বোধের অগম্য তথা অবিশ^াস্য মনে হলেও বাস্তবতা হলো, প্রত্যেকটি মানুষ দেবতুল্য মর্যাদাপ্রাপ্ত; অন্তত: সৃষ্টির দিক থেকে তথা প্রেমের পারাবার মাবুদের সৃজনশীল পরিকল্পনার আলোকে বিবেচ্য হলে। কালামপাকে বিষয়টি এভাবে বর্ণীত রয়েছে:
“আমরা আমাদের মত করে এবং আমাদের সাথে মিল রেখে এখন মানুষ তৈরি করি…” (পয়দায়েশ ১ অধ্যায় ২৬ পদ)।
একথা ঘোষণা করার পরে তিনি পৃথিবীর ধূলি দিয়ে একজন মানুষ সৃষ্টি করলেন এবং তাঁর নাকে প্রাণবায়ু ফুঁকে দিলেন; অমনি হয়ে গেল জীবন্ত আদম।
খোদার হাতে প্রত্যক্ষভাবে গড়া হলো মাত্র একজন আদম, তারপর তিনি অবশ্য নারী সৃষ্টি করেছেন আদমের পাজরের হাড় দিয়ে। পরবর্তী পর্যায়ে প্রজননের মাধ্যমে সন্তান সৃষ্টি করার ব্যবস্থা তিনি করে দিয়েছেন।
মানব সভ্যতার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত অগণীত ধ্বংসাবশেষ সাগরের তলদেশে খুঁজে পাওয়া যায়; কত নগর জনপদ দেবে গেছে চোখের পলকে, সমূদ্রগামী জাহাজ ঝড়ঝঞ্জার আঘাতে সলীল সমাধি বরণ করছে, সে সকল চিহ্নাবশেষ সাখ্য বহন করে ফিরছে মানুষের নিরন্তর সাধনার বিষয়।
আমাদের অতীত ইতিহাস হলো বড়ই পতীত। রাজনীতি, ধর্মণীতি তথা বাণিজ্যের প্রয়োজনে মানুষ মানুষকে যেভাবে কচুকাটা করে চলার পথ কণ্টকমুক্ত করেছে তা সমসাময়িক যুগে তুলে ধরা কখনোই আর সম্ভব ছিল না। ঐতিহাসিক লেখক সাহিত্যিকগণ বলতে বা লিখতে গিয়ে রাজ-রাজাদের রোশানলে নিজেদের প্রাণ খুইয়েছেন তেমন নজির রয়েছে প্রচুর।
মনে রাখবেন, আমরা মানুষের বর্ণনা দিয়ে আলোচনা শুরু করেছি। মানুষ হলো খোদার অবিকল প্রতিনিধি; মানুষ দেখার মাধ্যমে খোদা দর্শণ হবে সম্ভব। তাই বলে মাটির মূর্তী দেখে নয়। খোদা যেমন রূহে বাস করেন তেমনই মানুষকে ঐশি রূহ অভিশেক দেয়া হয়েছে, যার কারণে মাটির গড়া মূর্তি পেল জীবন (পয়দায়েশ ২ অধ্যায় ৭ পদ)।
খোদা মানুষকে জীবন দিলেন, প্রজ্ঞা ধার্মিকতা ঐশি গুনাবলী সবই তাকে অর্পণ করলেন। তা প্রশ্ন জাগে, এমন দেবতুল্য মানুষটি কখন কীভাবে পতীত হলো? যেমন করে একটি সুসজ্জিত সমুদ্রগামী জাহাজ ঝড়ঝঞ্জার আঘাতে বরণ করে সলীল সমাধী, ঠিক একইভাবে লোভ লালসার কারণে তথা ইবলিসের ধোকাপূর্ণ আহŸানে খোদার হুকুম লঙ্ঘণ করে জড়িত হলো খোদাদ্রোহী কাজে, মানুষ হারিয়ে ফেললো ঐশি প্রাধিকার ও ক্ষমতা যা তাকে অভিষেক করা হয়েছিল সম্মানজনক উপহার হিসেবে।
সুসজ্জিত রণতরী সলীল সমাধির ফলে গুরুত্বহারা অবস্থায় ডুবে আছে সাগরের তলদেশে। মানুষের অবস্থা বর্তমানে এর চেয়ে অধিক কিছু বলা যাবে তা মনে হয় না। তবে মূল্যবান দ্রব্য সমগ্রী পুনরায় উদ্ধার করার জন্য মালিক যথাসাধ্য প্রচেষ্টা করে থাকেন; ঠিক একইভাবে মানবের নির্মাতা সর্বশক্তিমান প্রেমাকের মানুষকে স্বীয় ক্রোড়ে ফিরে পাবার জন্য তথা তাদের ক্লেদমুক্ত ও ¯œাতশুভ্র করার জন্য একক চুড়ান্ত ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করলেন যার মাধ্যমে গোটা বিশ^বাসি এক অপার অভাবিত সুযোগ পেল অভিশপ্ত ইবলিস ও পাপের করাল গ্রাস থেকে অবমুক্ত হবার জন্য।
মহান মাবুদের তেমন ব্যবস্থা ঐশি মেষ বেগুনাহ খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ, যিনি হলেন একমাত্র নিষ্পাপ রূহানি সন্তান, যার মধ্যে ছিল না বা নেই কোনো পতীত আদমের বীর্য। খোদা পাকরূহের আবেসে কুমারী বালিকা মরিয়মের জঠর থেকে মানবশিশু রূপে ধরাপৃষ্ঠে হলেন আবির্ভুত।
অবাধ্য গুনাহগার ব্যক্তিদের জন্যই প্রভু মসিহ জগতে নেমে এসেছেন, তিনি বলেছেন, সুস্থদের জন্য চিকিৎসকের কোনো প্রয়োজন থাকতে পারে না; বরং অসুস্থদের জন্য ডাক্তার বৈদ্যের প্রয়োজন। ভেঙ্গে যাওয়া গৃহ মেরামতের প্রয়োজন পড়ে, ক্লেদাক্ত ব্যক্তিদের জন্যই চাই ¯œান করার জল, তবে তেমন জল অবশ্যই থাকতে হবে পরিষ্কার। পাপের কোরবানির জন্য নিবেদিত মেষটিকে (প্রাণী) অবশ্যই থাকতে হবে নিখুঁত, নতুবা তা কোরবানির জন্য গ্রাহ্য হবে না। মানুষের পাপের কাফফারা পরিশোধ করার জন্য চাই তেমন এক ব্যক্তি যিনি থাকবেন সম্পূর্ণ বেগুনাহ এবং তাকে স্বত:স্ফুর্তভাবে রাজী থাকতে হবে গুনাহগারদের পক্ষে প্রায়শ্চিত্ত শোধকল্পে আত্মবলিদানের জন্য স্বেচ্ছায় রাজী থাকা।
খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ হলেন সম্পূর্ণ ঐশি বেগুনাহ মেষ যিনি বিশ^কে নিজের প্রাণের অধিক প্রেম করেছেন। বিশে^র পাপের কাফফারা শোধকল্পে তিনি নিজের প্রাণ করেছেন দান। তিনি মানবজাতিকে ঐকান্তিক প্রেম করেছেন যার তুলনা মানবের মধ্যে খুঁজে পাবার কোনো উপায় নেই; কেননা সকলে পাপ করেছে এবং নিজেদের হাত পাপে কলুষিত ও ভ্রাতার রক্তে করেছে রঞ্জিত ও রক্তাক্ত। লুটের মালামাল নিয়ে নিজেদের করেছে তৃপ্ত। মাংসিক অভিলাষে নরবলি দিয়েছে অনেকেই যা ইতিহাসের পাতায় পরিষ্কারভাবে রয়েছে প্রতিভাত।
কারিগরি শিক্ষা লাভ করতে হলে অবশ্যই টেকনিকাল স্কুলে পড়াশুনা করতে হবে, ঠিক একইভাবে যুদ্ধের কৌশল শিখতে হলে তেমন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে, লুটতরাজ খুন-খারাবী শেখার জন্য তেমন এক সর্দারের অনুসরণ করতে হবে যার হাত রয়েছে রঞ্জিত হাজার হাজার মানুষ খুন করার ফলে। যুদ্ধ বা জেহাদের আর একটি টাইটেল হতে পারে পাইকারীহারে নরহত্যা করার অভিযান।
প্রিয় ভ্রাতা, আপনাকে ভাবতে হবে, যদি সাধুসন্তের কাতারে দাড়াতে চান তবে তেমন ব্যক্তির অনুবর্তী হতে হবে যিনি গোটা জীবন মানুষকে মহব্বত করে গেছেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের রক্তের মুল্যে তাদের করেছেন ¯œাতশুভ্র গুনাহমুক্ত, পরিণত করেছেন সম্পূর্ণ নতুন সৃষ্টি হিসেবে। তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন মানুষের হারানো ঐশি প্রাধিকার যা হলো খোদার সন্তান হবার অধিকার (ইউহোন্না ১ অধ্যায় ১২ পদ)। মসিহের মাধ্যমে প্রাপ্ত অধিকার হলো খোদার সাথে পুনর্মিলনের অধিকার, যে কথা তিনি সৃষ্টিলগ্নে বলেছিলেন, “আমাদের মত করে, আমাদরে সাথে মিল রেখে” (পয়দায়েশ ১ অধ্যায় ২৬ পদ)।
মসিহের মাধ্যমে আজ আমরা ফিরে পেয়েছি ঐশি অধিকার যার ফলে আজ আমরা একই কাজ করার ক্ষমতা ও প্রাধিকার পেলাম মসিহের পক্ষে কর্ম সম্পাদন করার জন্য। যারা ঈমান তাদের মধ্যে এই চিহ্নগুলো দেখা যাবেÑ আমার নামে তারা ভূত ছাড়াবে, তারা নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে, তারা হাতে করে সাপ তুলে ধরবে, যদি তারা ভীষণ বিষাক্ত কিছু খায় তবে তাদের কোন ক্ষতি হবে না, আর তারা রোগীদের গায়ে হাত দিলে রোগীরা ভাল হবে।” (মার্ক ১৬ অধ্যায় ১৭ পদ)।
