আসাদুল্লাহ ফারাজী রচিত এই নাটকের নির্দেশনায় ছিলেন হুমায়ুন কবীর। জোতদার, তার স্ত্রী ও পোষা সী–মোরগ নিয়েই বিন্যস্ত হয়েছে নাটকটির কাহিনী। বাংলাদেশ থিয়েটারের ‘সী–মোরগ’ নাটক মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে শেষ হলো নয় দিনব্যাপী ‘ঢাকা নাট্যোৎসব’। সমাপনী সন্ধ্যায় সোমবার জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হয় নাটকটি। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র জোতদার শিকদার। তিন স্ত্রী, চার চাকর এবং তার অত্যন্ত প্রিয় একটি সী–মোরগকে নিয়ে তার সংসার। নিজের সম্পদ, ক্ষমতা ও ঐশ্বর্য নিয়ে সে এক ধরনের আত্মতৃপ্তির মধ্যে বাস করে। বিশেষ করে প্রিয় মোরগটির প্রতি তার অস্বাভাবিক রকমের টান ও অহংকার রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ শিকদারের বাবা মারা যান এবং একই সময়ে তার প্রিয় সী–মোরগটিও হারিয়ে যায়। মোরগটি খুঁজে না পেয়ে শিকদার তার চাকরদের সন্দেহ করতে থাকে।
একপর্যায়ে একটি হিন্দু বাড়ির পাশে মোরগের পালক পাওয়ার পর সে ওই বাড়ির দুই ভাইকে সন্দেহ করে এবং তাদের সম্পত্তি দখলের সুযোগ খুঁজতে থাকে। হাস্যরসের আবরণে নাটকটি মূলত লোভ, ক্ষমতার দম্ভ, সম্পত্তির প্রতি মোহ, সাম্প্রদায়িক সন্দেহ এবং মানুষের স্বার্থপর মানসিকতার ব্যঙ্গচিত্র তুলে ধরে। একটি সামান্য মোরগকে কেন্দ্র করে শিকদারের আচরণ ধীরে ধীরে তার চরিত্রের অন্ধকার দিকগুলো প্রকাশ করে। এক কথায়, ‘সী–মোরগ’ শুধু হাসির নাটক নয়–হাস্যরসের মধ্য দিয়ে জমিদারি মানসিকতা, লোভ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তীব্র ব্যঙ্গ। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন–খন্দকার শাহ আলম, রফিক উল্যাহ, মাসুদা খান, ফাতেমা চৌধুরী সুমি, আজিজ রেজা, ইমন খান, ফিরোজ খান প্রমুখ। এর আগে, সমাপনী সন্ধ্যায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। গত ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হয় এই উৎসব। নয়দিনের এই উৎসবে নয়টি নাট্যদলের নয়টি নাটক মঞ্চায়ন হয়। এছাড়া উৎসবের অংশ হিসেবে প্রতিদিন বিকাল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত জাতীয় নাট্যশালার উন্মুক্ত মঞ্চে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।


