ভিডিও দেখেছি কৈলাশ ভ্রমণের। মনে হলো একটি জীবন্ত চিত্র ধারণ করা। প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য, যার চোখ আছে সেই দর্শনে হবে মুগ্ধ! কৈলাশ পর্যন্ত পৌঁছা কল্পনার জগতে অতি সহজ হলেও বাস্তবে দেহ স্বরূপ বিশাল বোঝা নিয়ে তার পাদপ্রান্তে পৌঁছাতে ভারি ক্লান্তি কর বিষয়, যা স্বশরীরে যারা ভ্রমণ করেন, তাদের মুখ দিয়ে শুনে নিলে প্রকৃত বাস্তবতা জানা যাবে।
আগেই বলেছি, আমি একটি ভিডিও এর মাধ্যমে দেখেছি, তাতে আমার ভাষা ফুরিয়ে গেছে কৈলাশের অপরূপ দৃশ্যাবলির বর্ণনা দেবার জন্য।
সাথে রয়েছে মানস সরোবর, সত্যি কথা বলতে, ইতোপূর্বে মানশ সরোবরের বিষয়ে আমার ধারণা ছিল; হয়তো ওটি কোনো কাল্পনিক রাজ্যের ফসল কিনা; তা ভিডিওটি দেখার পরে আমার জমাটবাধা পুরোনো ভ্রান্তি মুহুর্তেই কেটে গেছে, হীমালয় যেমন বাস্তবতা, একইভাবে মানস সরোবর তদ্রুপ প্রকৃতির বাস্তব সৃষ্টি। খোদার পরিকল্পনার বিষয় আমি আর কতটা বুঝি; আমার তো তেমন প্রজ্ঞা অভিজ্ঞতা নেই সৃষ্টির বিষয়ে জ্ঞান লাভ করা ও দান করার। পরিষ্কার মিঠা পানি প্রচুর পরিমানে রয়েছে হেথা (সরোবরে) সংরক্ষিত। যদিও গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, অলকানন্দা, রামগঙ্গা, কালি, যমুনা, গোমতি, ঘাগড়া, গন্দক, কাশি তার শাখা উপশাখা দিয়ে দিন রাত জল গড়িয়ে দিচ্ছে সাগরের পানে, তথাপি জলের কোনো ঘাটতি নেই নদ-নদীর অববাহিকা বেয়ে জল গড়িয়ে চলার।
কৈলাশ দেখে মনে হবে, মানুষের হাতে নিজেদের চাহিদা মোতাবেক বিশালকার একটি গম্বুজ মাত্র, তবে ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায়। সৌরাকরের পরশে সোনালী রং ধারণ করে, মেঘের আড়ালে লাজবতী কনের মত নিজেকে ঘোমটার আবরনে লুকায়। মেঘমুক্ত আকাশে কৈলাশের মোহনীয় রূপ-সৌন্দর্য ষোড়শীবালার মত মনে হবে। মানস সরোবরে দস্তুরমত ঢেউ খেলানো উপসাগর, নীল প্রশান্ত জলের অনন্তকালের চাহিদা মেটাবার নিশ্চয়তা, যা প্রাণীজগতের জন্য খোদা সৃষ্টি করে রেখেছেন। পাহাড়ের গা বেয়ে ক্রমে ক্রমে উপরে ওঠা অতীব দুরুহ বিষয়। সবকিছু সুন্দরের মধ্যে অসুন্দর হলো, কতিপয় ধোকাবাজ ব্যক্তি মানুষকে নিয়ত ধোকা দিয়ে ফিরছে নিজেদের পকেট পূর্তীর জন্য,পার্বন করিয়ে কিছু ফাও উপার্জন করে যাচ্ছে। যে প্রবণতা ধর্ম ব্যবসায়ী সকলেই করে থাকে। জলের কথাই ধরুন আর ভাষা পরিভাষা আপনি যতই পরিবর্তন করুন না কেন, উক্ত পদার্থের কোনো পরিবর্তন হতে পারে কি?
বলুন, কে আগে সৃষ্টি হয়েছে, বস্তুজগত না ভাষা? আর একটি প্রশ্ন, কে বস্তুজগত সৃষ্টি করেছে? বস্তুজগত হলো খোদার হাতে, খোদার দ্বারা সৃষ্টি, আর ভাষা হলো মানুষের দেয়া কতকগুলো উপাধি বাচনভঙ্গি যা বস্তুকে খুঁজে পেতে সহজ হয়। ভাষার কোনো প্রভাব বস্তুজগতের উপর পড়তে পারে না, বরং ভাষা ও উপাধি নির্ণয় করা হয় বস্তুকে উপযোগ্য করার নিমিত্তে।
কৈলাশ হলো একটি পর্বতমালা যা বৃহত্তর হীমালয় পর্বতের বংশধর। হীমালয় পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো এভারেষ্ট, কেবল একটি শৃঙ্গ নিয়েই তা দাঁড়িয়ে আছে তেমন ধারণা মনে করা ঠিক হবে না, অনেকগুলো ছোট, মাঝারি গীরি শৃঙ্গ নিয়ে তবে বিশ্বের উপর রাজত্ব করে ফিরছে যুগকলাপ ধরে। তা কৈলাশ এমন এক অবস্থানে রয়েছে অবস্থিত যার উপর আরোহন করা সম্পূর্ণ অসম্ভবই হয়ে আছে। আমরা বলতে পারি পৃথিবীর বহু স্থান রয়েছে এমন অনধিগম্য যেথা মানুষের পদচিহ্ন অদ্যাবধি আঁকা সম্ভবপর হয়ে ওঠে নি। সাগরের অতল গহ্বর আজ পর্যন্ত রয়েছে অজেয়। তাই যিনি এই সকল স্থান সৃষ্টি করেছেন তিনিই হলেন মহা কুশলী। সালাম জানাতে হবে তাকে। সুন্দর পত্র পেয়ে ধন্যবাদ দিতে হবে লেখককে, কোনোমতেই সেই কলমটাকে নয়, যে কলমটি দিয়ে তিনি পত্র লিখেছেন।
খোদার মহিমা প্রকাশ পাচ্ছে আকাশে বাতাসে অন্তরীক্ষে; নতুবা আমাদের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব হতো না। সেই কৈলাশের কথায় আসা যাক, অত উঁচুতে উঠতে গিয়ে জীবনদায়ী অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়, যে কারণে অক্সিজেনের অভাবে পর্বতারোহী মারাও যেতে পারে।
মানুষ সৃষ্টি করে খোদা তাকে অনেক অধিকার দিয়েছেন; গোটা বিশ্বের উপর একচ্ছত্র অধিগত্য তুলে দিয়েছেন এই মানুষের হাতে; রহস্য হলো, মানুষ যে অদৃশ্য খোদার দৃশ্যমান প্রতিনিধি। খোদার রূহানী গুনাবলি কেবল মানুষ বাস্তবায়ন করবে যা হলো খোদার সুমহান পরিকল্পনা (প্রেরিত ৪:৩০, ৫:১৬, মথি ১৭: ২০)।
আমরা কোনো পাথরের কাছে মাথা নত করতে পারি না, তেমন চর্চা করতে দেখা যায় কতিপয় অজ্ঞ ব্যক্তিদের দ্বারা। আমাদের মাবুদ প্রেমের মাবুদ, তবে অদৃশ্য এক রূহানী সত্তা, তাঁকে দেখতে হলে বিশ্বাসের চোখ অর্থাৎ হৃদয়ের চোখ দিয়ে দেখতে হবে, আর তাকে সমাসীন করতে হবে হৃদয়াভ্যন্তরে, যেমন বলা হয়ে থাকে মানুষের হৃদয় হলো খোদার আবাস গৃহ (ইউহোন্না ১৪ অধ্যায় ২১, ২৬ ও ১৩ অধ্যায় ৩৪ পদ)।
আসুন এবার মৌলিক আলোচনায় ডুবে যাই। খোদা বিশ্বচরাচর সৃষ্টি করেছেন, মানুষকে দায়িত্ব দিয়েছেন গোটা বিশ্ব চষে বেড়াবার। মানুষের কল্যাণে খোদার সৃষ্টি হবে ব্যবহৃত, যা হলো খোদার পরিকল্পনা (পয়দায়েশ ১ অধ্যায় ২৬ থেকে ২৮ পদে যা পরিষ্কারভাবে রয়েছে বর্ণীত)
খোদা পানি সৃষ্টি করেছেন, যা ভূমি আর্দ্র রাখবে, উর্বরা শক্তি বাড়াবে এবং নোংরা বস্তু অপসারণ করে নিয়ে যাবে নদ-নদী বাহিত হয়ে। পানির আর এক নাম জীবন, কেননা পানি ব্যতীত কোনো প্রাণ বাঁচতে পারে না। খোদা প্রথম মানুষ আদমকে বস্তুজগতের নাম দিতে বলেছেন, কেননা তিনি এবং তাঁর বংশধর তা ব্যবহার করবেন বিধায়। তাই আজকে যত যা কিছু দেখা যায় তা মানুষের দেয়া নাম নিয়ে হচ্ছে পরিচিত। মনে রাখতে হবে বস্তুজগত কোনো মানুষের দ্বারা সৃষ্ট নয়, সে কাজ একমাত্র মহান খোদার কাজ, মানুষ কেবল এর উপযোগ সৃষ্টি করে বা নষ্ট করে মাত্র। নদ-নদীর নাম দিয়েছে মানুষ। অজ্ঞতাহেতু আজ আমরা পাথর, জলধারা অতিকায় মহীরূহ এমন কি অতিকায় প্রাণী দেখে প্রণাম করে থাকি যা হলো ভ্রান্তির শিকার। অবশ্য কতিপয় দুষ্ট লোক মানুষকে বিভ্রান্ত করে চলছে নিজেদের জীবিকা সংগ্রহের জন্য। ধর্ম কোনো ব্যবসায়ী পুজি হতে পারে না, তাছাড়া একজন ধার্মিক ব্যক্তি যেন একটি প্রজ্জ্বলিত মোম যার চারপাশ থাকবে আলোয় পরিপূর্ণ। মানুষ অন্ধকার থেকে আলোর পথে উত্তরণের প্রেরণা লাভ করে থাকে তেমন চেতনাদৃপ্ত সহজসরল মানুষ দেখে।
খোদা মানুষকে দোষী প্রমাণ করার জন্য কোনো মন্ত্রণা ঘোষণা করেন নি বরং মানুষ যেন তাঁর কাছে ফিরে আসে তেমন সহজ সরল নির্দেশনা দিয়েছেন ও বাস্তব ব্যবস্থা স্থাপন করেছেন যা আপনার আমার সকলের হাতের কাছে সহজলভ্য; দোড়গোড়ায় দাড়িয়ে করাঘাত করে ফিরছেন। কেবল বিশ্বাসপূর্বক স্বীয় দরজা খুলে দিন, নিজেকে এক নতুন সৃষ্টি হবার সুযোগ দিন।