আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সঙ্কট কাটছে না। সরকারের কেনা এলএনজিবাহী কার্গো যথাসময়ে না আসায় এই সঙ্কট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। এবার এনএলজি সঙ্কটে পড়েছে সামিট পাওয়ারের টার্মিনালটি। এলএনজির মজুদ শেষের দিকে হওয়ায় ওই টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। সহসা কার্গো না এলে সেটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে গ্যাস সরবরাহ আপাতত আর বাড়ছে না। তাতে দেশে গ্যাস বিদ্যুতের চলমান সঙ্কট অব্যাহত থাকবে। কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি নিয়ে নতুন একটি জাহাজ পৌঁছানোর পর শনিবার থেকে আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালটি চালু হয়েছে। তবে একই সময়ে দেশীয় সামিট গ্রুপের ভাসমান টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে অর্ধেকে নেমেছে। ফলে দুই টার্মিনাল থেকে গতকাল রোববার মোট ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ দুই টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এক্সিলারেট থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সামিট থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছিল। এক্সিলারেটের টার্মিনাল চালু হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে, তাতে সঙ্কটের অবসান হবে–এমন প্রত্যাশা ছিল শিল্পকারখানা, আবাসিক গ্রাহক ও পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু দুটি টার্মিনাল সচল হওয়ার পরও সরবরাহ বেড়েছে সামান্য। এতে তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সক্ষমতা অনুযায়ী দুটি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ দিতে হলে প্রতিমাসে ১১ জাহাজ এলএনজি দরকার।
এখন আসছে মাত্র ৫টি জাহাজ। সরবরাহ অর্ধেক নেমেছে। এরফলে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। কবে নাগাদ এলএনজি সরবরাহ পুরোদমে হবে তা বলা মুশকিল। আগামী ২৬–২৭ আগস্ট এলএনজিবাহী একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। সেটি আসলে সবরাহ স্বাভাবিক করা যাবে। তবে এরমধ্যে সামিটের উৎপাদন আরো কমে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি কিনে মহেশখালীতে সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালে সরবরাহ করে সরকার। টার্মিনালগুলো নিজেরা এলএনজি কিনতে পারে না। ভাসমান টার্মিনালের মূল কাজ হলো আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা। আগে টার্মিনালে ক্রুটি থাকলেও পরে তা ঠিক হয়। কিন্তু কাঙ্খিত গ্যাস না পেয়ে এখন গ্যাস সরবরাহে বিপত্তি ঘটেছে। এক্সিলারেট টার্মিনাল যখন এলএনজি সঙ্কটে ভুগছিল, তখনো সামিটের টার্মিনাল তার সক্ষমতার চেয়ে বেশি অর্থাৎ ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ দিয়েছিল। এখন টার্মিনালটি নিজেই কার্গো সঙ্কটে পড়েছে। সরকারি নির্দেশনায় সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে ২৫০ মিলিয়ন করা হয়েছে। সামিট টার্মিনাল সচল কিন্তু সাগরে এলএনজিবাহী জাহাজ নেই।
বাধ্য হয়েই সরবরাহ কমাতে হয়েছে। নতুন জাহাজ না আসা পর্যন্ত এভাবেই চলবে। অভিযোগ উঠেছে, উম্মুক্ত দরপত্র কিংবা তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে এলএনজি না কিনে সরকার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কিনতে গিয়েই এই বিপত্তি ঘটেছে। ডিপিএম পদ্ধতিতে অনুমোদিত কোনো এলএনজিবাহী জাহাজও দেশে পৌঁছেনি। এই অবস্থায় সরকার স্পট মার্কেট থেকে চড়াদামে কিনতে চাইছে, কিন্তু সাড়া মিলছে না। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটে। এরপর টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে গেলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়। সেই থেকে গ্যাস সরবরাহে একের পর এক বিপর্যয় নেমে আসছে।

