এককালের কালাপানির দেশ বলা হতো অস্ট্রেলিয়াকে, অজ্ঞতা ও মৌলিক জ্ঞানের অভাবে বৈধ-অবৈধ পথে মানুষ পাড়ি জমা”েছ, অবৈধরা ধরা পড়ছে, আবার কারো কারো বা হচ্ছে শলীল সমাধি!
বিশে^র সবকিছু পরিবর্তনশীল, সন্দেহ নেই; তবে মানুষ নিজের সুবিধেটুকুর দিকে একটু বেশি নজর দেয়, তা আমি অন্যায় বলবোনা। হঠাৎ আপনার লুজমোশন শুরু হয়ে গেল, তা আমি কি করে টের পাব? আপনার পেটের মধ্যে বদহজমের ফল দ্রুত ত্যাগ করার জন্য আপনাকেই উঠে পড়ে দৌড়াতে হবে।
তারপরেও আমরা মানুষ, আর মানুষ হিসেবে রয়েছে পারষ্পরিক দায়িত্ব কর্তব্য, অবশ্য এদুটো পালনের মাধ্যমে জন্মলাভ করে অধিকার, উদার মন ও চরিত্রের অধিকারি। চার তরফ নজর রেখে তবে তা উপভোগ করে থাকে, রক্ষা করে শালিনতা সাম্যতা ভদ্রতা।
আমরা মানুষ, কোনো ভুলের ফল নয়, অজ্ঞ ব্যক্তিরা অনেক কিছুই বলে থাকে, তাই বলে জ্ঞানীদের পক্ষে শোভনীয় হতে পারে না যতি চিহ্ন ব্যাতিত বকবক করে চলা।
আমরা মানুষ খোদার সুরতে গড়া, যে বিষয়টি বর্তমানকার অধিকাংশ মানুষ আপত্তিবিনে স্বীকার করে থাকে। কালামপাক অধ্যয়ন করা হলে বিষয়টি অতিপরিষ্কার নিত্য¯’ায়ী ছাপ পড়বে হৃদয় ফলকে; কিতাবুল মোকাদ্দস প্রথম পুস্তক হলো পয়দায়েশ, আর প্রথম অধ্যায় ২৬ পদে বিষয়টি প্রাঞ্জলভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। খোদা নিজ মাটি বা ধুলো দিয়ে একজন, মাত্র একজন মানুষের অবয়ব সৃষ্টি করলেন। মানুষ নির্মাণ করার ক্ষেত্রে আর কোনো সাহায্য বা সহযোগীতার প্রয়োজন পড়েনি। তিনি একা নিজেই নিজের মনের মাধূরি মিশিয়ে প্রথম মানুষটিকে সৃষ্টি করলেন। তারপর তিনি তার নাশিকায় প্রাণবায়ু ফুকে দিলেন। হলো প্রজ্ঞাময় প্রেমকাতর আদমের জন্ম। খোদা হলেন মহাপ্রীত স্বীয় সুরতে আপন প্রতিনিধি সরব কর্মময় প্রজ্ঞাবান দেখতে পেয়ে; আর আদম স্বীয় ধীমান নির্মাতাকে কাছে পেয়ে নিজেকেও ভাগ্যবান নির্ভিক ব্যক্তি হিসেবে ভাবতে শুরু করলেন। তবে কোথাও যেন একটা ক্ষুত অনুভব করলেন। চাই নিজের মত এক প্রিয়জন; অন্তর্যামি মাবুদ আদমের অভাব পুরন করে দিলেন, তবে মজার বিষয় হলো, ভিনগ্রহ থেকে নয়, আদমের পঞ্জরের একটি হাড় দিয়ে খোদা তার সংগী সৃষ্টি করলেন। তাদের আর্শিবাদ করলেন, প্রজ্ঞা ধার্মিকতায় পুষ্ট করলেন এবং ক্ষমতা দিলেন প্রজনন করে স্বীয় বংশ উৎপাদন করার, গোটা বিশ্ব ভরে তোলার, আবাদ করার।
মাটির মানুষ আদম এতটা অধিকার, মান-সম্মান পেলেন যা অবাধ্য অভিশপ্ত ইবলিসের সহ্য হবার কথা নয়। মানুষের পতনের নিমিত্তে ক্ষতিকারক সবকিছুই করে চললো, শেষতক তাদের প্রলুব্ধ করে তুললো দেহের কামনা, চোখের লোভ ও সাংসারিক বিষয়ের অহংকার দিয়ে। আদম হাওয়া পরিশেষে প্রলুব্ধ হলো, স্বীয় প্রজ্ঞাবান নির্মাতাকে তু”ছজ্ঞান করে ইবলিসের কুট চালে খেল ধরা। খোদার মনোনীত অভিযাত এলাকা থেকে হলো বিতাড়িত। কথায় আছে আঘাত আঘাতের মারাত্মক অনুভূতি কেউ টের পায় না, যতোটা সে বুঝতে পারে আঘাতপ্রাপ্ত হলে পড়ে। হারানোর ব্যাথায় আকাশ বাতাশ ভরে তুললো চীৎকারে। কেবল মুখেই চিৎকার করা নয়, উচ্চ নিনাদ করার জন্য আবিষ্কার করে ফেলেছে যন্ত্র, যেন শোকতাপ কান্না ব্যাথার প্রকাশ দূর-দূরান্তের লোকজন শুনতে পারে আর সমর্থন জানাতে পারে তদ্রæপ আর্তনাদ করে। পতিত জনগোষ্ঠির নিষ্ফল কাতর ধ্বনি শুনে একদিকে হৃদয় ব্যথা জাগে আর জাগে ক্ষেদ! ঐশি দত্ত উপহার সমূহ হারিয়ে বিনিময়ে নিজেদের সাজিয়ে বসেছি খোদা ও মানুষের আজন্ম শত্রæর দান উপহার যা হলো, “জেনা, নাপাকী, লম্পটতা, মূর্তিপূজা, জাদুবিদ্যা, শত্রæতা, ঝগড়া, লোভ, রাগ, স্বার্থপরতা, অমিল, দলাদলি এবংবিধ মানুষের ঐক্য বিনাশকারী চরিত্র সমূহ যা হলো পূতপবিত্র খোদার কাছে চরম ঘৃণার বিষয়।
আমরা আজ বেমালুম ভুলে গেছি মহান স্রষ্টার মুল পরিকল্পনার কথা। অনেকে আছে যারা তাকে অনুপ্রাণিত করে বটে, তবে তেমন ক্ষেত্রে ডালের মধ্যে কঙ্কড়ও খুঁজে পাওয়া যায়। সর্বোপরি মানুষ আজ ভুগে চলছে চরমভাবে। হাসপাতালগুলোর মধ্যে প্রবেশ করার সুযোগ হলে আমার কথাটা মনে জাগবে। নঙ্গর না তুলে জাহাজ চালু দেয়, যাত্রা শুরু করে তেমন বোকা পাইলট খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তবে জাহাজের ক্ষেত্রে সমূদ্রে যাত্রা করার মতো নির্বোধ পরিচালক পাওয়া না গেলেও পূতপবিত্র খোদার পথে যাত্রা করতে এমন লোক দেখেছি যারা মানুষের সাথে অমিমাংসিত দ্বন্ধ¦ সংঘাত, যেমন ছিল তেমন অবস্থায় রেখেই, অর্থবিত্ত দিয়ে খোদার মনরঞ্জন রক্ষার জন্য পাগল!
কালামপাকে অবশ্য একটি শিক্ষা রয়েছে, খোদার নামে কোনো কিছু কোরবানি দেবার পূর্বে ভাই-বোনদের তথা ভাগিদারদের সাথে সুব্যব¯’া করে, নিজেকে সাফ-সুতরা করে তবে যেন খোদার দরবারে হাজিরা দেয়। ক্ষুদে হলেও এবাদতের পূর্বে পূণ্য¯’ান অপরিহার্য করে রাখা হয়েছে।
পরিশেষে বলতে হয়, গোটা বিশ^ আজ ধরা খাওয়া অভিশপ্ত ইবলিসের হাতে। কাঁচের পাত্র পাথরের উপর পতিত হলে অবশ্যই অযুত খন্ডে পরিণত হয়ে পড়ে, ছড়িয়ে পড়ে, হারিয়ে যায়, কারো সাথে কারো কেনো সুসম্পর্ক রাখা আর সম্ভব হয়ে ওঠে না। মানুষের দশা উক্ত খন্ডিতাংশের চেয়ে কোনো দিক দিয়ে কম বলা যাবে না। যদিও সকলেই মানু, তারপরেও থেকে যায় একটা কথা। একই গঙ্গায় স্নান করে, করতে বাধ্য, কেননা জল কোনো মানুষ সৃষ্টি করে নি, বায় খোদা সৃষ্টি করে রেখেছেন যা প্রতিটি মুহুর্তের জীবদ্দসা উক্ত বায়ু সেবনের উপর করে নির্ভর। ঐশি দান সমূহ সমভাবে ব্যবহার করার পরেও কিছু একটা অন্তরায় থেকে যায় যা কেবল বিনষ্ট হৃদয়ের মুলধন, যেমন জাহাজের নোঙ্গর, যা যতক্ষণ পর্যন্ত তোলা না হবে, উক্ত জাহাজ আর চালু করা সম্ভব হবে না।
মানুষের হৃদয়ে তেমন একটি গোপন নোঙ্গর পোতা রয়েছে সেই আদি কাল থেকে, যখন তারা খোদার হুকুমের চেয়ে অভিশপ্ত ইবলিসকে অধিক প্রেম করে বসেছিল। ওটাই হলো মানুষের কাল।
খোদা নিজেই সেই মারাত্মক বিষ নিজেই তুলে নিলেন স্বীয় সুরতে গড়া নয়নের মণিতুল্য মানুষকে স্বাধীন করার জন্য, পাপের করাল গ্রাস থেকে অবমুক্ত করা ও তাদের পুনরায় নবজাতে পরিণত করার জন্য!
আপনার ভাবতে কষ্ট হবে, খোদা কালাম কেমন করে মানবরূপ ধারণ করলেন, মানুষের পাওনা পাপের কাফফারা হৃদয় বিদারক সলিবে বহন করলেন, যাকে বলা হয় প্রেমের পরাকাষ্টা। ভালোবেসে তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, সেই মানুষ মোহান্ধ হয়ে হলো জনমেরতরে ক্ষতিগ্র¯’, তাদের এহেন মানবেতর জীবনমান দেখে স্বকরুণ দয়াবান মাবুদ আর সহ্য করতে পারলেন না; কেননা মানুষ হলো তাঁর কাছে নয়নের মণি তুল্য, স্বীয় প্রতিনিধি। মানুষকে অনন্তকালের জন্য স্নাতশুভ্র ও রক্ষা করার জন্য স্বীয় পূতপবিত্র কালাম ও পাকরূহ প্রেরণ করলেন মানব শিশুরূপে, সতিসাদ্ধি কুমারী মরিয়মের জঠরে। এই পুত্রই হলো মানবজাতির নাজাতদাতা। যতলোক আদমের ঔরষ থেকে হয়েছে জন্মপ্রাপ্ত, সকলেই আদমের সাথে হয়েছে পাইকারীহারে গুনাহগার, আর তাদের সকলের গুনাহের কাফফারা খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহ স্বীয় পূতপবিত্র রক্তের মূল্যে করলেন পরিশোধ, করলেন সকলকে নাজাত, সাথে সাথে উপঢৌকন পিতার সাথে অনন্ত জীবন (২করিš’ীয় ৫ : ১৭-২১, ইফি ২ : ৮-১০, ইউহোন্না ৫ : ২৪)