাভ করে কলেরা, পেটের অসুখ অর্থাৎ জলবাহীত রোগজীবাণু সমাজদেহে ছড়িয়ে পড়ে। তখন জরুরীভাবে অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে মাটি খুড়ে দুটো পাইপ লাইন সম্পূর্ণ আলাদা করে দেয়া, নিরাপদ দুরত্বে পুনরায় স্থাপন করা। যতদিন পর্যন্ত তা স্থাপন করা সম্ভব না হবে, ততদিন জনস্বাস্থ্য থাকবে নানান রোগে আক্রান্ত।
এবার আসুন ধর্ম ও বাণিজ্য নিয়ে আলোকপাত করা যাক। ধর্ম হলো স্নাতশুভ্র হবার মন্ত্রণা, পাপাক্রান্ত ব্যক্তি যাতে সাধুসন্তে হতে পারে পরিণত তেমন পরামর্শ উপদেশ রয়েছে ধর্মের বাণীর মধ্যে। আদম বংশ শুরু থেকেই যেভাবে জটিল কুটিল পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়েছে, তেমন অপঘাত থেকে তাদের অবমুক্ত করার জন্য মানব স্রষ্টা মাবুদ বারবার তাদের হেদায়েত করে ফিরছেন, যেমন কোনো এক কথায় শোনা যায় “আমাদের সরল সহজ পথে পরিচালনা দান কর” বিষয়টি মাবুদের কাছে পেশ করা ভক্তের ফরিয়াদ। ধর্মের বাণী দশ আজ্ঞা বা দশ শরিয়ত তো দশটি যন্ত্র যা দিয়ে মানুষের বর্তমান অবস্থা সহজেই দৃষ্ট হয় (হিজরত ২০ : ১-১৭)। ব্যক্তি যেভাবে অর্ধ:পতিত তা প্রমান করার জন্য উক্ত দশ শরীয়ত কি যথেষ্ট ভূমিকা রাখে না। বিবেকবান ব্যক্তিদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।
খোদা নিজে যেমন পবিত্র, তাঁর সাথে মিলিত হতে চাইলে, তাঁর পূতপবিত্র দরবারে আসেন লাভের বাসনা থাকলে ব্যক্তিকে অবশ্যই কায়মনবাক্যে শতভাগ পূতপবিত্র হতে হবে। কালামপাকে বহুস্থানে পূতপবিত্রতার পক্ষে পুনঃপুনঃ জোরালো তাগিদ দেয়া হয়েছে। মানুষের ধার্মিকতা খোদার কাছে শ্রেফ নোংরা আবর্জনাতুল্য। তাই ধার্মিক ব্যক্তিকে হতে হবে সম্পূর্ণ পূতপবিত্র সম্পূর্ণ বেগুনাহ যেমন শতভাগ বেগুনাহ হলেন খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ, যার জীবনে পাপের ছায়াটুকু পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারে নি। তিনি পূতপবিত্র বাতেনী মাবুদের একক মূর্ত প্রমান। তাকে দেখার মাধ্যমে বাতেনি খোদার বিষয় একটা প্রাঞ্জল ধারনা লাভ করা চলে। কোনো ছলনার কথা পর্যন্ত তাঁর মুখে শোনা যায় নি। কোনো মানুষের কোনো প্রকার ক্ষতি সাধন তিনি ডেকে আনেন নি, বরং তিনি এসেছেন আদমকুলের হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের পিতার ক্রোড়ে ফিরিয়ে দেবার জন্য। তাদের খুঁজে খুঁজে পূতপবিত্র করার জন্য। আর তাই হলো মসিহের একমাত্র দায়িত্ব কর্তব্য; মানুষকে স্নাতশুভ্র মুক্তপাপ করার জন্য তিনি নিজের প্রাণ দিয়েছেন কোরবানি। চূড়ান্ত প্রেমের দৃষ্টান্ত আর কি হতে পারে বলুন!
ভিন্ন পক্ষে বাণিজ্য যে কি বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকে তা বোধ করি ব্যাখ্যা দেবার প্রয়োজন নেই। সমাজ ভেজাল দ্রব্যে সয়লাব। ভেজাল খাবার, ভেজাল ঔষধপথ্য বলুন কোথায় না পাবেন ভেজালের কারবার; ইদানিং রিলিফের চাল চুরি করতে গিয়ে কতগুলো মোহন্ত ধরা পড়েছে, শ্রীঘরের শোভা বৃদ্ধি করছে।
তাই বাণিজ্য আর ধর্ম কোনো অবস্থাতেই এক করে ফেলা চলবে না। যদি বাণিজ্যিক কর্মকান্ড সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ করে ফেলা সম্ভব হয়, আর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্বাধীন করে চালানো হয়, তবে বোধ করি ধর্মাশ্রিত পাপ কর্পূরের মত উবে যাবে নিমিশেই। যিনি ধর্মের প্রচার করবেন, তিনি থাকবেন এক ধর্মপ্রাণ মহান ব্যক্তি, ঐশি মহিমা ঘোষণা দেবার জন্য তার জীবন কর্ম থাকবে জ¦লন্ত দৃষ্টান্ত। বাণিজ্যিক নোংরা হাত দিয়ে যা কিছু স্পর্শ করা হয় তাই হয়ে গেল কলুষিত। যেমন বর্তমানকার করোনা ভাইরাস। যার শরীরে উক্ত ভাইরাস হয়ে আছে উপ্ত, প্রতিটি মুহুর্তে সে তা বিস্তার করে ফিরছে সমাজের আর দশটি লোকের দেহে। পাপাচার তো এমনই একটি বিষয়; কথায় বলে “চোরে চোরে মাসতুত ভাই”।
ধর্মধাম হতে হবে নিজেকে নিবেদনের পাদপীঠ। ব্যক্তি নিজের অক্ষমতা দুর্বলতা খোদার কাছে পেশ করা জন্য উপযুক্ত স্থান। যদি তেমন স্থান বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে পড়ে অথবা আড়তে রূপান্তরিত করা হয় তবে প্রথম উদ্দেশ্য প্রত্যাশা করা হবে নির্বুদ্ধিতা মাত্র।
মানুষ প্রধানতঃ দুটো দেহ নিয়ে আছে অস্তিত্বমান; একটি হলো ভৌতিক দেহ আর একটি হলো রুহানি দেহ। দুটো দেহের জন্যই নিয়মিত খোরাক যোগান দিতে হবে; তবে তেমন খোরাক হলো দ্বিবিধ। মাটির দেহের জন্য চাই মৃত্তিকাজাত উপাদান আর রুহানি দেহের জন্য অবশ্যই খোদার কালাম যা হলো রুহানি খোরাক। কালামপাকে তাই দেখা যায়, মানুষ কেবল রুটিতেই বাঁচে না, খোদার মুখনিসৃত প্রত্যেকটি কালামে ধার্মিক বেঁচে থাকে (মথি ৪ : ৪)।
দেহ এবং রুহ যেমন গুলিয়ে ফেলা সম্ভব নয়, আর তেমন চিন্তা কেবল বাতুলতা মাত্র, ঠিক একইভাবে দেহের খোরাকের সাথে বা দ্বারা রূহের কোনো ক্ষুৎপিপাসা নিবৃত্ত হবার নয়; তেমন প্রশ্নও জাগেনা। রুহানি শক্তি আসে রূহের আগমনে; রূহের উপস্থিতিতে। জাগতিক ব্যক্তি এক্ষেত্রে বহুপূর্বেই হার মেনে বসে আছে। তাছাড়া জাগতিক মানুষ ইনিয়ে বিনিয়ে মুখে একক মাবুদের সেবার কথা ঘোষণা দিলেও আসলে সঠিক পর্যালোচনা করা হলে প্রমান মিলবে, কেবল গ্রহ-নক্ষত্র, দিনপুঞ্জি, চন্দ্র-সুর্যের গতিবিধি নিয়ে থাকে তারা সদা ব্যস্ত; যদিওবা মুখে দাবি করে সর্বশক্তিমান সর্বত্র বিরাজমান অন্তর্যামী চিরঞ্জিব চিরজাগ্রত মাবুদের সেবা করে ফিরছে, তাদের মুখের দাবি আর কার্যপ্রণালী চলে দুটো ভিন্ন পাইপ লাইনে, আবার কখনো কখনো একাকার করেও চলতে আনন্দ পায়।
একজন প্রাণিক মানুষের কাছে রুহানি বিষয় থাকে প্রচ্ছন্ন, থাকে অবগুন্ঠিত। অবশ্য ছানিপড়া ব্যক্তিবর্গ পরিষ্কার দেখতে পায় যখন তাদের চোখের ছানি বা পর্দা কেটে পরিষ্কার করে দেয়া সম্ভব হয়। গুনাহের ছানি কাটার জন্য খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ একক বিজ্ঞ চিকিৎসক হয়ে ধরাপৃষ্টে নেমে এলেন। যতজন পেয়েছে তাঁর পরশ তারা সকলেই হতে পারলো স্নাতশুভ্র পূতপবিত্র একক নতুন সৃষ্টি। তাদের প্রদীপ আজ দেদীপ্যমান, নিজেরা হতে পেরেছে আলোকিত আর চারতরফ তাদের আলোর বন্যায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। মসিহ তাই যথার্থ দাবি করেছেন, তিনি দুনিয়ার নূর, আর যারাই হয়ে গেল তাঁর সাথে যুক্ত তারাও পরিণত হলো জগতের নূরে। একটি জ¦লন্ত প্রদীপ কেউ ঝুড়ির নীচে রাখে না, তাকে এমন স্থানে স্থাপন করা হয়, যেস্থান থেকে সে শততঃ আলো ছড়াতে পারে, বাণিজ্যের ক্লেদ কালিম তাকে আর অবগুণ্ঠিত করে রাখার ক্ষমতা রাখে না।
খোলসভেদ করে বেরিয়ে আসা সদ্যজাত ছানাটি আর কখনোই ডিমের মধ্যে পুষে রাখা সম্ভব নয়। ক্ষণকালের জন্য তা শুপ্তাবস্থায় উক্ত খোলসাবদ্ধ ছিল, কিন্তু সদাসর্বদা তার মধ্যে জীবন ছিল। আর যেক্ষেত্রে জীবনের উপচয় রয়েছে বর্তমান মৃত্যু হেথা প্রবেশাধিকার পায় না। মৃতের মধ্যে জীবন বা জীবন্তকে খোজা হবে ল্যাংড়া খোঁজাদের কাজ। জীবন খুঁজতে হবে জীবনের মধ্যে! খোদা হলেন অনন্ত জীবনের মালিক আর খোদার জীবন্ত কালাম, মানবরূপে আগত ঈসা মসিহ সেই অনন্ত জীবন, জনে জনে বিতরণ করার জন্যই এসেছেন, তাই তো তাঁর যথার্থ দাবি, জীবন ও জীবনের উপচয় ঘটাতে ধরাপৃষ্ঠে হয়েছে তার আবির্ভাব!
যেকোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠাকল্পে দুর্ভেদ্ধ পাহাড়সম সমস্যা দেখা দেয় যখন বিপরীতধর্মী লক্ষ্যউদ্দেশ্য লুকিয়ে লুকিয়ে আদর্শের নামে ঢুকে পড়ে।
চলার পথে ব্যক্তি অবশ্যই থাকে নিবেদিত! নতুন কিছু আবিষ্কার করার জন্য তাকে অনেকগুলো ধকল পোহাতে হয়। কিন্তু কাঙ্খিত বস্তু যখন একবার হয়ে গেল আবিষ্কৃত তারপর সকলের চলার পথ সহজ ও মসৃণ হতে থাকে।
যেমন লিভারপুল থেকে ভারতে জলযানে আসতে হলে দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরিপ ঘুরে আসতে হতো; সময় লাগতো অনেক বেশি, আর ঐ পথটি ছিল বিপদজনকও বটে। গর্জনশীল চল্লিসা এমন একটি মেরিণ পথ ছিল যা ছিল মারাত্মক ঝুকিপূর্ন। কিন্তু মিশরের মধ্য দিয়ে সুয়েজ খাল কাটার ফলে সময় ও ঝুকি উভয়ই কমে যায়। আপনি সহজ পথটি যখন একবার জানতে পারলেন, তার পর থেকে ঘুর পথে চলবেন কেন।
আপনি কার এবাদতে মশগুল থাকেন? নিশ্চয়ই কোনো অস্তগামী সূর্যের বা চন্দ্রের অর্চনা করা বিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে মানায় না। মাবুদ কখনোই ঘুমিয়ে পড়েন না, এমন কি তন্দ্রাও যান না। চিরঞ্জিব চির জাগ্রত মাবুদ আপনার প্রতি থাকেন সদা নেবাগান, যত্নশীল। তাকে অর্চনা করার জন্য কে সময় নির্ঘন্ট সৃষ্টি করে দিল, সে বিষয়ে আপনি ওয়াকিবহাল আছেন কি? থাকলে ভাল হতো! কোনো প্রতারক মুনাফাখোর সুযোগ পেত না আপনার কষ্টার্জিত ঘাম ঝরানো রোজগারে ভাগ বসাবার।
মাবুদ অতীব সহজলভ্য, আপনার হৃদয়জুড়ে শততঃ বাস করার প্রবল বাসনা পোষণ করেন। তিনি আপন সুরতে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন, তা কি আপনি জানেন? আপনাকে নিয়ে তাঁর যে সুমহান পরিকল্পনা রয়েছে তা কেবল কল্যানকর বৈ অকল্যানের কিছুই নেই।
তবে ইবলিস হলো আপনার চরম দুষমন, দুষমনি করে প্রথম নরনারী বিভ্রান্ত বিদ্রোহী করে তুলেছিল। মাবুদ পুনরায় মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়াপরবশ হলেন, মানুষ বাঁচাতে তিনি নিজেই এক অভিনব উপায় জগতে প্রেরণ করলেন, যিনি হলেন সম্পূর্ণ বেগুনাহ একক ব্যক্তিত্ব, তিনি জগতে এলেন খোদার জীবন্ত কর্মক্ষম কালাম ও পাকরূহ, মানবরূপ ধারণ করে হলেন জগতে আবির্ভূত। তাঁকে ঐশি মেষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, কেননা মানুষের পাপের প্রায়শ্চিত্ত শোধ দেবার জন্য তিনি নিজেকে কোরবানি করলেন মর্মবিদারক সলিবে। গুনাহগারদের পাপের বোঝা স্বীয় স্বন্ধে নিয়ে আত্মাহুতি দিলেন নিজের প্রাণ; ফলে বিশ্বাসহেুত গুনাহগার বেঁচে গলে, মুক্তি পেল পাপ অপরাধের কবল থেকে। আপনার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিলেন শতত জাগ্রত থাকার, নিয়ত প্রার্থনা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করার কেবল তারই মহিমাপূর্ণ দরবার।
তবে ভুলভ্রান্তি তো হতেই পারে, মানুষের কৃত কোনো কাজকর্মই শতভাগ নির্ভুল হবে এমনটা ভেবে বসে থাকা বিজ্ঞজনোচিত হতে পারে না। মানুষের যেমন ভুল হয়ে থাকে আবার অসদুদ্যেশে কিছু করে বসে,ধরা পড়লে নাকে কানে হাত দিয়ে লজ্জা-লাল হতে দেখেছি। আমিও তো একজন মানুষ, লিখে চলছি বলে অতোটা কি শিখতে পারছি বলুন!
তা যে প্রসঙ্গ নিয়ে লিখতে শুরু করলাম, সেক্ষেত্রে আসা যাক। পান করার জল আর ময়লা নিষ্কাশনের জলধারা যখন অজানা মাটির নীচে দুটো পাইপ একাকার হয়ে যায়, তখন ময়লাযুক্ত পানির কোনো সমস্যা না হলেও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয় পান করার জল, উক্ত জল আর নির্ভরযোগ্য বিশুদ্ধ থাকলো না। দূষিত জল পান করার ফলে সমাজে দ্রুত বিস্তার লাভ করে কলেরা, পেটের অসুখ অর্থাৎ জলবাহীত রোগজীবাণু সমাজদেহে ছড়িয়ে পড়ে। তখন জরুরীভাবে অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে মাটি খুড়ে দুটো পাইপ লাইন সম্পূর্ণ আলাদা করে দেয়া, নিরাপদ দুরত্বে পুনরায় স্থাপন করা। যতদিন পর্যন্ত তা স্থাপন করা সম্ভব না হবে, ততদিন জনস্বাস্থ্য থাকবে নানান রোগে আক্রান্ত।
এবার আসুন ধর্ম ও বাণিজ্য নিয়ে আলোকপাত করা যাক। ধর্ম হলো স্নাতশুভ্র হবার মন্ত্রণা, পাপাক্রান্ত ব্যক্তি যাতে সাধুসন্তে হতে পারে পরিণত তেমন পরামর্শ উপদেশ রয়েছে ধর্মের বাণীর মধ্যে। আদম বংশ শুরু থেকেই যেভাবে জটিল কুটিল পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়েছে, তেমন অপঘাত থেকে তাদের অবমুক্ত করার জন্য মানব স্রষ্টা মাবুদ বারবার তাদের হেদায়েত করে ফিরছেন, যেমন কোনো এক কথায় শোনা যায় “আমাদের সরল সহজ পথে পরিচালনা দান কর” বিষয়টি মাবুদের কাছে পেশ করা ভক্তের ফরিয়াদ। ধর্মের বাণী দশ আজ্ঞা বা দশ শরিয়ত তো দশটি যন্ত্র যা দিয়ে মানুষের বর্তমান অবস্থা সহজেই দৃষ্ট হয় (হিজরত ২০ : ১-১৭)। ব্যক্তি যেভাবে অর্ধ:পতিত তা প্রমান করার জন্য উক্ত দশ শরীয়ত কি যথেষ্ট ভূমিকা রাখে না। বিবেকবান ব্যক্তিদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।
খোদা নিজে যেমন পবিত্র, তাঁর সাথে মিলিত হতে চাইলে, তাঁর পূতপবিত্র দরবারে আসেন লাভের বাসনা থাকলে ব্যক্তিকে অবশ্যই কায়মনবাক্যে শতভাগ পূতপবিত্র হতে হবে। কালামপাকে বহুস্থানে পূতপবিত্রতার পক্ষে পুনঃপুনঃ জোরালো তাগিদ দেয়া হয়েছে। মানুষের ধার্মিকতা খোদার কাছে শ্রেফ নোংরা আবর্জনাতুল্য। তাই ধার্মিক ব্যক্তিকে হতে হবে সম্পূর্ণ পূতপবিত্র সম্পূর্ণ বেগুনাহ যেমন শতভাগ বেগুনাহ হলেন খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ, যার জীবনে পাপের ছায়াটুকু পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারে নি। তিনি পূতপবিত্র বাতেনী মাবুদের একক মূর্ত প্রমান। তাকে দেখার মাধ্যমে বাতেনি খোদার বিষয় একটা প্রাঞ্জল ধারনা লাভ করা চলে। কোনো ছলনার কথা পর্যন্ত তাঁর মুখে শোনা যায় নি। কোনো মানুষের কোনো প্রকার ক্ষতি সাধন তিনি ডেকে আনেন নি, বরং তিনি এসেছেন আদমকুলের হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের পিতার ক্রোড়ে ফিরিয়ে দেবার জন্য। তাদের খুঁজে খুঁজে পূতপবিত্র করার জন্য। আর তাই হলো মসিহের একমাত্র দায়িত্ব কর্তব্য; মানুষকে স্নাতশুভ্র মুক্তপাপ করার জন্য তিনি নিজের প্রাণ দিয়েছেন কোরবানি। চূড়ান্ত প্রেমের দৃষ্টান্ত আর কি হতে পারে বলুন!
ভিন্ন পক্ষে বাণিজ্য যে কি বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকে তা বোধ করি ব্যাখ্যা দেবার প্রয়োজন নেই। সমাজ ভেজাল দ্রব্যে সয়লাব। ভেজাল খাবার, ভেজাল ঔষধপথ্য বলুন কোথায় না পাবেন ভেজালের কারবার; ইদানিং রিলিফের চাল চুরি করতে গিয়ে কতগুলো মোহন্ত ধরা পড়েছে, শ্রীঘরের শোভা বৃদ্ধি করছে।
তাই বাণিজ্য আর ধর্ম কোনো অবস্থাতেই এক করে ফেলা চলবে না। যদি বাণিজ্যিক কর্মকান্ড সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ করে ফেলা সম্ভব হয়, আর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্বাধীন করে চালানো হয়, তবে বোধ করি ধর্মাশ্রিত পাপ কর্পূরের মত উবে যাবে নিমিশেই। যিনি ধর্মের প্রচার করবেন, তিনি থাকবেন এক ধর্মপ্রাণ মহান ব্যক্তি, ঐশি মহিমা ঘোষণা দেবার জন্য তার জীবন কর্ম থাকবে জ¦লন্ত দৃষ্টান্ত। বাণিজ্যিক নোংরা হাত দিয়ে যা কিছু স্পর্শ করা হয় তাই হয়ে গেল কলুষিত। যেমন বর্তমানকার করোনা ভাইরাস। যার শরীরে উক্ত ভাইরাস হয়ে আছে উপ্ত, প্রতিটি মুহুর্তে সে তা বিস্তার করে ফিরছে সমাজের আর দশটি লোকের দেহে। পাপাচার তো এমনই একটি বিষয়; কথায় বলে “চোরে চোরে মাসতুত ভাই”।
ধর্মধাম হতে হবে নিজেকে নিবেদনের পাদপীঠ। ব্যক্তি নিজের অক্ষমতা দুর্বলতা খোদার কাছে পেশ করা জন্য উপযুক্ত স্থান। যদি তেমন স্থান বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে পড়ে অথবা আড়তে রূপান্তরিত করা হয় তবে প্রথম উদ্দেশ্য প্রত্যাশা করা হবে নির্বুদ্ধিতা মাত্র।
মানুষ প্রধানতঃ দুটো দেহ নিয়ে আছে অস্তিত্বমান; একটি হলো ভৌতিক দেহ আর একটি হলো রুহানি দেহ। দুটো দেহের জন্যই নিয়মিত খোরাক যোগান দিতে হবে; তবে তেমন খোরাক হলো দ্বিবিধ। মাটির দেহের জন্য চাই মৃত্তিকাজাত উপাদান আর রুহানি দেহের জন্য অবশ্যই খোদার কালাম যা হলো রুহানি খোরাক। কালামপাকে তাই দেখা যায়, মানুষ কেবল রুটিতেই বাঁচে না, খোদার মুখনিসৃত প্রত্যেকটি কালামে ধার্মিক বেঁচে থাকে (মথি ৪ : ৪)।
দেহ এবং রুহ যেমন গুলিয়ে ফেলা সম্ভব নয়, আর তেমন চিন্তা কেবল বাতুলতা মাত্র, ঠিক একইভাবে দেহের খোরাকের সাথে বা দ্বারা রূহের কোনো ক্ষুৎপিপাসা নিবৃত্ত হবার নয়; তেমন প্রশ্নও জাগেনা। রুহানি শক্তি আসে রূহের আগমনে; রূহের উপস্থিতিতে। জাগতিক ব্যক্তি এক্ষেত্রে বহুপূর্বেই হার মেনে বসে আছে। তাছাড়া জাগতিক মানুষ ইনিয়ে বিনিয়ে মুখে একক মাবুদের সেবার কথা ঘোষণা দিলেও আসলে সঠিক পর্যালোচনা করা হলে প্রমান মিলবে, কেবল গ্রহ-নক্ষত্র, দিনপুঞ্জি, চন্দ্র-সুর্যের গতিবিধি নিয়ে থাকে তারা সদা ব্যস্ত; যদিওবা মুখে দাবি করে সর্বশক্তিমান সর্বত্র বিরাজমান অন্তর্যামী চিরঞ্জিব চিরজাগ্রত মাবুদের সেবা করে ফিরছে, তাদের মুখের দাবি আর কার্যপ্রণালী চলে দুটো ভিন্ন পাইপ লাইনে, আবার কখনো কখনো একাকার করেও চলতে আনন্দ পায়।
একজন প্রাণিক মানুষের কাছে রুহানি বিষয় থাকে প্রচ্ছন্ন, থাকে অবগুন্ঠিত। অবশ্য ছানিপড়া ব্যক্তিবর্গ পরিষ্কার দেখতে পায় যখন তাদের চোখের ছানি বা পর্দা কেটে পরিষ্কার করে দেয়া সম্ভব হয়। গুনাহের ছানি কাটার জন্য খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ একক বিজ্ঞ চিকিৎসক হয়ে ধরাপৃষ্টে নেমে এলেন। যতজন পেয়েছে তাঁর পরশ তারা সকলেই হতে পারলো স্নাতশুভ্র পূতপবিত্র একক নতুন সৃষ্টি। তাদের প্রদীপ আজ দেদীপ্যমান, নিজেরা হতে পেরেছে আলোকিত আর চারতরফ তাদের আলোর বন্যায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। মসিহ তাই যথার্থ দাবি করেছেন, তিনি দুনিয়ার নূর, আর যারাই হয়ে গেল তাঁর সাথে যুক্ত তারাও পরিণত হলো জগতের নূরে। একটি জ¦লন্ত প্রদীপ কেউ ঝুড়ির নীচে রাখে না, তাকে এমন স্থানে স্থাপন করা হয়, যেস্থান থেকে সে শততঃ আলো ছড়াতে পারে, বাণিজ্যের ক্লেদ কালিম তাকে আর অবগুণ্ঠিত করে রাখার ক্ষমতা রাখে না।
খোলসভেদ করে বেরিয়ে আসা সদ্যজাত ছানাটি আর কখনোই ডিমের মধ্যে পুষে রাখা সম্ভব নয়। ক্ষণকালের জন্য তা শুপ্তাবস্থায় উক্ত খোলসাবদ্ধ ছিল, কিন্তু সদাসর্বদা তার মধ্যে জীবন ছিল। আর যেক্ষেত্রে জীবনের উপচয় রয়েছে বর্তমান মৃত্যু হেথা প্রবেশাধিকার পায় না। মৃতের মধ্যে জীবন বা জীবন্তকে খোজা হবে ল্যাংড়া খোঁজাদের কাজ। জীবন খুঁজতে হবে জীবনের মধ্যে! খোদা হলেন অনন্ত জীবনের মালিক আর খোদার জীবন্ত কালাম, মানবরূপে আগত ঈসা মসিহ সেই অনন্ত জীবন, জনে জনে বিতরণ করার জন্যই এসেছেন, তাই তো তাঁর যথার্থ দাবি, জীবন ও জীবনের উপচয় ঘটাতে ধরাপৃষ্ঠে হয়েছে তার আবির্ভাব!
যেকোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠাকল্পে দুর্ভেদ্ধ পাহাড়সম সমস্যা দেখা দেয় যখন বিপরীতধর্মী লক্ষ্যউদ্দেশ্য লুকিয়ে লুকিয়ে আদর্শের নামে ঢুকে পড়ে।
চলার পথে ব্যক্তি অবশ্যই থাকে নিবেদিত! নতুন কিছু আবিষ্কার করার জন্য তাকে অনেকগুলো ধকল পোহাতে হয়। কিন্তু কাঙ্খিত বস্তু যখন একবার হয়ে গেল আবিষ্কৃত তারপর সকলের চলার পথ সহজ ও মসৃণ হতে থাকে।
যেমন লিভারপুল থেকে ভারতে জলযানে আসতে হলে দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরিপ ঘুরে আসতে হতো; সময় লাগতো অনেক বেশি, আর ঐ পথটি ছিল বিপদজনকও বটে। গর্জনশীল চল্লিসা এমন একটি মেরিণ পথ ছিল যা ছিল মারাত্মক ঝুকিপূর্ন। কিন্তু মিশরের মধ্য দিয়ে সুয়েজ খাল কাটার ফলে সময় ও ঝুকি উভয়ই কমে যায়। আপনি সহজ পথটি যখন একবার জানতে পারলেন, তার পর থেকে ঘুর পথে চলবেন কেন।
আপনি কার এবাদতে মশগুল থাকেন? নিশ্চয়ই কোনো অস্তগামী সূর্যের বা চন্দ্রের অর্চনা করা বিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে মানায় না। মাবুদ কখনোই ঘুমিয়ে পড়েন না, এমন কি তন্দ্রাও যান না। চিরঞ্জিব চির জাগ্রত মাবুদ আপনার প্রতি থাকেন সদা নেবাগান, যত্নশীল। তাকে অর্চনা করার জন্য কে সময় নির্ঘন্ট সৃষ্টি করে দিল, সে বিষয়ে আপনি ওয়াকিবহাল আছেন কি? থাকলে ভাল হতো! কোনো প্রতারক মুনাফাখোর সুযোগ পেত না আপনার কষ্টার্জিত ঘাম ঝরানো রোজগারে ভাগ বসাবার।
মাবুদ অতীব সহজলভ্য, আপনার হৃদয়জুড়ে শততঃ বাস করার প্রবল বাসনা পোষণ করেন। তিনি আপন সুরতে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন, তা কি আপনি জানেন? আপনাকে নিয়ে তাঁর যে সুমহান পরিকল্পনা রয়েছে তা কেবল কল্যানকর বৈ অকল্যানের কিছুই নেই।
তবে ইবলিস হলো আপনার চরম দুষমন, দুষমনি করে প্রথম নরনারী বিভ্রান্ত বিদ্রোহী করে তুলেছিল। মাবুদ পুনরায় মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়াপরবশ হলেন, মানুষ বাঁচাতে তিনি নিজেই এক অভিনব উপায় জগতে প্রেরণ করলেন, যিনি হলেন সম্পূর্ণ বেগুনাহ একক ব্যক্তিত্ব, তিনি জগতে এলেন খোদার জীবন্ত কর্মক্ষম কালাম ও পাকরূহ, মানবরূপ ধারণ করে হলেন জগতে আবির্ভূত। তাঁকে ঐশি মেষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, কেননা মানুষের পাপের প্রায়শ্চিত্ত শোধ দেবার জন্য তিনি নিজেকে কোরবানি করলেন মর্মবিদারক সলিবে। গুনাহগারদের পাপের বোঝা স্বীয় স্বন্ধে নিয়ে আত্মাহুতি দিলেন নিজের প্রাণ; ফলে বিশ্বাসহেুত গুনাহগার বেঁচে গলে, মুক্তি পেল পাপ অপরাধের কবল থেকে। আপনার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিলেন শতত জাগ্রত থাকার, নিয়ত প্রার্থনা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করার কেবল তারই মহিমাপূর্ণ দরবার।