মানুষ বাঁচে বর্তমান নিয়ে! যে অতীতের দিনগুলো আজ বিগত, যা হতে পারে আলোক ঝলমল অথবা শোকতাপ জড়া ব্যধিগ্রস্থ; হোক না সোনার চামচ দিয়ে মুখে মধু ঢেলে দেয়া হয়েছিল জন্মলগ্নে। মানমর্যাদা শান সত্তকত যতই থাকনা, তা বিশ্ব জোড়া, অথবা নেহায়েত পর্ণ কুটিরে জন্ম; উত্তম অধম সবটাই আজ চলে গেছে না-ফেরার দেশে, আমাদের দেখতে হবে, বর্তমানকার অবস্থান, আর তা নিয়েই তৃপ্ত থাকতে হবে, রচনা করতে হবে ঐশি রাজ্য, যেক্ষেত্রে মাবুদ নিজেই ওয়াদা করেছেন, আমাদরে কল্যাণ ছাড়া অকল্যাণ নিয়ে তিনি ভাবেন না (যিরিমিয়া ২৯ : ১১)।
মানুষ কালো শক্তির অধিনে পড়েছে বাধা। পতিত অতীতকে যেন কিছুতেই আর ভোলা যায় না। কলমীলতায় ভরা জমিতে দ্রæত ছুটতে গিয়ে বারবার পা জড়িয়ে যায়, কলমী লতায়, গতিরুদ্ধ হয়, স্বাভাবিক গতি আর উঠানো সম্ভব হয়ে ওঠে না, তেমন ত্রিশঙ্কু অবস্থায় কোনোক্রমেই আমরা দিশা ও গতি ঠিক রাখতে পারছি না; একটা কিছু উপায় আমাদের অবশ্যই বের করতে হবে। মসিহি জামাতের পথ চলা শুরু হয়েছে কেবল বিশ্বাসকে নির্ভর করে। চলতে চলতে আজ অনেক কিছু শিখেছি; তাই বলে সবকিছুই যে শেখা হয়ে গেছে তা বলি কোন সুবাদে। মার্ক লিখিত সুখবরে যেমন লেখা রয়েছে খোদার রাজ্য নিকটে এসেছে; খোদার রাজ্য অর্থাৎ খোদার নিরঙ্কুষ সত্য তা হলো মানবরূপে আর্বিভুত পাককালাম ও পাকরূহ খোদাবন্দ ঈসা মসিহ (মার্ক এক অধ্যায় পনের পদ)
আমাদের চলার পথ অনেক বাকী পড়ে আছে! মহামতি দাউদের ভাষায় বলতে হবে, মাবুদ আমাকে ¯œাত করো, শুভ্র করো, ভিতর বাহির পরিষ্কার করো, কোথাও যেন কোনো ভুতের ছিটা, নোংরা দাগ, পুরানো পাপ ও পাপের কলঙ্ক অবশিষ্ট না থাকে।
আমরা জানি, জগতের সম্পদ আহরণ ও সংরক্ষণ করতে গিয়ে আমাদের ডানে বায়ে বহু খেলা খেলতে হয়েছে, সাদা কাগজ কালো করা, আবার কালো টাকা সাদা করার বহুপ্রকার কৃচ্ছ্রতা ও কঠোর সংযম করে করে দেহের ক্ষতিসাধন হয়ে গেছে অপরিসীম। জানিনা কবে আবার ডাক পড়বে না ফেরার দেশ থেকে, তবে যেতে হবে নিশ্চয়।
প্রদীপ নিভে যাবার পূর্বে আমরা যেন নির্জীব হয়ে না পড়ি; সে প্রার্থনা রাখছি মাবুদের দরবারে, করজোড়ে, তাকিয়ে আছি কেবল তাঁরই মুখপানে। পিতরকে তুমি ভুলে যাও নি। অনুতাপানলে জ্বলে পুড়ে তিনি যখন অঙ্গার, তা ছাই হয়ে বাতাসে মিলিয়ে যাবার ঠিক পূর্ব মুহুর্তে তুমি তাকে দিগুণ ক্ষমতা দিলে পাথরের মত দৃঢ় মজবুত করলে ঈমানী শক্তিতে; দৃষ্টান্ত স্থাপন করলে সকলের জন্য, যেন তদ্রæপ দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে সকলে দাঁড়িয়ে থাকে বিপরীত ধর্মী কালো শ্রোতের বিরুদ্ধে, ভাটির টানে যাতে ভেসে চলে না যায়।
আমরা কথঞ্চিৎ জানি আমাদের পতনের কারণ; অভিশপ্ত ইবলিসের কুটচাল, অমৃত শুধা ভেবে, লুফে নেবার কারণে। তা বাহারি শুধা ভিতরে প্রবেশ করে আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার ইমারত গড়ে তুলছে; কেবল জ্বালা আর জ্বালা। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে জ্বালা, সন্তানদের মধ্যে না পাবার বেদনা, প্রত্যেকে প্রত্যেককে ভাবছে জানের দুষমন, অগ্রগতির অন্তরায়, মুক্তি পেতে চায় অরিন্দকুলের কবল থেকে, অথচ কেউ বুঝতে চায় না, দূরের শত্রæর চেয়ে ব্যক্তি নিজেই নিজের চরম শত্রæ হয়ে ওঠেছে।
চাই নিজেকে ধৌত করা, ¯œাতশুভ্র হওয়া, সম্পূর্ণ বেগুনাহ কোরবানির দ্বারা নিজেকে কোরবানগাহে তুলে দেয়া, তবেই না লাভ করা সম্ভব হবে সম্পূর্ণ এক নতুন জীবন। নিজেকে নিজের হাতে শেষ করে দেবার কুচিন্তা পরিহার করে দৃঢ় প্রত্যয় ও নিবেদন রাখতে হবে প্রভুতে, ষোলোয়ানা সমর্পীত হওয়া; তিনি তো প্রতিজ্ঞা করেছেন, দুনিয়ার কোনো অপশক্তি তাঁর হাত থেকে আমাদের ছিনিয়ে নেবার ক্ষমতা রাখে না।
কপর্দক শুণ্য অবস্থায় আমি মসিহের সাথে বাকচারিতা করতে শুরু করেছি, তেমন মুহুর্তটি যে কতটা মধুময়, একান্ত আপন মনে হতো, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্পূর্ণ অসম্ভব! প্রেরিত ইউহোন্না তেমন একটি বর্ণনা রেখে গেছেন, যা সকলের জন্য প্রণিধানযোগ্য। “তাঁদের খাওয়া শেষ হলে পর ঈসা শিমোন-পিতরকে বললেন, “ইউহোন্নার ছেলে শিমোন, ওদের মহব্বতের চেয়ে কি তুমি আমাকে বেশী মহব্বত কর” (ইউহোন্না একুশ অধ্যায় পনের পদ)।
অর্থ বিত্তের উপর নির্ভর করতে গিয়ে আমরা হারিয়ে ফেলেছি সেই মধুময় দিনগুলো, কালামপাকে যথার্থ বর্ণীত রয়েছে, কেউ দুই মনিবের সেবা একসাথে করতে পারে না (মথি ছয় অধ্যায় চব্বিশ পদ)। মানুষের পতন ঘটেছে তিনটি ক্ষেত্রে, দেহের কামনা, চোখের লোভ, আর সাংসারিক বিষয়ের প্রতি অহংকার (ইউহোন্না দুই অধ্যায় আয়াত পনের থেকে সতের)।
একটি হৃদয় যদি উক্ত বিষাক্ত প্রভাবত্রয় থেকে মুক্তিই না পেল, তবে তেমন হৃদয়ে খোদার নিবাস ও উপস্থিতি বাস্তবায়িত হবে কেমন করে? একটি ফুল দুই দেবতার পাদপ্রান্তে অঞ্জলি দেয়া কি আদৌ সম্ভব?
আমাদের জীবনের মহাসন্ধিক্ষণ উপস্থিত। হিসেব নিকেশ করে পা বাড়াতে হবে। ডানে বায়ে নজর দেয়া আদৌ চলবে না। যেমন নবী ইউসা ঘোষণা দিয়েছিলেন, আমি ও আমার পরিবার কেবল মাবুদের সেবা করে চলবো (ইউসা চব্বিশ অধ্যায় চৌদ্দ থেকে পনের পদ)।
অন্তীমলগ্নে তাই বলে যাই, অর্থ বিত্ত লোকবল তথা পার্থিব জনমানব কারো কোনো পূজায় আসবে না পাপের ফাঁদ থেকে মানুষের মুক্তি লাভ করতে। আদম বংশের কোনো নবী রাসুল পর্যন্ত তেমন বেগুনাহ ছিলেন না, যে, আমাদের স্বপক্ষে বিকল্প কোরবানি দিবে, আমাদের পাপ মোচন করার নিমিত্তে; কেবল বেগুনাহ মসিহ হলেন একমাত্র উপায়। “মনে রেখো, ইবনে-আদম সেবা পেতে আসেন নি বরং সেবা করতে এসেছেন এবং অনেক লোকের মুক্তির মূল্য হিসাবে তাদের প্রাণের পরিবর্তে নিজের প্রাণ দিতে এসেছেন।” (মথি বিশ অধ্যায় আটাশ পদ)