প্রেমপত্র যেমন এক ফোঁটা প্রেম বহন বা ধারণ করার ক্ষমতা রাখে না, একইভাবে ধর্মীয় গ্রন্থ আদৌ কোনো ধার্মিকতা বহন করতে পারে না।প্রেম যেমন হৃদয়ের ধন একইভাবে ধার্মিকতা ধার্মিকের নিজস্ব অফুরাণ সম্পদ। অবশ্য ধার্মিক ব্যক্তি তা জনে জনে বিতরণ করে পায় অসীম তৃপ্তি।
আলো যেমন কিরণ ছড়িয়ে অন্ধকার দূর করার জন্য থাকে বদ্ধপরিকর, একইভাবে শতভাগ ধার্মিক জন, নিজের প্রাণ পর্যন্ত বিলিয়ে দিলেন, বিশ্বের তাবৎ গুনাহগার কলঙ্কিত ব্যক্তিদের, স্নাতশুভ্র করলেন তথা পিতার সন্তান পিতার ক্রোড়ে ফিরিয়ে দেবার জন্য, নিজের প্রাণ পর্যন্ত করলেন অকাতরে দান; যা দেখে আমাদের মত স্বার্থান্ধ ক্ষুদে ব্যক্তিবর্গ লজ্জ্যা পেয়ে অধোমুখ হতে বাধ্য।
মানুষ বাঁচাতে মসিহ নিজেকে দিলেন কোরবানি, আজ জগতের নারদমুণির দল মানুষ কচুকাটা করে দাবি করছে ধার্মিকতার রাজ্য প্রতিষ্ঠা, কতোটা মাতাল হলে পর এমন নারদীয় দাবি মুখে আনতে পারে! গোটা বিশ্ব আজ পাপ গ্রস্থ, সকলে পাপ করেছে, খোদার অবাধ্য হয়ে পড়েছে; কেউই বাকী নেই, নবী-রাসুলগণ পর্যন্ত নিজেদের হাত ভ্রাতার রক্তে রাঙ্গিয়ে নিয়েছে, ধার্মিক বলে কাকে গ্রহণ করব, কাকে সসম্মানে শ্রদ্ধা-ভক্তি সনে হৃদয়ে ধারণ করবো?
তারা আগুন জ্বালালো বিশ্বের সবকিছু পুড়ে ছাড়খার করে দিলো। তাদের মর্জি হলো, একহাতে শানীত ক্ষুরধার তরবারী আর এক হাতে মনগড়া মন্ত্রণা, দু’টোর যে কোনো একটা কবুল করতে হবে, নতুবা তাৎক্ষণিক মন্ডুপাত! কেউবা বেঁচে নিয়েছে তরবারিঘাতে মৃত্যু, কেননা অন্ধকারে গোটা জীবন কালাতিপাত না করার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়।
কথায় বলে “আইয়ামে জাহেলিয়া” অর্থাৎ অন্ধকার যুগে আলোর বন্যা শুরু হয়েছিল, তা প্রশ্ন করি, সে কোন ব্যক্তি যিনি নিজে দ্যূতিময়, যিনি গোটা বিশ্বকে করে তুলবেন আলোকিত? সম্পূর্ণ বেগুনাহ ব্যক্তি জগতে মাত্র একজনই আবির্ভুত হয়েছেন অক্ষতযোনি এক কুমারীর গর্ভ থেকে, যিনি হলেন খোদার পাকরূহ ও পাককালাম, মানবরূপ ধারণ করে বিশ্বে নেমে এলেন অসহায় গুনাহগারদের নাজাত দানের জন্য, নিজের প্রাণের বিনিময়ে, তিনি কাউকে মারা তো দূরের কথা অভিশাপ পর্যন্ত দেন নি, বরং অকৃত্রিমভাবে ভালবেসে প্রত্যেকটি আদম সন্তান পাপমুক্ত করলেন স্বীয় রক্তের মূল্যে। অবশ্য তিনি খণ্ডকালের জন্য ধরাপৃষ্টে পদার্পণ করেন নি, তিনি হলেন সনাতন, অনন্তকালধরে প্রত্যেকটি মানুষের হৃদয় জুড়ে বসবাস করে চলছেন। তাঁরই উপস্থিতিতে আজ আমরা বলতে পারছি, চলতে পারছি, নিখাদ প্রেমে পরষ্পরকে জড়িয়ে ধরতে পারছি; কেবল তাঁরই মহিমা গুণকীর্তণ জনে জনে বিতরণ করা হলো আমাদের একক দায়িত্ব। তিনি কাউকে দোষারোপ করার মানসে প্রেরিত নন, বরং দোষী ব্যক্তিদের দোষমুক্ত ও গুনাহমুক্ত করার জন্যই স্বীয় প্রাণ করেছেন কোরবান।
তাঁকে দেখার মতো চোখ তিনিই আমাদের মধ্যে জুড়ে দিয়েছেন। তিনিই আমাদের কলুষিত হৃদয় পরিবর্তন করে তাঁর পুত-পবিত্র প্রেমপূর্ণ হৃদয় জুড়ে দিয়েছেন (ইহিষ্কেল ৩৬ অধ্যায় ২৬পদ)। তিনিই আমাদের মধ্যে ঐশি স্থাপন করেছেন বিধায় আমরা প্রেমের মহিমা উপলব্ধি করতে পেরেছি।
খোদার কাছে প্রেম ছাড়া উত্তম কিছু আর থাকতে পারে না। প্রেম ও মহব্বত তো একই বিষয়। মহব্বত সবসময় ধৈর্য ধরে, দয়া করে, হিংসা করে না, গর্ব করে না, অহংকার করে না, খারাপ ব্যবহার করে না, নিজের সুবিধার চেষ্টা করে না, রাগ করে না, কারও খারাপ ব্যবহারের কথা মনে রাখে না, খারাপ কিছু নিয়ে আনন্দ করে না, মহব্বত সবকিছুই সহ্য করে, সকলকেই বিশ্বাস করতে আগ্রহী সবকিছুতেই আশা রাখে আর সব অবস্থায় স্থির থাকে (১করন্থীয় ১৩ অধ্যায় ৪ থেকে ৪পদ)।