সাগর মহাসাগরে রয়েছে অগনীত মাছ, অবশ্য বাণিজ্যকভাবে মাছ চাষ করা হয়ে থাকে খালবিলে; স্বল্প আকারে।
যদিও সাগরের মাছ ধরা হয়ে থাকে সুবিশাল জালের মাধ্যমে।
মজার বিষয় হলো, সাগরের মাছগুলো ইচ্ছেমতো চরে বেড়ায়, রয়েছে স্বাধীনতা, কিন্তু ঘেরে পোষা মাছ তেমনভাবে বিচরণ করতে পারে না, আর প্রয়োজন মতো খাবারও পায় না।
ঘেরের মাছ হলো বন্দি শিবিরের মাছ। বর্তমান বিশ্ববাসি যেন ঘেরে পোষা মাছের মতো, কল্পিত আপন আপন পরিবেষ্টনিতে বাস করতে বাধ্য। যদিও সকলে একই আদমের ঔরষজাত, তথাপি তাদের উপর রয়েছে মনস্তাত্বিক বিধিবিষেধ; হাজার প্রকার জাত পাতের ভিন্নতা দিয়ে পরষ্পর থেকে পরষ্পরকে দূরীকৃত করে রাখা হয়েছে। ছোট ছোট কুন্ডলী বানিয়ে মানুষকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে তার মধ্যে। তবে তারা জীবন বাঁচানো অপরিহার্য অক্সিজেন আলাদা করতে অদ্যাবধি সক্ষম হয়ে ওঠে নি। অক্সিজেন জাতপাতের ধার ধারে না। তাছাড়া রোদ-বৃষ্টি তাও রয়ে গেছে সার্বজনীন। বর্তমানকার তুষার, অগ্নুৎপাত জাতপাতের খবর না নিয়েই যেখানে খুশি সেখান দিয়ে হচ্ছে বিষ্ফোরিত!
বলুন, প্রকৃতির উপর কি মন্তব্য করা সম্ভব? কালামের আলোকে পর্যালোচনা করা হয়ে বিষয়টি আমাদের জন্য অবশ্যই বেমানান বা আমাদের বিরুদ্ধে রায় ঠুকে দিবে।
খোদা তো মাত্র একজন মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তাকে দোয়া করেছেন, প্রজবন্ত ও বহু সংখ্যায় বৃদ্ধি লাভ করে গোটা বিশ্ব ভরে তুলতে (পয়দায়েশ ১অধ্যায় ২৮পদ)।
খোদার পরিকল্পনা, আদমের বংশধর অগনীত সংখ্যায় বাড়িয়ে তুলে গোটা বিশ্ব আবাদ করা। কেননা, মানুষ হলো অদৃশ্য খোদার দৃশ্যমান প্রতিনিধি। খোদার সার্বিক গুণাবলী তারা প্রকাশ্যে প্রকাশ করবে যে কারণে স্বীয় সুরতে মানুষ সৃষ্টি করা।
দুঃখের বিষয় হলো, ইবলিসের কুটচালে মানুষ ধরা খেল, হলো কলুষিত, খোদার পবিত্রতা হারিয়ে কুলটার তাবেদারী করতে প্রথম থেকে লেগে গেল। খোদার নিষেধ অমান্য করে চললো। ভাই ভাইকে কতল করে বসলো। সে্ই কাবিল থেকে শুরু করে অদ্যকার কাবিলরা খুন-রাহাজানির মাধ্যমে সমাজটাকে অস্থির করে চলছে! ভ্রান্ত শিক্ষা যেমন ইবলিস দিয়েছিল এদন উদ্যানে, তা আজ পর্যন্ত একই শিক্ষা জারি রেখেছে মানুষকে ভ্রান্ত পথে চালিত করার নিমিত্তে। মানুষ মানুষের স্বজন-প্রিয়জন না হয়ে কাতেলে হয়েছে পরিণত।
পাপ বাপকেও ছাড়ে না। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পাপ পুষে চলবো, ততক্ষণ পর্যন্ত তুষানলে জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হবে আজীবন।